![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৭ |
পিথাগোরাসের সূত্রে চাঁদ
(১)
বিন্দু থেকে বিন্দুর নিকটবর্তী দূরত্ব ঘুমপাড়ানি গান শোনায়। কখনও লগ ইনে চাঁদ উঠতে দেখে জেগে ওঠে হরপ্পার কাদামাটি। একটা শিশুর হাত ধরে ছুটে যাচ্ছে পাগলাঘণ্টি। যখন চাঁদ খোলার গল্প বলি ত্রিভুজে একটা বনফুল। আমরা সবাই তাকিয়ে আছি হাততালির দিকে। কফিন আর আয়না গল্প করতে করতে কুড়িয়ে পাওয়া ট্রাফিক সিগন্যাল। লাল আলোয় গর্তের মৃত্যুরহস্য। কমলা আলো পাওয়ার অফ হওয়ার ডালপালা। সবুজ আলো ছুঁয়ে শাসকের বাধ্য ছেলেরা আইসক্রিম খায়, জনগণ হয়। জনগণ থার্মোমিটারে থাকা এক সকালের অতিথি দেব ভবঃ।
(২)
পিথাগোরাস সকালবেলা দেখি থার্মোমিটারে সবুজ মাপছেন। অথচ যতবার পিথাগোরাসকে বলি, মারলেই দেখতে পাবেন ত্রিভুজ জামাকাপড় খুলছে, পিথাগোরাসের রঙ নিয়ে রাজনীতি, বাহু নিয়ে রঙবাজি, অতিভুজের গুলি পাকানো চাঁটি। এখনও পিথাগোরাস জানেন পুকুরে একটা লম্ব টানলে ছোটবেলার ফলসা কুড়ানোর রিল দেখা যায়। তবু পিথাগোরাসকে বলি সব ফাইল একটা ফোল্ডারে না রেখে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখুন; সন্নিকট হলেই সরল হয়ে যায় না। তার চেয়ে বরং sinθ দিয়ে আপনার ঘরের দেয়ালগুলো রঙ করে নিন। জানলা দরজার পর্দাগুলো tanθ কাপড়ে বানাবেন। পর্দা তুললেই multiple tab খুলে যাবে। আপনি ঠ্যাঙ দোলাতে দোলাতে জনগণ হবেন। কাগজওয়ালা কাগজ দিয়ে যাবে। গরম চায়ের সাথে গরম খবর। মোবাইলে খবরের নোটিফিকেশন এসে গেলেও সকালবেলা কাগজ পড়ার অভ্যাসটা ছাড়তে পারেননি।
(৩)
রঙ ব্যবহার করলেই প্রতীক হয়ে যায় আজকাল। অথচ রঙের মধ্যে যে জ্যামিতিক আকার আছে, সে-দিকে কারোর খেয়াল নেই। জাফরানি হলুদের মধ্যে যে ত্রিভুজটা দাঁড়িয়ে আছে, সে সেই সুলতানি আমল থেকে ঘুষ নিয়ে আসছে। অথচ ফিরোজা নীলের মধ্যে যে বৃত্ত ছিল তার কেন্দ্রে এখনও সতীদাহ সন্ধ্যা নামে। সেই কেন্দ্র থেকে পরিধির দিকে যদি হেঁটে যান, চিতার আগুন ৩৬০ ডিগ্রির চেয়েও বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। বনে বনে দাবানল এক নতুন ত্রিভুজের জন্ম। বাহুর বদলে রয়েছে বারান্দা। এক বারান্দায় বাসি আর গরম খবর সাজানো। আরেক বারান্দায় ফুল গাছ আর পাতাবাহার জলের নকশা। অন্য বারান্দা নক্ষত্রবীথিকা।
তিন বারান্দার তিন শীর্ষবিন্দুতে তিনটি মহাবিশ্ব। প্রতিটা মহাবিশ্বে একটি করে পৃথিবী নামক গ্রহ ও একটি করে চাঁদ নামক উপগ্রহ রয়েছে।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন