কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

রাজেশ গঙ্গোপাধ্যায়

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৭


এপিটাফ

একসাথেই ফিরছিল ওরা হঠাৎ পাখিটা কীভাবে যে দলছাড়া হয়ে গেল! দমকা হাওয়ার এক উল্টো স্রোতে  হঠাৎ ও টাল সামলাতে পারল না বাসায় ফেরার টানে বাকীরাও কেউ খেয়াল করল না বিকেল নির্জীব হয়ে আসছে দ্রুত যেকোন একটা গাছে আজ রাতটা কাটিয়ে নিতে হবে বউটা চিন্তা করবে বাচ্চাটাও কি বাবাকে খুঁজবে না? কী আর করা যাবে? তাছাড়া একটা তো মাত্র রাত

আগন্তুককে দেখে ওখানকার কেউই খুশী হল না জিজ্ঞেস পর্যন্ত করল নাতুমি কে? কোত্থেকে এসেছ? কেন এসেছ?

ও চুপ করে ছিলদলছুট হয়ে পড়ার উৎকন্ঠা সত্ত্বেও ওর চোখ জুড়ে নেমে আসতে চাইছিল ঘুম এ গাছের বাসিন্দারা মাত্র দুটো ডালে সার দিয়ে বসে চোখ বুজেছে ও দেখল আরও বেশ কয়েকটা ডাল ফাঁকাই পড়ে আছে এরা কি হাত পা ছড়িয়ে থাকতে জানে না! আশ্চর্য! ও নিজের জায়গা খুঁজে নিল গাছের গুঁড়ি ও সেখান থেকে বেরিয়ে আসা একটা মোটা ডালের সংযোগস্থলের খাঁজে ঘুপচিতে জড়ো হয়ে বসার এই আরাম… আঃ!

অপছন্দের একজন বলে বাকীরা কেউ ওর দিকে নজরও দেয়নি ওদের মনে হয়েছিল - একটা রাত দেখাই যাক কাল আবার এসে উপস্থিত হলে না হয় সবাই মিলে রোখা যাবেখন

যখন কেউ সেভাবে দেখার থাকে না, রাত্রির সে মায়াময় প্রহরে চাঁদটা উদোম হয়ে ওঠে উল্লাসে, লাস্যে ধুন্ধুমার বেঁধে যায় ওর রূপের বিভঙ্গেআগুন ধরে যায়সে হল্কায় নিজেই পুড়ে যেতে থাকেসে সুখের ছাই জমা হতে থাকে বিবশ মুহূর্তের আশ্রয়ে

বিকট সাপটা যখন ঘুমন্ত ওকে আগাম বুঝতে না দিয়ে প্রায় গিলেই ফেলেছে, তখন বাঁচার একটা শেষ চেষ্টায় ওর গলা দিয়ে একটা বিশ্রী আওয়াজ বেরিয়ে এল কোনক্রমে সে অচেনা আওয়াজে বাকীদের ঘুম ভেঙে গেছে এ বিপদকে ওরা তো সন্তর্পণে এড়িয়েই চলে, এর সাথে যুঝবে কীভাবে? ওরা চোখের সামনে দেখল অপছন্দের আগন্তুক কীভাবে নেই হয়ে গেলওদের কষ্ট হল, কিন্তু এছাড়া আর কিছুই করার রইল না কেন যে ওকে সাবধান করতেও ভুলে গেল ওরা! উচিত ছিল। ও-ও তো যেচে আলাপ করতে পারত ওদের সঙ্গে! বেচারা নিজের মৃত্যুর ভেতর যেন স্বেচ্ছায় ঢুকে যেতেই এসেছিল! ওদের খারাপ লাগছিল বিকট সাপটা আবার কোটরে সেঁধিয়ে গেল একটা আস্ত ঘটনা ঘটে গেল, তারপর আর কোন চিহ্ন রইল নারাত্রির ভয়ঙ্কর মুদ্রায় আঁকা রইল একটি কাহিনীর শেষ

নিজেদের পালক ওরা কখনো জমায় না। কিন্তু ছটফট করার সময় ওর শরীর থেকে খসে পড়া একটা পালক ওরা যত্ন করে রেখে দিল, যদি কেউ ওর খোঁজ নিতে আসে, তাকে দেবে


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন