![]() |
| কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৭ |
ম্যাজিক
বাসটা বেশ তাড়াতাড়ি আসছিল। ভেবেছিলাম আজ অনেক আগেই বাড়ি ফিরব। কিন্তু তা আর হল কই? জ্যামজটে যথারীতি আটকে গেল।
প্রত্যেক দিন
এই রাস্তায় জ্যাম সারাক্ষণ লেগেই থাকে। বাসের মধ্যে যাত্রীরা নানা আলোচনা করে। কেউ বা মুরগির
মত ঝিমোয়।
সকলের মত আমারও
বিরক্তি লাগে। অন্য যাত্রীদের মত আলোচনায় যোগ দিতে পারি না। বাধ্য হয়ে
বাসের জানলার বাইরের অন্ধকারে চাদর মুড়ি দেওয়া কয়েকটা গাছকে দেখি। তারা যেন প্রাণপণে
বাঁচার চেষ্টা করছে। বায়ুদূষণে এই শহর ভরে গেছে। কেন হবে না? এই রাস্তা দিয়ে সবসময় যানবাহন যাতায়াত
করে। একেবারে বিরামহীন। ভারী ভারী
লরি অন্য রাজ্য থেকে এই রাজ্যে আসে। তাছাড়া শহরে ঢোকার প্রধানতম এই রাস্তা। জ্যাম তো হবেই। কিছু করার
নেই।
আমার মত বেশ
কয়েকজন দূরের যাত্রী বসে রয়েছে। রাত অনেক হয়েছে। ঘড়িতে এগারোটা
বাজব বাজব করছে।
আমার পাশে একটি
ছোট্টছেলে বসে আছে। বয়স বেশি নয়। ছয় কি সাত। উসখুস করছে। বাসের জানলার
বাইরে মাথা গলিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে ব্যাপারটা কী! তারপর আমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,
বাসটা উড়ে যাছে না কেন?
ছোট ছেলেটির
এই ধরনের প্রশ্নে আমি অবাক হয়ে যাই। বলে কী ছোঁড়া! উলটে আমি প্রশ্ন করি, তোমার নাম
কি?
-পুচুন।
-এতো তোমার
ডাকনাম।
-এরকম অনেক
নাম আছে আমার।
-ভাল নাম কী?
-ব্জ্রনিনাদ
ঘোষ।
-বাঃ বেশ নাম
তো! আনকমন নাম।
-হ্যাঁ, সবাই
তাই বলে। তারপর আবার সেই এক প্রশ্ন, বাসটা উড়ে যাছে না কেন?
আমি আমতা আমতা
করে বলি, একটু অপেক্ষা করো, বাসটা ঠিক ছাড়বে...।
এখানে কেউ ম্যাজিক
জানে না?
বোধহয় না।
আমি জানি। ছেলেটি
বলার সঙ্গে সঙ্গে অমনি বাসটা ছেড়ে দিল। ছেলেটি হাততালি দিয়ে উঠল। আমার দেখাদেখি বাসের
অনেক যাত্রী হাততালি দিয়ে উঠল। আর বাসটাও ফাঁকা রাস্তা পেয়ে ঝড়ের বেগে ছুটতে শুরু করল।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন