কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

তপজা মিত্র

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৭


ব্রহ্মকমল

লেখো শ্রম, প্রেম, আয়ু

স্তব্ধতা, নীর, বায়ু!

লেখো গঙ্গা, নদী স্রোতোস্বিনী

আনন্দ, সরস্বতী প্রবাহিনী!

লেখো কদম্ব, জাতক মহাস্হবির

অনন্ত, মহাপদ্ম, চিরস্হির!

 

লেখো পদ্ম, গোলাপ, জুঁই

জমিন-আসমান, বিঘে দুই!

লেখো বিজয়াতে দুর্গানাম,

চরাচরে ব্যপ্ত কৈলাশধাম!

লেখো অন্তরে আদরে অভিলাষা

মাথা উঁচু, তর্জনীতে জিজ্ঞাসা!

 

লেখো ধারাপাত, লেখো আসন

লেখো আশালতা, তুলসীচরণ!

লেখো ব্রহ্মাণ্ড, বৃষে শনি

মান-যশ, কড়ি দু-আনি!

লেখো কালপুরুষ, গোরা, শাস্তি

জ্বলছে প্রদীপ, ওম স্বস্তি!

 

লেখো সুনীল, স্নিগ্ধ, বিনম্র

কারুকাজ, সূচীচিত্র, প্রণম্য!

লেখো আচমন, শুদ্ধ, শিখাবন্ধন

মঙ্গলাচরণ, ধ্যান, অবগাহন!

লেখো বাঁশি, দুধ, মাখন, দই

হৃদয়ে মিশে যমুনা অথৈ!

 

লেখো সবকিছু যা তুমি জানো,

লেখো উঁচু নিচু যা তুমি মানো!

লেখো পুণ্য পাপ মহিম

সুরেশ অচলা গৃহদাহ রক্তিম!

লেখো বড়দিদি দেবদাস দত্তা

হস্তিনাপুর পঞ্চপাণ্ডব ক্ষত্তা!

 

লেখো সূর্যোদয় ভাটপাড়া চৈতন্য

ঈশ্বর পরমেশ্বর মীরা পরমান্ন

লেখো সমুদ্র নাগ ব্রহ্ম

রাধা অক্রুর নন্দ শ্রীকাহ্ন!

লেখো সর্বজয়া হরিহর অপু

মেলায় রুক্মিণী রজনী ভেঁপু!

 

লেখো রামায়ণ, লেখো বাল্মীকী

হনুমান, বিভীষণ, সুগ্রীব, জানকী!

মহাভারত, ব্যাসদেব, মা নিষাদ!

ছায়াপথ, নীলাচল, অন্তহীন বিষাদ!

লেখো গীতাঞ্জলী রাজা অচলায়তন

বনপথ রাসপূর্ণিমা সংকীর্তন!

 

লেখো পদ্মপাতায় জলের ফোঁটা

হাতে গোলাপগন্ধ, নেই কাঁটা!

সবই লেখো জীবনের বারমাস্যায়

পসরা নিয়ে চলেছে রাধা মথুরায়!

রাধার চলন থামবে না জানি

যশোদার স্নেহ সর্বসত্য মানি!

 

সব লিখন শেষে সারাৎসারে

আঁধারে ফোটে ব্রহ্মকমল, চাঁদ অন্তরে!

 

কে বলতে পারে

কে বলতে পারে আমরা আবার

পলাশের বনে যাব না!

সেখানে গিয়ে অবিরাম জলস্রোতে পা ডুবিয়ে বসব না!

যদি ভেসে যাই যাব,

কতদূর যেতে পারি! কোন মোহনায় কে দিতে পারে বাঁধ!

 

কে বলতে পারে

আমরা কোনদিন হলুদ পাহাড়ের চূড়ায় উঠব না!

সোনাঝরা আকাশের বুকে আসন পেতে উচ্চারণ করব না সূর্য মন্ত্র।

 

কে বলতে পারে

আমরা কোনদিন ঘাসের মধ্যে

মুখ ডুবিয়ে ঘ্রাণ নেব না ভাতের!

উঠোনে পিঁড়ি পেতে বসেছে যে

তারা, যে ছায়াপথ তার সাথে গল্পে

মশগুল হয়ে কাটিয়ে দেব না একটা জীবন...

 

কে বলতে পারে

অভিসার লগ্নে যে চাঁদ  চলে গিয়েছিল জোছনার আহ্বানে

সে আবার ফিরেও আসতে পারে...

ফিরে এসে বুকের পাথর সরিয়ে

বিছিয়ে দিতে পারে জোছনা অবিরাম

অবিরাম।


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন