কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

অভিজিৎ মিত্র

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৭


ভোর

ট্রেন পাক্কা সাড়ে চারঘণ্টা লেট। ফালাকাটা থেকে ঠিক সময়েই ছেড়েছিল, কিন্তু বর্ধমান ঢোকানোর টাইম রাত সাড়ে বারোটা হলেও ভোর পাঁচটার আগে ঢুকবে না। অগত্যা সারারাত না ঘুমিয়ে চুপচাপ বসে থাকো। অলীক একে একে সবাইকে মেসেজ করতে থাকে। রকিকে বলে রেখেছিল বাইক নিয়ে স্টেশনে আসতে, ওকে বারণ করতে হবে। পার্থ ভাস্করকে বলে রেখেছিল বাড়ি ফিরে ওদের সঙ্গে বিপি নিয়ে বসবে, ওরা যেন চাট রেডি করে নিয়ে চলে আসে, ওদের বারণ করতে হবে। রাবিশ! এত বিরক্তিকর!

এবার ফলাকাটা যাওয়া অফিসের বাহানায় হলেও আসলে মীনাক্ষীর জন্য। রং কালো, কিন্তু ওই চোখ, টোল  খাওয়া হাসি আর ছিপছিপে শরীরে এমন কিছু চুম্বক আছে যা অলীককে ওর দিকে টেনে ধরে রেখেছে।

একটানে গলসি খানা, ট্রেন এবার তালিত ছেড়ে এগোচ্ছে। ঘড়িতে ভোর চারটে পঞ্চান্ন। ক্যাঁচ করে ব্রেক মেরে হঠাৎ দাঁড়াল। দূরে আলোগুলো, চশমা খুললে, সিলুয়েটের মত ঝাপসা হয়ে আসছে। পেছনে নতুন ভোরের হালকা গোলাপি।

এবার মীনাক্ষী আবদার করেছে নতুন করে শুরু করার জন্য। অনেকদিন এভাবে, লোকচোখের আড়ালে, তিন চার মাসে মাত্র একবার, দু'তিন দিনের জন্য পাশাপাশি, ওরা দুজনেই নিবিড়তা খুঁজছে। কিন্তু দুজনের জীবনেই একটা করে ক্ষত আছে, সেজন্য কেউ তাড়াহুড়ো করতে চায় না।

ভোর পাঁচটা দশ। ধীরে সুস্থে ট্রেন বর্ধমানে দাঁড়াল। অলীক কোনদিন বর্ধমানে ভোর দেখেনি। রাত দুটো আড়াইটেয় শোয়, সকাল নটার আগে ঘুম ভাঙে না। আজ প্রথমবার ও ভোর দেখছে।

রুকরুকা। ছিপছিপে পাহাড়ি ঝোরা, জলপাইগুড়ি হয়ে বয়ে চলে গেছে। এবার আদর করতে করতে অলীক মীনাক্ষীকে বারবার এই নামেই ডেকেছে। মীনাক্ষী ওকে নিজের কালো চুলের ঝর্ণার মধ্যে ডুবিয়ে জিজ্ঞেস  করেছে, রুকরুকা যদি হঠাৎ শুকিয়ে যায়?

ভোরবেলা এত নিস্তব্ধ, শুকনো পাতা মাড়ালেও মচ শব্দ পাওয়া যায়। এখানে, এই শহরে, অলীকের এক শুকনো ঝরা ক্ষত আছে, চশমা খুললে সেটা ঝাপসা হচ্ছে কি?

দেখা যাক, গোলাপবাগের টোটো পাওয়া যায় কিনা! পিঠে ব্যাগ ফেলে ও ওভারব্রিজের দিকে হাঁটা লাগায়।


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন