কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

প্রদোষ ভট্টাচার্য

 

বড় পর্দায় হিন্দী ছবি ১৫শ পর্বঃ সেরা তিনটি ছবি

 

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমার দেখা তিনটি ‘সেরা’ হিন্দী ছবির প্রথম দুটি নিয়ে প্রবল বিরূপতাই প্রত্যাশা করি। দুটিতেই আমাদের পশ্চিমী প্রতিবেশী দেশের মানুষদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হয়েছে, এবং তাদের প্রতি ধর্ম এবং জাতিগতভিত্তিতে যে বিদ্বেষ এখন সঙ্গত কারণেই তুঙ্গে, তার বিরুদ্ধাচরণ করা হয়েছে। কিন্তু এর জন্য ছবি দুটির যে বক্তব্য তার সারবত্তা বাতিল হয়ে যায় না – মত একান্তই ব্যক্তিগত।

 

পিকে (২০১৫)


 

ভিনগ্রহ থেকে আগত মনুষ্যরূপী এক ব্যক্তি (আমির খান) প্রথমেই এক চোরের কাছে নিজের গ্রহের সঙ্গে যোগাযোগ করার ‘রিমোট’ খোয়ায়। হন্যে হয়ে রিমোটের খোঁজে সে ধাপে ধাপে মানুষের পোশাক (সে পৃথিবীতে আগত হয়েছিল নগ্ন অবস্থায়, তার গ্রহে জামাকাপড়ের চল নেই) এবং ভাষা (তার গ্রহে সবাই ‘টেলিপ্যাথি’-র মাধ্যমে কথোপকথন চালায়) গ্রহণ এবং আত্মস্থ করে। সে মানুষের কাছে শোনে যে তার বিচিত্র বিপর্যয়ের প্রতিকার আছে একমাত্র ‘ভগবানের’ কাছে। কিন্তু পৃথিবীতে তো একাধিক ‘ভগবান’ রয়েছেন, এবং প্রত্যেক ভগবানের চ্যালাদের নিয়মকানুন আলাদা, প্রায়শই পরস্পরবিরোধী। হিন্দুমন্দিরে জুতো খুলে ঢুকতে হয়, চার্চে জুতো পরে। চার্চের ভগবানকে সুরা নিবেদন করা হয়। তাই দেখে সে মদের বোতল নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে গেলে কোনরকমে কচুকাটা হওয়া থেকে রক্ষা পায়!

যেহেতু সে এসে পড়েছে ভারতবর্ষে, তাই তার সবচেয়ে বেশী আদান-প্রদান ঘটে হিন্দু ধর্মের দেবদেবীদের নিয়ে। তার বিচিত্র আচরণের ফলে যে চপেটাঘাত তার প্রাপ্য, তা থেকে সে নিজের গণ্ডদেশকে রক্ষা করে দুই গালে দেবদেবীর ছবি আটকে। কেঊ তো আর তাঁদের চড় কষাবে না!

ঘটনাচক্রে ‘পিকে’ (সবাই তার রিমোট নিয়ে আকুতি শুনে বিরক্ত হয়ে প্রশ্ন করে, “পী কে আয়া কেয়া?” এই থেকেই সে মনে করে যে মর্তবাসীর কাছে তার নাম ‘পিকে’!) আশ্রয় পায় এক রাজস্থানী ব্যান্ডমাস্টার ভৈঁরো সিং-এর (সঞ্জয় দত্ত) কাছে।

এরপর ঘুরতে ঘুরতে সে এসে হাজির হয় ‘তপস্বী মহারাজ’ নামক এক ধর্মগুরুর (সৌরভ শুক্লা) সভায় যেখানে সে দেখে যে গুরু সেই ‘রিমোট’ প্রদর্শন করছেন হিমালয় থেকে প্রাপ্ত শিবের ডমরুর অংশ বলে!

এই সমস্ত ব্যাপার সে জানায় কৌতূহলী সাংবাদিক ‘জগ্গু’ বা ‘জগৎজননী’-কে (অনুষ্কা শর্মা)। ঘটনাচক্রে, জগ্গুর পরিবার সেই তপস্বী মহারাজের ভক্ত, জগ্গু-র নামকরণও তাঁরই করা। জগ্গু এবার ভণ্ড গুরুর বিরুদ্ধাচরণে ব্যবহার করে যে টিভি চ্যানেলে সে কাজ করে, সেটি। জগ্গুর সঙ্গে ঘটা টেলিফোনের এক ‘রং নাম্বার’-এর ঘটনা থেকে পিকে তাকে বোঝায় যে ভগবানের সমস্ত দূতেরা যখন ভগবানের সঙ্গে কথা বলতে চান, তাঁদের বক্তব্য চলে যাচ্ছে ভগবানের বদলে কোনো ‘রং নাম্বারে’। তাই, যে সাধু হাত ঘুরিয়ে ভক্তের গলায় শূন্য থেকে আমদানি করা সোনার হার ঝুলিয়ে দেন, ভক্তরা প্রশ্ন করে, তিনি তাহলে তাদের কাছ থেকে অনুদান নেন কেন? তিনি দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করেন না কেন? জনৈক পাদ্রী কৃষকদের বলেন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ না করলে তারা নরকে যাবে। এক কৃষক পাল্টা প্রশ্ন তোলে, তাহলে তো তাদের খ্রিস্টান হয়েই পৃথিবীতে ভগবান পাঠাতেন। ধর্ম পরিবর্তনের প্রয়োজন কী? এক মুসলমান শিক্ষিকা মেয়েদের লেখাপড়ার বিরুদ্ধে ফতোয়া নিয়ে বলেন, যে আল্লা এত সংকীর্ণমনা হতে পারেন না! সব ‘রং নাম্বার’!

ইতিমধ্যে ভৈঁরো সিং-এর হাতে ধরা পড়ে সেই চোর যে পিকে-র ‘রিমোট’ নিয়ে পালিয়েছিল এবং যেটি সে চল্লিশ হাজার টাকার বিনিময়ে তপস্বী মহারাজকে বিক্রী করেছে। ভৈঁরো ফোনে পিকে-কে জানায় যে সে চোর কে নিয়ে দিল্লী পৌঁছচ্ছে। আক্রান্ত তপস্বী মহারাজ এদিকে জগ্গু-র চ্যানেলেই পিকে-র সঙ্গে বিতর্কে বসার প্রস্তাব দিয়েছেন। জগ্গু ঠিক করে তাঁকে বলা হবে পিকে-র রিমোট যে হিমালয় থেকে প্রাপ্ত শিবের ডমরুর অংশ নয় তা সর্বসমক্ষে স্বীকার করতে নতুবা চোরকে দিয়ে টিভিতে সত্যি কথা বলানো হবে।

কিন্তু ভৈঁরো চোর সমেত ট্রেন থেকে দিল্লীতে নামামাত্র ঘটে বোমা বিস্ফোরণ যাতে ভৈঁরো, চোর এবং অগুন্তি নিরপরাধ মানুষ মারা পড়ে। পরে এক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বিস্ফোরণের দায় নিয়ে শাসায় যে তারা তাদের ‘খোদা’র হয়ে এরকম কাজ আরও করবে।

এর পরেও পিকে মহারাজের সম্মুখীন হয়। তিনি মূলত ‘বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর’ তত্ত্ব আওড়ে পিকে-কে প্রশ্ন করেন যে এই অভাব-অনটনের দেশে মানুষের ভগাবানের ওপর বিশ্বাস এবং তজ্জনিত আশা তার ‘রং নাম্বার’-এর রূপক দিয়ে কেড়ে নিয়ে তার বিনিময়ে মানুষদের কী দিতে পারে? প্রত্যুত্তরে পিকে বলে, সেও ভগবানের ওপরেই ভরসা করেছিল। কিন্তু সে বুঝেছে যে দু-রকমের ভগবান আছেনঃ এক, যিনি সকলকে সৃষ্টি করেছেন আর দ্বিতীয়জন হলেন মহারাজ, এবং, আমি যোগ করব, সেই পাদ্রী, ফতোয়া দানকারী মোল্লা, এবং সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী, সবাই মিলে যে ‘ভগবান’-কে তৈরি করেছে। এই দ্বিতীয়জনই যাবতীয় ভেদাভেদ, হিংসার জন্য দায়ী। আর ‘রং নাম্বার’ তো স্বয়ং মহারাজ জগ্গু-র মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন কাহিনির শুরুতেই। (পিকে সকলের মনের কথা তাদের হাত চেপে ধরলেই জানতে পারে। এইভাবেই সে পৃথিবীর ভাষা – ভোজপুরী – আয়ত্ব করেছে, আর এই ভাবেই সে জগ্গু-র পূর্ব ইতিহাস জেনে ফেলেছে টিভিতে আসার আগেই!)

বেলজিয়ামে পড়াশুনা করার সময় জগ্গু-র সম্পর্ক হয়েছিল পাকিস্তানী যুবক সরফরাজ ইউসুফের (সুশান্ত সিং রাজপুত) সঙ্গে।  বাবা-মা মহারাজের কাছে গিয়ে কেঁদে পড়তে তিনি কম্পিউটার ‘চ্যাট’-এর মাধ্যমে জগ্গু-কে জানান যে ওই পাকিস্তানী যুবক শুধু জগ্গু-র শরীর ভোগ করে তারপর পালাবে। ক্ষেপে গিয়ে জগ্গু সরফরাজকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে পরদিনই বিবাহ রেজিস্ট্রি অফিসে হাজির হয়। তার আগেই আরেকটি বিদেশী মেয়ে সেখানে অপেক্ষা করছিল, এবং তার নামে ডাক পড়তে সে তার পোষা বেড়ালটি জগ্গু-র কোলে দিয়ে এগিয়ে যায়। হঠাৎ একটি অল্পবয়সের ছেলে এসে জগ্গু-র হাতে একটি চিঠি দেয়। তাতে ইংরেজীতে লেখা ছিল, “বিয়ে শুধু দুজন ব্যক্তির হয় না, হয় দুই পরিবারের। আমাদের পরিবার আমাদের বিয়ে মেনে নেবে না। আমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা কোরো না। দুঃখিত।” চরম মানসিক আঘাত পেয়ে জগ্গু তৎক্ষণাৎ স্থানত্যাগ করে।

মহারাজ এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে জগ্গু-কে ব্যঙ্গের সঙ্গে সর্বসমক্ষে প্রশ্ন করেন, “আমি যা বলেছিলাম ঠিক তাইই ঘটেছিল কি না?”

পিকে এবার একের পর এক প্রশ্ন করে জগ্গু-কে।

১। যে ছেলেটি তোমায় চিঠিটা দেয়, তুমি তাকে চিনতে, বা সে তোমায় চিনতো?

উত্তরঃ না।

২। চিঠিতে কি সরফরাজ নিজের নাম লিখেছিল?

উত্তরঃ না।

৩। তোমার আগে যে মেয়েটি কনে সেজে এসেছিল, সে তোমার কোলে নিজের বেড়ালটা ধরিয়ে দেয় নি?

উত্তরঃ হ্যাঁ।

৪। তাহলে চিঠিটা তো সেই মেয়েকেই লেখা হয়ে থাকতে পারতো, নয় কি?

উত্তরঃ কোন উত্তর নেই।

৫। হয়তো মেয়েটির হবু বর ওই চিঠি লিখে ছেলেটিকে বলেছিল, “ভেতরে বেড়াল নিয়ে যে মেয়ে বসে আছে, তাকে এটা দিয়ে এসো?

উত্তরঃ হ্যাঁ, হতে পারে।

৬। চিঠি পড়ে তুমি সরাসরি সরফরাজকে ফোন করলে না কেন?

এর উত্তর পিকে নিজে দেয়ঃ “কারণ মহারাজ তোমার মাথায় ‘রং নাম্বার’ ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন এই বলে যে মুসলমান ছেলে তোমার সঙ্গে প্রতারণা করবেই।”

মহারাজ, “এসব কী কুকুর-বেড়ালের গল্প হচ্ছে” বলে ব্যাপারটা উড়িয়ে দেবার চেষ্টা করলে আসরে নামেন জগ্গু-র কর্মকর্তা (বোমান ইরানী), মহারাজের সমালোচনা করার অপরাধে এককালে যাঁর ভক্তরা কর্তার নিতম্বে ত্রিশূলের খোঁচার দাগ করে দিয়েছিল। আসর থেকেই বেলজিয়ামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আর সেখান থেকে বেলজিয়ামে অবস্থিত পাকিস্তানের দূতাবাসে ফোন লাগানো হয়। দ্বিতীয় স্থানে সরফরাজের নাম করতেই সহৃদয় মহিলা কর্মচারী জগ্গু-কে জানান যে সরফরাজ নিয়ম করে রোজ সকাল ন’টায় দূতাবাসে তার লাহোরের বাড়ী থেকে ফোন করে জানতে চায় তার জন্য দিল্লী থেকে জগ্গু-র ফোন এসেছে কি না! এই কর্মচারীই এবার লাহোরে ফোন করেন। কম্পিত কণ্ঠে জগ্গু সরফরাজকে প্রশ্ন করে, “তুমি আমাকে ফোন করলে না কেন বিয়ের দিন অফিসে আমি নেই দেখে?” সরফরাজ জবাবে বলে যে, যে চিঠি পড়ে জগ্গু তাঁকে ভুল বুঝেছিল, অফিসে সেই চিঠিই সরফরাজ কুড়িয়ে পায়। নামহীন সেই চিঠিতে তো লেখাই ছিল যোগাযোগের চেষ্টা না করতে!

মহারাজ পিকের সেই রিমোট হিমালয় থেকে প্রাপ্ত মহাদেবের ডমরুর অংশ বলে আসরে এনেছিলেন। এবার তাঁর এককালীন ভক্ত, জগ্গু-র বাবা (পরীক্ষিৎ সাহনি) সেটি মহারাজের হাত থেকে নিয়ে পিকে-র হাতে তুলে দেন।

পরের দৃশ্য সেই ধূধূ অঞ্চলে যেখানে পিকে প্রথম পৃথিবীতে এসে নেমেছিল। সঙ্গে তার দুটি টিনের সুটকেস ভর্তি ব্যাটারী আর ক্যাসেট। সেই চোরের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ক্যাসেট-প্লেয়ারে – যেটি সারা ছবি ধরে পিকে বয়ে বেড়িয়েছে – সে নাকি পৃথিবীর বিভিন্ন শব্দ – মানুষের কথা, গাড়িঘোড়ার আওয়াজ, জীবজন্তুর ডাক – শুনবে। জগ্গু আবিষ্কার করে যে আসলে ক্যাসেটের পর ক্যাসেট জুড়ে আছে শুধু জগ্গু-র কন্ঠস্বর! পিকে যে তাকে ভালোবেসে ফেলেছিল!

আকাশযান নেমে আসে, পিকে রওনা দেয় নিজের গ্রহে।

‘পিকে’ শীর্ষক বইয়ে এই সব লিপিবদ্ধ করে জগ্গু। সে বলে, পিকে মানুষের কাছ থেকে শিখলো মিথ্যা কী এবং কিভাবে তা বলতে হয়। আর সে মানুষকে শিখিয়ে গেল ভালোবাসতে। এছাড়া সে জগ্গু-কে দিয়ে গেল দুজনের ভালোবাসার উপহারঃ সরফরাজের আর জগ্গু-র বাবার, যিনি কিছু সময়ের জন্য, মহারাজের ‘রং নাম্বারের’ কল্যাণে মেয়েকে ভুল বুঝে তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেছিলেন।

একবছর পর! এবার একাধিক সঙ্গীসাথী নিয়ে আবার পৃথিবীর মাটিতে পিকে। সে তার সহযোগীদের সাবধান করছে যে সর্বসমক্ষে কারুর প্রতি কোন ভালোবাসা ব্যক্ত করা – বিশেষ করে যাকে আমরা বলি ‘পাবলিক ডিসপ্লে অব অ্যাফেকশান’ – এই গ্রহে নিষিদ্ধ। এসব করতে হবে বন্ধ দরজার আড়ালে। অবশ্য সর্বসমক্ষে মারদাঙ্গা করা সম্পূর্ণ স্বীকৃত! আর এবার সবাই মিলে গবেষণা করবে মানুষের ভাষার বহিঃপ্রকাশ আর অন্তর্নিহিত অর্থের যে ফারাক তা নিয়ে। “আমি চিকেন/মাছ ভালোবাসি” মানে এই নয় যে বক্তা পশুপ্রেমী! মানে সে উক্ত দুই জীবকে দুপুরের খাদ্য হিসেবে ভক্ষণ করবে!

শেষ কথাঃ যদি কেউ বলে, “এসো, তোমাকে ভগবানের কাছে নিয়ে যাই,” তৎক্ষণাৎ উল্টো দিকে দৌড় মারবে!

ক্যানাডা-নিবাসী বন্ধু রিচার্ড শ্রাইক – যিনি moriareviews.com নামক সাইটে হরর, ফ্যান্টাসি এবং কল্পবিজ্ঞান ঘরানার ছবি নিয়ে সমালোচনা লেখেন – আমার অনুরোধে পিকে দেখে ছবিটির এক মনোজ্ঞ বিশ্লেষণ লিখেছেন। তার থেকে কিছু নির্বাচিত মন্তব্য এখানে উদ্ধৃত করতে চাই।

রিচার্ড বলেছেন যে সম্ভবত একমাত্র ভারতের মতো দেশেই – যেখানে তাঁর হিসেবে ছ’টি স্বীকৃত ধর্ম আছে, এবং যেখানে ধর্মগত প্রভেদ অনেক সময় হিংসার জন্ম দেয় – পিকে-র মতো ছবি হওয়া সম্ভব। আমেরিকাতে এর সমতুল্য হয়তো হবে ‘ব্যাপ্টিস্ট’, ক্যাথলিক এবং সম্ভবত ‘মরমন’-দের মধ্যেকার প্রভেদ নিয়ে ছবি করা।

ভগবানের তথাকথিত মুখপাত্রদের ভণ্ডামি যেভাবে ‘রং নাম্বার’-এর রূপক দিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে, এবং যেভাবে একাধিক দৃশ্যে পিকে মহারাজের পোশাকের ভিত্তিতে মানুষের ওপর ধর্মের ‘লেবেল’ শাঁটা, উক্ত ব্যক্তির প্রকট ধর্মবিদ্বেষ যে সাহসের সঙ্গে আক্রমণ করা হয়েছে তার তুলনা পশ্চিমী ছবিতেও বিরল। আর পিকের দেশভ্রমণের মাধ্যমে ভারতের ধর্মীয় বৈচিত্র যেভাবে চিত্রিত হয়েছে তাও পাশ্চাত্যের ছবিতে দুষ্প্রাপ্য।

ছবিটি মুক্তি পাবার পর কিছু হিন্দুধর্মের ধ্বজাধারীরা, ঠিক তপস্বী মহারাজের মতো, পিকে-র ভূমিকায় অভিনয়কারী আমির খানের ধর্ম নিয়ে বিদ্রূপ করে বলেছিলেন, নিজের মুসলমান ধর্মকে এইভাবে সমালোচনা করার সাহস সে দেখাতে পারবে? উত্তরে বলি, ছবির কাহিনিকার আমির বা অন্য কোন ‘খান’ নন, হচ্ছেন পরিচালক রাজকুমার হিরানী এবং অভিজাত জোশী। আর ভারতে যে ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, খুব যুক্তিসঙ্গত ভাবেই তাদের ধর্মের ব্যবসাদারদের ভুলত্রুটি তুলে ধরা হয়েছে। মসজিদে ঢুকতে গিয়ে পিকে-র হাল, আর ট্রেনের ওপর সন্ত্রাসবাদী হামলা দেখিয়ে মুসলিম মৌলবাদকেও রেয়াত করা হয়নি। আর মুসলিম ধর্মের বিস্তৃত সমালোচনা দেখতে হলে পাকিস্তানী ছবি খুদা কে লিয়ে দেখুন!

সবশেষে, সবাইকে অনুরোধ করব রিচার্ডের সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ পড়ে দেখতেঃ

https://www.moriareviews.com/sciencefiction/pk-2014.htm

 


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন