![]() |
| কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৭ |
নাকা চেকিং
চাকরির সুবিধার জন্য আমি আর আমার স্ত্রী অনুপমা দুজনেই এয়ারপোর্টের কাছে একটা ফ্ল্যাট কিনেছি। সপ্তাহান্তে গ্রামের বাড়ি গুপ্তিপাড়ায় যাই। অনেক দিনের শখ পূরণ করতে একটা চার চাকার গাড়ি বছর দুয়েক হলো কিনেছি। নিজেই ড্রাইভ করে যাতায়াত করি। দুদিন বাড়িতে থেকে সোমবার কলকাতার ফ্ল্যাট নামক আস্তানায় ফিরে আসি।
আগামীকাল রাজ্য বিধানসভার ভোট। আমরা গুপ্তিপাড়ারই ভোটার। তাই বাড়ি
যেতে হবে। অফিস থেকে একটু তাড়াতাড়ি বেরিয়ে দেখি আকাশ মেঘে ঢেকে গেছে। একটু পরেই বৃষ্টি নামবে। তাড়াতাড়ি
গাড়ি ড্রাইভ করে যে ফ্ল্যাটে পৌঁছাবো, তার
উপায় নেই। ভীষণ জ্যাম। অনুপমাকে
আগেই ফোন করে বলে দিয়েছিলাম রেডি হয়ে থাকতে। অনুপমা
রেডি হয়েই ছিল। নিচে গাড়িটা রেখে উপরে উঠে ঘরে ঢুকে একটু
ফ্রেশ হয়েই বেরিয়ে পড়লাম।
অনুপমা আমার জন্য একটা টিফিনবক্সে টিফিন
তৈরি করে নিয়েছিল। গাড়িতে উঠতেই শুরু হয়ে গেল তুমুল বৃষ্টি। সন্ধ্যায় রাস্তার আলোগুলো সব ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির সঙ্গে ঝড় সমানভাবে সঙ্গত করে চলল। গাড়ি খুব ধীরে চালাতে হচ্ছে। রাস্তায়
লোকজন প্রায় নেই বললেই চলে।
একেবারে সুনসান। এই আবহাওয়ায় কে-ই বা
বাইরে বের হবে! তার মধ্যে আবার রাত হয়ে আসছে।
আমাদের গাড়িটা বেলঘরিয়া হাইওয়েতে উঠে
কিছুটা যেতেই রাস্তার পাশে একটা ঝুপড়ি গাছের নিচে একটি অসহায় যুবতী হাত নেড়ে লিফ্ট
চাইছে। দেখে বেশ ভদ্রঘরের মেয়ে বলেই মনে হলো। গাড়িটা একটু স্লো করতেই অনুপমা বলল,
-- থামতে হবে না।
-- মনে হচ্ছে খুব বিপদে পড়েছে
এই ঝড়বৃষ্টির রাতে...
--- আজকাল কত কী যে হয় খবরে
দেখো না?
--- তা ঠিক। কিন্তু...
--- যা ভালো বোঝ কর!
বলে অনুপমা চুপ করে গেল। কিন্তু কখন যে গাড়িটা মেয়েটির সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়েছে খেয়াল
করিনি।
--- প্লীজ আমাকে একটু লিফ্ট দেবেন? এই ঝড়বৃষ্টিতে
ভীষণ অকওয়ার্ড সিচুয়েশনে পড়ে গেছি। একা একা
ভীষণ অসহায় বোধ করছি।
হঠাৎই অনুপমা বলল,
--- তুমি কোথায় যাবে বোন?
--- কাঁচড়াপাড়া মোড়।
--- পিছনে উঠে বোসো।
সত্যি বলতে কী অনুপমার আচরণ এবং কথা আমাকে
অবাক করে দিল। মেয়েটি পিছনের সীটে উঠে বসে দরজাটা বন্ধ
করতেই আমি গাড়ি চালাতে শুরু করলাম।
-- আপনাদের যে কী বলে ধন্যবাদ
দেব জানি না। তবে আমি এই ঝড় জলে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
-- ধন্যবাদ দেওয়ার কী আছে? মানুষ তো মানুষকে এটুকু করতেই পারে!
অনুপমা বলল।
আমাদের গাড়িটা কল্যাণী এক্সপ্রেস ওয়েতে
উঠে কিছুটা যেতেই সোদপুর মোড়ের আগেই পুলিশ ইশারায় গাড়ি আটকাল। নাকা
চেকিং চলছে। আমরা গাড়ি থামাতেই একজন অফিসার বলল,
-- নেমে পিছনের ডিকিটা খুলুন!
ছাতাটা নিয়ে নেমে পিছনের ডিকিটা খুলে
দিলাম। তখনই হুট করে গাড়ির পিছনের দরজাটা খুলে
গভীর অন্ধকার আর রাস্তার পাশের জঙ্গলে মেয়েটি উধাও হয়ে গেল।
অফিসার একজন কনস্টেবলকে নির্দেশ দিল, ফলো হার!

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন