কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

মধুবন চক্রবর্তী

 

কবি নির্মলেন্দু গুণের সাক্ষাৎকার

(সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মধুবন চক্রবর্তী)

 


স্ট্রেটকাট বলতে ভালোবাসেন ‘ভালোবাসি’। নারী, প্রেম থেকে স্বাধীনতা কবিতায় রেখেছেন গভীর ছাপ।

কলকাতা থেকে ছাপার বিবর্তন বিষয়ে জানালেন ‘উত্তরবঙ্গ সংবাদ’কে, দুই বাংলার ভালোবাসার কবি  নির্মলেন্দু গুণ।

“আমি বলছি না ভালবাসতেই হবে

আমি চাই কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক।

শুধু ঘরের ভেতর থেকে দরোজা খুলে দেওয়ার জন্য

বাইরে থেকে দরোজা খুলতে খুলতে আমি ক্লান্ত"...

বয়স তাঁর কাছে শুধুমাত্র সংখ্যা মাত্র। আজও মনের বয়সে তিনি তরুণ। মননে প্রাজ্ঞ। আত্মউপলব্ধিতে ভরপুর। তাঁর সঙ্গে কথা বলে আরও বেশি করে বুঝেছি তিনি মনে প্রাণে আজও তরুণ। বেশ কয়েকদিন ফোন করার পর, অবশেষে একদিন ফোনের ওপার থেকে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ভেসে আসলো-

"কে বলছেন"...

বললাম, কলকাতা থেকে কণ্ঠশিল্পী, টিভি প্রেজেন্টার মধুবন চক্রবর্তী। লেখালিখি করছি। আপনার একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার নিতে চাই। বললেন, “আমার সাক্ষাৎকার তো অনেক জায়গাতেই প্রকাশিত হয়েছে। সে সব পড়ে নিলেই হয়! আমি আর কী বলবো নতুন করে!" বলেছিলাম, নতুন করে যেটুকু বলার সেটুকুই না হয় বলবেন, তাতেই হবে।

সহজ ভঙ্গিতে গল্প করতে করতে অনেক কথাই বলেছিলেন। বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, অসাধারণ আত্মবিশ্বাস, সারা জীবনে অফুরন্ত অভিজ্ঞতার ভান্ডার বর্ষীয়ান প্রাজ্ঞ এই কবির। সেই ভান্ডার থেকে কিছু মনি মানিক্য তুলে আনার চেষ্টা।

প্রশ্ন করেছিলাম, কবিতা না গদ্য রচনা, কোনটাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন আপনি? তিনি বলছেন, “অনেক সময় কবিতা লেখার চেয়ে আমি গদ্য রচনায় বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করি। বিশেষ করে আমার  আত্মজৈবনিক রচনা বা ভ্রমণকথা লেখার সময়, আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে, আমি যে গদ্যটি রচনা করতে চলেছি, তা আমার কাব্য রচনার চেয়ে কোন অর্থেই কোন ঊনকর্ম নয়। কাব্যকে যদি আমার কন্যা বলে ভাবি তবে গদ্যকে পুত্রবৎ। ওরা দুজনতো আমারই সন্তান"...।

‘উত্তরবঙ্গ সংবাদ’কে তাঁর প্রেমের কবিতার বিষয় নিয়ে তিনি জানালেন, তাঁর কাছে প্রেমের কবিতা দু ভাবে ধরা দেয় পূর্বেই বলেছি। 'কাম মুখ্য প্রেমের কবিতা' অর্থাৎ কামের ভিতর দিয়ে যে প্রেম ধীরে ধীরে শরীরে মনে প্রবেশ করছে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, 'প্রেম মুখ্য কামের কবিতা' অর্থাৎ যেখানে প্রেম আগে আসে পরে আসে কাম। যেমন ‘তুমি শুধু কাছে এসে একবার উপেক্ষা দেখাও’। কিংবা এই কবিতাটি-

"হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে

মন বাড়িয়ে ছুঁই"

দুই কে আমি এক করি না

এককে করি দুই”।

এই দুটি কবিতাই প্রেম মুখ্য কামের কবিতা”। কবি বলছেন, “আবার 'শুধু তোমার জন্য' তীব্র প্রেমের কবিতা। 'নিশিকাব্য', 'আনন্দ উদ্যান' কাম মুখ্য প্রেমের কবিতা। অর্থাৎ যা অতিমাত্রায় শারীরিক। সেক্স উইদাউট কমিটমেন্ট”।

আসলে যত ধরনের প্রেমানুভূতি ও কামানুভূতি আছে সবই ধরা পড়েছে তার প্রেমের কবিতায়। দুই বাংলার জনপ্রিয় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কবি হয়ে উঠেছেন, তা কি শুধু প্রেমের কবিতার জন্য? কবি বলছেন, "না শুধু প্রেমের কবিতার জন্য নয়”।

হতে পারে প্রেমের কবিতার উপস্থাপন, বলার স্টাইল পাঠকের পছন্দ হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর কবিতায় ধরা পড়েছে রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ, সন্ত্রাসবাদ, স্বৈরাচার। তাঁর কবিতায় মূলত নারীপ্রেম, শ্রেণীসংগ্রাম এবং স্বৈরাচার বিরোধীতাই উপজীব্য হয়ে উঠেছে। ৭৮ বছরে পৌঁছেও তিনি যে কবিতার কান্ডারী, সে বলার অপেক্ষা রাখে না। কবিতায় গোলাপ ফোটানোর চেষ্টা করে চলেছেন। তিনিই বলতে পারেন নির্দ্বিধায়  কোনোও নারী যেন মাথায় হাত রেখে বলব্‌  "তোমার চোখ এত লাল কেন”…

বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও বিশেষ সময়ে লেখা অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কবিতা। তিনি বলছেন, “আমি যে সময় কাব্য রচনা করি তখন বঙ্গবন্ধুর বাঙালীর প্রতি, বাংলার প্রতি দুর্লভ ভালোবাসাকে দেখেছি। দেখেছি মানবতার প্রতি প্রেম, দেশের প্রতি অমোঘ টান। দেখেছি বঙ্গবন্ধুর প্রতি মানুষের প্রগাঢ় ভালোবাসা, আবেগ, উচ্ছাস”। সে সবই উঠে এসেছে তাঁর কবিতায়। স্বাধীনতার যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখিয়েছেন, সেই স্বপ্ন এঁকেছেন তাঁর কবিতায়। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ আন্দোলন হয়ে উঠেছে কবিতার উপজীব্য বিষয়। তিনি জানালেন, ঃবঙ্গবন্ধুকে সমর্থন করে একের পর এক কবিতা লিখতে শুরু করি, যেমন 'স্বাধীনতা এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' একটি সাড়া জাগানো কবিতা”।

দুই বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় কবি হয়ে ওঠার নেপথ্যে কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার কবিতার পরিসর বা আকৃতি বেশী চওড়া নয়। কম পরিসরে অনেক কথা বলার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় কবিতা লিখতে গেলে দীর্ঘ রচনার প্রয়োজন নেই। পাঠক অল্প সময়ের মধ্যেই আমার কবিতার গভীরে প্রবেশ করতে পারে”...

আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে ভীষণভাবে ওয়াকিবহাল প্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণ। ছাপাপদ্ধতির বিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলেন। তিনি বলছেন তাঁর বেশিরভাগ কবিতাই কম্পিউটারের কিবোর্ডে লেখা। কাগজে-কলমে তিনি লিখেছেন কম। বললেন তাঁর বেশিরভাগ লেখাই কম্পিউটারের কিবোর্ডে লেখা। "অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন, যেহেতু আমি বহু বছর ধরে লিখে চলেছি, তাই কাগজে কলমে এখনও লিখি। কিন্তু আমি প্রথম থেকেই কম্পিউটারাইজড লেখনী পদ্ধতিতে অভ্যস্ত। লাইনো টাইপে আমার প্রথম কবিতার বই প্রকাশ হয়েছে। সেই সময় বেস্ট প্রোডাকশনের দিকে তাকিয়ে আমি লাইনো টাইপের অক্ষর দিয়ে বাংলা লিখতাম, যা তৈরি করেছিলেন সত্যজিৎ রায়, যা এখন ধীরে ধীরে অবলুপ্ত"...

ছাপা পদ্ধতির বিবর্তন সম্পর্কে আপনি কী বলবেন? "বিবর্তন প্রসঙ্গে বা ছাপা পদ্ধতি এটাই বলার, যা কিছু নতুন তাই আমি গ্রহণ করি। তবে তা গ্রহণযোগ্য হতে হবে এবং তার গুণগত মান থাকতে হবে তবেই তাকে আমি স্বাগত জানাই'.. কাগজের গুরুত্ব আছে। চিরকালই থাকবে। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে কিছু পদ্ধতিকে অবলম্বন করে এগোতেই হয়। আপন গুনে সে নতুন জায়গা করে নেয়। এখন যেরকম কম্পিউটারের যুগ। তাই তার সঠিক ও সফল প্রয়োগ হওয়া উচিত...

মানুষ যেরকম প্রথমে কথা বলতে পারত না। ইশারার মাধ্যমে মনের ভাব ব্যক্ত করত। তারা ছিল গুহা মানব, তাদের বাসস্থান ছিল গুহা, দেওয়ালে নিজেদের ছবি এঁকে মনের ভাব প্রকাশ করতো। চিত্রগুলোর মধ্যে দিয়ে মনের ভাব প্রকাশিত হতো। মিশর দেশের লোকেরা এক ধরনের গাছের ডালে প্রথমে লিখতে শুরু করে। ডালটিকে বলা হত প্যাপিরাস। যা থেকে আজকের পেপার আবিষ্কার। মানুষের মনের ভাব প্রকাশ করতে তাই কাগজের ভূমিকা যেমন অস্বীকার করা যায় না, ঠিক সেরকম ভাবে কম্পিউটার বা অত্যাধুনিক প্রযুক্তিও অস্বীকার করা যায় না”। কবি বললেন, তাঁর লেখার আশিভাগ কম্পিউটারের কিবোর্ডে লেখা বা ল্যাপটপে।

প্রথম তিনিই এসএমএসের মাধ্যমে নতুন কবিতা লেখার পদ্ধতি শুরু করেছিলেন। তাঁর রচিত 'অন্তর্জাল' কাব্যগ্রন্থে আছে বিভিন্ন দেশের মহিলাদের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ স্থাপন হয়, তার বিস্তারিত বর্ণনা। বিভিন্ন দেশের ২৫ জন মহিলার সঙ্গে কথোপকথন, তাদের জীবনযাত্রা তুলে ধরেছেন এই কাব্যগ্রন্থে। বিভিন্ন দেশ সম্পর্কে সেখানকার শিল্প সংস্কৃতি কৃষ্টি সম্পর্কে জানা যায় এই কাব্যগ্রন্থ থেকে। অন্তর্জাল চারশ পৃষ্ঠার বই।

এসএমএসের মাধ্যমে বা শর্ট মেসেজের মাধ্যমে লিখলেন কবিতা 'মুঠোফোনের কাব্য', যা অনন্য উপস্থাপন।

তারপর ২০০৪ সালে ধারাবাহিক কবিতা লিখতে শুরু করলেন ল্যাপটপে। যখন ফেসবুক আসলো তখন থেকেই তিনি ধারাবাহিক কবিতা লিখতে শুরু করেন। যদিও টিকটক এই মাধ্যমটিকে তাঁর একেবারেই না পসন্দ।

আসলে আত্মপ্রকাশের জন্য যে কোনো আবিস্কৃত মাধ্যম যদি অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে, তাকে স্বাগত জানাতে ভালবাসেন কবি। লেখার ক্ষেত্রে মাইল স্টোন পদ্ধতিগুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন বরাবর। কবি সাহিত্যিকদের কল্পনা, সত্যি মনন, এবং লেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র হলো কলম। এই কলম দিয়েই তারা পাঠকের সঙ্গে কথা বলেন। গর্জে ওঠেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে শোষণের বিরুদ্ধে, কূটনীতির বিরুদ্ধে।   বাংলার বিশিষ্ট কবি নির্মলেন্দু গুণও কলমকে ব্যবহার করেছেন। ১৯৮৮ সালে ম্যাক পেইন্টের ব্যবহার করে প্রথম বইয়ের প্রচ্ছদ তৈরি করেন। 'যখন আমি বুকের পাঁজর খুলে দাঁড়াই' কাব্যগ্রন্থটির প্রথম প্রচ্ছদ তৈরি হয়েছিল কম্পিউটারের সফটওয়্যার ব্যবহার করে।

প্রশ্ন করলাম, রেডিও প্রথম কবে থেকে শোনেন? বললেন, "১৯৬০ সালে প্রথম পরিচিত হলাম রেডিও যন্ত্রটির সঙ্গে। তখন আমি স্কুলে। অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। রেডিও সেলিব্রেশন করেছি স্কুল ছুটির পর সবাই একসাথে মিলে। সেই মুগ্ধতা ভোলার নয়। তাহলে তুমি কি বলবে? একটা সময় রেডিওই ছিল একমাত্র শক্তিশালী মাধ্যম। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বেতারে প্রথম কবিতা পড়ি। রেডিও আবিস্কারের সঙ্গে জগদীশচন্দ্র বসুর সংশ্লিষ্টতার ঘটনাটি তখনই জেনেছিলাম। কবিগুরু টাকা পাঠাতে না পারায় রেডিও যন্ত্রটি জগদীশচন্দ্রের সহযোগী বিজ্ঞানী মিস্টার মার্কনি সাহেবের নামে পেটেন্ট হয়। এই গল্পটা ১৯৬০ সালেই শুনেছিলাম আমাদের বিজ্ঞান স্যারের মুখে''

কলকাতার সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এই নিবিড় সম্পর্ক ধীরে ধীরে নির্মিত হয়। ১৯৭১ সালে প্রথম  পরিচয় হয় ‘দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষের সঙ্গে। এরপর 'আনন্দবাজারে'র সঙ্গে তাঁর পরিচয়  ঘটে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে। সেই সময় গৌরকিশোর ঘোষ 'রবিবারের কড়চা' বিভাগটি দেখতেন। রবিবারে কড়চায় লিখেছেন অনেকবার। সুনীল গঙ্গোাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সঙ্গে আলাচারিতায় অনেক সময় কাটিয়েছেন। কবিতার সঙ্গে আত্মার যোগাযোগ তাঁর। কলকাতা সেই কবিতা সাহিত্যের ভান্ডার। কবিতার পথ ধরে চলা মানুষগুলোর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক স্থাপন অনেক আগে থেকেই। কবিতা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে উঠে এলো অনেকের নাম।  যেমন রাশিয়া। ভিয়েতনাম, কাম্পুচিয়া ভ্রমণে গেছিলেন কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সে এক বিরল অভিজ্ঞতা। সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায় আমাকে খুবই পছন্দ করতেন।

তিনি জানালেন, নবনীতা দেবসেন, উৎপলকুমার বসুর সঙ্গে দেখা হয়েছে বহুবার। সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, পৃথ্বীশ গঙ্গোপাধ্যায়, তারাপদ রায়, অরুণ মিত্র, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সুভাষ মুখোপাধ্যয়ের মত  কবিদের প্রত্যেকের কবিতা তাঁকে সমৃদ্ধ করেছে।

কলকাতা তাঁকে আজও টানে। জানালেন, অনেকে কবিতা লিখছেন। ভালো লিখছেন। তবে সময়ের চাহিদার সবটাই নির্ভর করে, কালের নিয়মে যে কবিতা থেকে যাবে তাই চিরকালীন।

নজরুলের জীবদ্দশায় তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতা সেভাবে কেউ পড়েছিলেন কি? সময় পাল্টালেও ভাষার ধরন বদলালেও বিদ্রোহী মানুষকে আজও উদ্বেলিত করে, তরুণ প্রজন্ম ‘বিদ্রোহী’ মনোযোগ দিয়ে পড়ে। কবিতা কবিতা হয়ে উঠছে কিনা তা সময় জানিয়ে দেবে। পাঠকের হৃদয় জিতল কিনা আগামী বলে দেবে।


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন