![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৭ |
ডাক
আমি চাই না আমার প্রিয়জনেরা
ছবি হয়ে যাক,
তবু অনেকেই ছবি হয়ে গেছে
–
কেউ বা সময়ে কেউ অসময়ে।
চলে যাবার আবার সময় অসময়
থাকে নাকি?
ডাক এলেই চলে যেতে হয়,
কে ডাকে কেমন সে ডাক কেউ
জানে নাকো
কিন্তু বড়ো অনিবার্য অমোঘ
সে ডাক।
সেই ডাক একদিন আমাকেও ছবি করে দেবে …
সান্ত্বনা
ক্রমশ দিনগুলো সীমিত হয়ে আসছে,,
এখন অনিবার্যভাবে মনে আসছে অনেক কিছু
–-
না-করা, না-বোঝা, ভুল করার সুদীর্ঘ
তালিকা,
সংশোধনের উপায় নেই জেনে হতে হচ্ছে যন্ত্রণার
শিকার।
এই যন্ত্রণা লাঘবের ওষুধ বাজারে পাওয়া
যায় না;
তাই ক্রমশ জর্জরিত হচ্ছি,
মুক্তি পেতে চাইছি অনভিপ্রেত মরণের
দাক্ষিণ্যে।
মৃত্যু কি মুক্তি আনে? বড়ো শক্ত প্রশ্ন
এক –-
প্রয়াতজনেরা কেউ ফিরে এসে দেয়নিকো এর
উত্তর।
তাই বোঝা ভারী হয় – গুরু থেকে আরও গুরুতর
–
ন্যুব্জ হয়ে পড়ি তার অভিঘাতে,
আর বুঝি, মৃত্তিকাচুম্বনেও মিলবে না
সদুত্তর তার।
অনিবার্য আছে মৃত্যু। একটাই সান্ত্বনা
–-
তার আশ্রয়ে গিয়ে লুপ্ত হবে সমগ্র চেতনা।
স্তুতিনিন্দা
আত্মপ্রশংসা আত্মহত্যার সমান – মহাভারতে যুধিষ্ঠিরের উক্তি –
আর আত্মপ্রশংসা শোনাও
মহাপাপ;
তাহলেও আত্মপ্রশংসা আমি
শুনতে চাই,
কেননা মৃত্যুর পর স্মরণসভায়
বলা অথবা কাগজে লেখা
কোন প্রশংসাই কারো কর্ণ
বা দৃষ্টিগোচর হয় না,
জীবৎকালে সেগুলো দেখতে
বা শুনতে পেলে
কিছুটা আত্মতৃপ্তি ঘটে
– সেটাই বা মন্দ কী!
মৃত মানুষের নাকি নিন্দা
করতে নেই--
আমি মানি না --যত খুশি
নিন্দা করো –
কেননা মৃতের কানে কোন
নিন্দা কখনই পৌছায় না;
এখন করো না –গায়ে লাগে
– মনে লাগে…

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন