![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৭ |
রেসিপি
(১)
লুকোনো গেঁড়ো
বিষণ্ণ হাসির ঝাপসা
কার্তুজ পায়ে। বন্দুক কানে
মুখের লাভা
এক রকম গেঁড়োই
মন ভোলানো
লুচিমাংস-পরোটা-তন্দুর
পেপ্সোডেন্টের আলোয়। ব্রাস বোলানো
(২)
লুটোপুটি ছুটোছুটি মেখে ময়দা
ধীরে-সুস্থে
শুকনো গলা জড়ানো
পাঠাকাটা সূর্যাস্তলাল। মেশিন
জ্যান্ত করলো সেলাই
একজন জিন। একজন আলাদিন
আর জ্বলজ্বল-আলো। জড়ো
করলো পোকাদের
(৩)
মনভরা মাগুর। পাঁকের
অহংকার কালো কপাল। সিঁদুরের রাত
ছোবল ফুরিয়ে যাওয়া। সাপ
ছুটি। শনি ও রবি
আজ বাংলার মেঘ-মাটি। পরিষ্কার
তারপর নির্ঘন্ট ডালভাত-আলুভাজা
হাড়ের গভীর। বাঁশি
দু-ফোটা জল। বিস্তীর্ণ
নেশাখোর হাট। আজও বকসিগঞ্জ
(৪)
পদ্মাপারের দিকেই যত রামনাম
আতা-বাতাবি
কাঁচালঙ্কা। আর পাতিলেবু
ভাতের আদর পরম
তরতর মই বেয়ে উঠছে অসুর
উঠোন জুড়ে ঢল অমাবস্যার
(৫)
কুলফি। একদম ঠান্ডা ঘুমন্ত
রুটির বন্দুকে ফুলকো আঁচ
হিম-বুক কুয়াশা
প্রসূতিসদন হাঁটছে শ্মশান
বেলফুল-জুঁইমালা
বৃন্ত থেকে বৃন্দাবন
বে-গুন থেকে ব্রহ্মনল
প্রজাপতি-ওড়নার সব কারবার
(৬)
যত্রতত্র যতব্রত রন্ধ্রে
ব্রহ্ম থেকে তিল বরাবরই
হয়তো ঈশ্বর
সূক্ষ্মভাগ পূর্ণ সেই রাগ
আয়না দেখে
ভয়ংকর রকম বিন্যস্ত
মেঘ আঁকছে পাখিদের
(৭)
গোলাভরা দেখার খেলাঘর
একটা পাড়া একটা মৌজা
যম বয়ে যাচ্ছে
মন্ত্রের সাথে পাক খেয়ে
ভাসমান হালকা ঝড়
ব্রহ্মতালুয় ঠাণ্ডা
বরফের মিনার ভাঙছে
অগোছালো পাহাড়
আর সমতল একা ও নগ্ন
(৮)
জীবাশ্মের আবরণ
অব্যক্ত ভ্রুণের কঙ্কাল
আট-কুঠুরি। দরজা নয়
তিলতিল কাঠামোর কাচ
কাহারের বোল
ছইয়ের ওপর লেজঝোলা

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন