কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৭


ভালোবাসার ইসিজি

নাইট শিফট। হাসপাতালের চেম্বার। নার্স মালবিকা আর ডাক্তার অরুণাংশু সেন। মাঝে মাঝেই ওদের এমন ডিউটি চলে।

সে সময়ে কোন পেশেন্ট ছিল না। মালবিকা হঠাৎই প্রশ্ন করে বসলো - ‘ডাক্তার, হার্টের ইসিজির মতো ভালোবাসারও কি ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম হয়?'

মালবিকার প্রশ্নে অরুণাংশু হাসলো - ‘নিশ্চয়ই হয়। কিছুদিন আগে একজন পেশেন্টের ইসিজি হয়েছিল – ভালোবাসার!’

অরুণাংশু নিজের ব্যাগ থেকে একটা ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম রিপোর্ট বের করলো। রিপোর্টটা খামে সিল করে মালবিকার হাতে গুঁজে দিল। ‘এটা কনফিডেনশিয়াল। একজন পেশেন্টের ইসিজি রিপোর্ট। রিপোর্টটা ঘরে গিয়ে দেখো। তোমার ভালোবাসার গ্রাফ মাপতে চাও? কালকেই ইন্সট্রুমেন্টে মেপে দেবো।’ মালবিকা একটু অবাক হলো!

ডিউটি শেষে ঘরে গিয়ে মালবিকা ফ্রেস হলো। হঠাৎ মনে পড়লো, তার লেডিস ব্যাগে রাখা খামটার কথা। একজন পেশেন্টের কনফিডেনশিয়াল রিপোর্ট! ভালোবাসার ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম রিপোর্ট। ডাক্তার অরুণাংশু দিয়েছেন।

খামটা খুলতেই বেরিয়ে এলো কিছুদিন আগে করা একজনের ইসিজি গ্রাফ। লম্বা লাল গ্রাফপেপারে হার্টের উঠানামার রেখাচিহ্ন। পেশেন্টের নাম ডাঃ অরুণাংশু সেন। গ্রাফের নীচে মার্কার পেনে জ্বলজ্বল করছে হাতে লেখা একটা সবুজ কমেন্ট!

মুহূর্তেই মালবিকা আলোকিত! চারপাশটা সুগন্ধে ভরে গেলো।

সবুজ কমেন্টে কী লেখা?

‘মালবিকা, আই লাভ ইউ! আমিও তোমাকেই চাই - অরুণাংশু’

 

 

 

 


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন