প্রতিবেশী সাহিত্য
লীলাধর মন্ডলোই-এর কবিতা
(অনুবাদ : মিতা দাশ)
কবি পরিচিতিঃ কবি
লিলাধর মন্ডলোই-এর জন্ম - অক্টোবর ১৯৫৩ সালের, মধ্যপ্রদেশে। তাঁর প্রকাশিত চারটি
কবিতার সংকলন— ‘ঘর ঘর ঘুমা’, ‘রাত বিরাত’, ‘মগর এক আওয়াজ’। এছাড়া তিনটি
গদ্যগ্রন্থ— ‘ফোক টেলস অফ আন্দামান অ্যান্ড নিকোবর’, ‘মাউন্টেনস’ এবং ‘ফেয়ারিজ
ড্রিম’। সাহিত্যকৃতির জন্য তিনি সম্মানিত হয়েছেন রামবিলাস শর্মা পুরস্কার,
বাগেশ্বরী, রাজা, পুশকিন এবং নাগার্জুনা পুরস্কারে।
দৃষ্টিকোণ
তারা ফিরছে না;
হ্যাঁ, তারা তাদের পূজা - পার্বনে ফিরত
তারা তাদের উপার্জন নিয়ে ফিরত; তারা খুশি মনে ফিরত;
তাদের সন্তানদের হাতে থাকত সস্তা খেলনা;
কিন্তু তাদের উজ্জ্বল মুখের সামনে পৃথিবীটাকে কাঙাল
মনে হত;
আর তাদের ফেরায় ফুলে ফুলে রঙ ছড়াতো
আর সুগন্ধ চারগুণ বেড়ে যেত;
ঘরের পরিবেশ হয়ে উঠত ঈদ আর দিওয়ালির মতো;
তাদের ফেরায় মানুষ নিজেদের গানে মত্ত হয়ে যেত;
এখন ওরা লক্ষ লক্ষ মানুষ,
অসহায় ও ভয়াক্রান্ত মাথায় তাদের অবশিষ্ট
গৃহস্থালীর জিনিসপত্র নিয়ে সন্তানদের জীবন বাঁচানোর
স্বপ্ন দেখতে দেখতে,
গাড়ি বা ঘোড়া ছাড়াই দৌড়াচ্ছে; তারা দয়া ভিক্ষা
করে দৌড়াচ্ছে;
ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত এবং অর্থহীন অবস্থায়, মার
খেয়ে,
মোরগের মতো দাঁড়িয়ে আর উবু হয়ে, কাকুতি মিনতি করে
তারা কোনোমতে দৌড়াচ্ছে;
তারা দৌড়াচ্ছে নিজেদের জীবন বাঁচাতে;
ঘরমুখো এই ধরনের উন্মত্ত দৌড় বাড়ি ফেরা নয়,
বন্ধুরা।
সে তো কখন থেকে
চোখের পা নেই, তারা অসহায়, নিজেরা সেখানে যেতে পারে না।
যেখানে প্রিয়তমা পাথরের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে
অপেক্ষা করে
আমার চোখের সামনে ছবিগুলো ঝাপসা হয়ে আসছে।
ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যারা আছেন, তাদের চোখ একই
ভঙ্গিতে স্থির।
মনে কিছু প্রকাশ পাচ্ছে না, চোখ বলছে, যাদের সঙ্গে
তুমি পা মিলিয়ে হেঁটেছ,
তাদের দিকে পা ফেলে এগিয়ে যাও।
তারা স্পন্দনে পরিপূর্ণ, তারা সেই জায়গাগুলোর জন্য
আকুল।
যেখানে চোখ গেছে, সেখানেই পা চলে গেছে
আর আমরা যারা নিজেদের বাড়িতে আছি,
তারা এই সময়ে তাদের জন্য জরুরি ভূমিকায়
তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছি।
আমরা আবদ্ধ বৃত্ত থেকে উঠে এসেছি, আমরা প্রধান ফটকের
বাইরে আছি,
কোথাও কোনো যানবাহন নেই।
আমার পা দুটো অস্থিরতায় পূর্ণ, আমার চোখ দুটো আরও
বেশি চঞ্চল,
আর আমার হৃদয়টা হতাশায় ভরে গেছে! তিনি তো আমার সাথে
মোটেই নেই।
তিনি দীর্ঘকাল ধরে সেইসব স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন
যেখানে তাঁর উপস্থিতির আশা রয়েছে।
বিপজ্জনক
যার সঙ্গে আমি পঞ্চাশ বছর ধরে আছি,
হঠাৎ এমন কী ঘটল যে তার ভালোবাসা ঘৃণায় পরিণত হলো
আর তার ধর্মযুদ্ধ যে গ্রাসটি সবসময় তার থালায় থাকত
তা জ্বলে বিষে পরিণত হলো তার ভাষায় আর্দ্রতার বদলে
এখন জ্বলন্ত অঙ্গার
তার কাছ থেকে ন্যায়বিচারের আশা পুরোপুরি উবে গেল
তার চোখে অবজ্ঞার দৃষ্টি
আরও গভীর হলো
তার উপাসনায় নরবলি আবারও অন্তর্ভুক্ত হলো
কেউ কোনোদিন জানতে পারবে না এটা কতটা বিপজ্জনক হয়ে
উঠেছে।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন