কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

বিমল গঙ্গোপাধ্যায়

 

সমকালীন ছোটগল্প


হাতের ওপর হাত রাখা খুব সহজ নয়

ভূতনাথের প্রায় বত্রিশ বসন্ত পার হল। তথ্য প্রযুক্তির ঐতিহ্য মাফিক -  তার দিন বেলা সাড়ে এগারোটার আগে শুরু হয় না। শুতে যায় রাত দেড়টায়। কিন্তু আজ অন্যথা হয়েছে, আজ তার বিয়ে। ভোর চারটেতে একপাল দিদি বৌদি - শিশুপাল সুলভ ব্যবহারে তার ঘুমের গলা কেটে উঠিয়েছে। কিছু বোঝার আগেই মুখে ... না , না গরম চা নয় ... ঠাণ্ডা দই ঠুসে হাহা-হিহিতে মেতেছে। চাকরিতে চাপ, দু আঙ্গুলে দুনিয়া, সেলফিতে কুলপি। হয়ত সে কারণেই নবীন প্রজন্ম সামাজিক 'বোরিং' অনুষ্ঠানে যায় না। তাই ভূতনাথের ভুলে গেছে 'দধি কর্মা' ব্যাপারটি। এখন এই যদি ফিতে কাটা হয় -  ভূতনাথ ভাবছে সবাই যে গাছে তুলে বলল  'অচ্ছে দিন আনেয়ালা হৈ' তা সত্যি না কি ভোটের ইস্তাহার!

প্রথম চীন যুদ্ধের সময় যারা যারা জন্মেছেন - তাদের  একথাই বলা হত যে - ছেলে মেয়ের বিয়ে দেওয়া মা বাবার কর্তব্য। সে সব কথা এখন 'নাথবতী অনাথবৎ' এক কোণায় পড়ে থাকে। কিন্তু ভূতনাথ - 'বিলিভ ইট অর নট' -  সঙ্গিনী বাছাইয়ের ভার দিয়েছে মা - (বাবা) র উপর। ভাঙ্গার ভয়ে মা-বাবারা আজকাল জোড় বানাতে জোর পান না। কিন্তু এখানে কটি ভালো পয়েন্ট আছে। পাত্রীর বাপের বাড়ি এই শহরেই। ছোটো খাটো ঝগড়ায় সর্ট ব্রেক নাও, আমাকে আমার মত থাকতে দাও। অন্য রাজ্যে থাকলে - প্লেন ভাড়া আর দিন চারেক ছুটি -  জমাতে জমাতে ঝগড়া অনেক বড় হয়ে যায়। পেশা একই রকম প্রাণঘাতী। 'আমায় সময় দেয় না' কেউ কাউকে বলতে পাবে না। দুজনেই 'লাভ অল'। পাঁচদিন কথা বলার সময় নেই। সপ্তাহান্তে দুপুর বারোটা পর্যন্ত 'ভোঁস ভোঁস'। ঘুম ভাঙলে কোনো রকমে 'ব্রাশ এন্ড ব্রাঞ্চ' সেরে মোবাইলে হামলে পড়া। রাতে বাইরে খাওয়া। খুঁত খুঁজতে আর ক্ষত করতে' বক্ত তো লগতা হৈ'। সিমলা চুক্তিতে থাকতে থাকতে একটা ট্যাঁ ট্যাঁ এলে আর দেখে কে? 'ন্যাগিং' এ 'ন্যাপি'। দুজনের ট্যাঁ ফোঁ বন্ধ অন্তত বছর দশেক। আর কোম্পানি দায়ী নয়। তাই ভূতনাথের মা -বাবা বেজায় খুশি। বাবা এন্তার পান্তুয়া খাচ্ছেন, মা দেখেও দেখছেন না। আবার মা যা খুশী আনাচ্ছেন অনলাইনে, বাবা উদার ভাবে 'ইধার কা মাল উধার' করে দিচ্ছেন। বাড়িটি যেন রাবড়ি গ্রাম হয়ে রয়েছে।

বেলা দশটা নাগাদ একটু ছানা কাটল। হবু বৌয়ের অতি বিনয়ী কাকা (ইনি একজন মেজ সেজো গোছের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব) এসে দাঁড়ালেন বৈঠকখানায়। শাস্ত্রে (!) এখনো বারণ তাই ভূতনাথ লুকিয়ে লুচি আর সাদা আলুর তরকারী খেয়ে, বোঁদে খাবে কি না ভাবছিল। আচমকা কাকার উদয়ে ঢেঁকুর তুলে ফেলল। কাকা খেয়াল করলেন না - মধুর হাসি মাখিয়ে জিজ্ঞেস করলেন 'বাবা কোথায়'?

বাবা অন্যঘরে নিজের বিয়ের গল্প শোনাচ্ছিলেন। বলছেন কম - হাসছেন বেশী। ততক্ষণে সবে তার জুতো লোকানোর পর্ব শুরু হয়েছে - তাড়া খেয়ে হন্তদন্ত হয়ে এসে দাঁড়ালেন।  হতে যাচ্ছেন খুড়শ্বশুর হাত জোড় করে- হাসি তেমনি মধুর রেখে  বললেন -

- ' বেয়াইমশাই খবর সব ভালো তো? হয়েছে কি আমাদের পণ্ডিত মশাই হটাত বললেন বেলা বারোটার পরে কি যেন একটা ... নিকুম্ভিলা না কাল সর্প যোগ - পড়ে যাচ্ছে। তাই বাবাজীবনকে আমি এখনই নিয়ে যাচ্ছি। একটা বাটিতে অল্প হলুদ দিয়ে দিন। আমরাই গায়ে হলুদ করিয়ে নেবো। একটু তাড়াতাড়ি - মানে বুঝছেন তো'।

বাবা কিছুই বুঝলেন না। কিন্তু বোঝার আগেই শাকের আঁটির মত ভূতনাথকে বারমুডা গেঞ্জিতেই প্রায় অপহরণ করে কাকা একটু হলুদ ট্যাক্সিতে তুললেন। তার নিজের - দেখলেই যাকে ভয় হয় - সেই গ্রাম্ভারি কালো কাঁচ, কালো গাড়িটি দেখা গেল না কোথাও। গোলমালের ঢেউ অন্দর মহলে পৌছাতে ভূতনাথের মা এসে দেখেন তার স্বামী হাঁ করে দাঁড়িয়ে। কে, কি, কেন, কবে প্রশ্নের বিনিময়ে তিনি বিড়বিড় করলেন -

- ' সম্বন্ধ করা পাত্রকে কিডন্যাপ করা? হ্যাঁগো আমরা কি কিছু চেয়েছিলাম'?

এদিকে ট্যাক্সির ইঞ্জিন চালুই ছিল। মুহূর্তেই কালো ধোঁয়া ছেড়ে হাওয়া। ভূতনাথের দুপাশে আরো দুজন  শক্তিমান  বিনয়ী মানুষ হাসি মুখে বসে, কাকা সামনে। প্রায় দুঘণ্টা। 'হ্যাঁ, হুম ' ছাড়া কোনো কথা নেই। চেনা রাস্তাটিও দেড় ঘণ্টা পরে অচেনা হয়ে গেল। একটি বড় বাড়ির পিছন দিকের গেটে দাঁড়াল ট্যাক্সি। কাকার মুখে হাসি ফিরেছে, বললেন -

- 'নামো হে বাবাজীবন। সন্ধ্যে পর্যন্ত এখানেই থাকতে হবে। একটু অসুবিধে হবে কিন্তু কি আর করা ... বুঝলে তো'?

নামে ভূতনাথ হলে কি হবে - এ খেলা বোঝা তো শিবেরও অসাধ্য। তবু নেমে ঢুকল বাড়িটিতে। যেন বিধায়ক যাচ্ছেন জনসংযোগে - এই ভাবে তিনজন তাকে ঘিরে তুলল লিফটে। সোজা সাত তলায় নিয়ে জমা করল একটি কেবিনে।

হ্যাঁ, কেবিন। নার্সিং-হোমের। ব্যবস্থা দেখলে অবশ্য তিন / চার তারা হোটেল বলে ভ্রম হয়। দেয়ালে লটকানো নল-কল গুলো না থাকলে অসুবিধে ছিল না। ভ্যাবাচ্যাকা  ভূতনাথ বলল -

-  'আমার কি হয়েছে' ?

= ' আরে কিছু না।  বলছি তোমায় বুঝিয়ে। হয়েছে কি এই আমাদের পাড়ার এক ছোকরা ... পুরো পরিবারই বদমায়েশির বদনা ... পুঁচকি মানে যে তোমার বৌ হবে আর কি ... তাকে বিয়ে করতে চায়। ছেলের চেয়ে ছেলের জুলফি বড় -  এত সাহস? কানাঘুষোয় শুনলাম বিকেলে বরকে রাস্তাতেই তুলে নেবে। বোঝো একবার! এরা তোলা নেওয়া আর তুলে নেওয়া - একই ভেবেছে। দেখছি। তবে এখন ধীরে চল নীতি... তাই তোমাকে ... হে হে হে ... ভয় পেয়েছ না কি হে ? আরে বিয়ে কি সহজ কথা। তাছাড়া আমি তো আছি'।

ভূতনাথের গলার কাছে সেই সকাল থেকে দ্বিতীয় ঢেঁকুর আটকে আছে। গলা শুকনো। মনে মনে বলল- ' সেখানেই তো ভয়'। আর প্রকাশ্যে বলল

- ' না... মানে... যদি পুঁচকি ওকেই বিয়ে করতে চায় তবে আমি না হয় ... দুজনেই সাবালক তো'?

মূঢ় কথায় কাকা একটু  গুঢ় হাসি হাসলেন। কথা নয় - মাছি তাড়ানোর মত হাতের ভঙ্গী। অর্থ বুঝতে অসুবিধে হল না। তারপর বললেন -

 - পঞ্চা - একটু হলুদ এর গায়ে ছুঁইয়ে নিয়ে চল। গায়ে হলুদে দেরি হলে আবার পুঁচকির সাজতে দেরি হয়ে যাবে। মেক আপ আর্টিস্ট কোমল কারক বসে বসে চা শিঙ্গাড়া সাঁটছে আর খুব গাল মন্দ করছে। স্টুপিডটাকে স্টুডিয়ো থেকে উঠিয়ে এনেছি কি না। বলে উত্তম কুমারের দাড়ি কামিয়েছি। সেই দোহাই দিয়েই দোহাত্তা কামাচ্ছে ইদানীং। যত্তসব। কাজ মিটুক একবার ...। যাই বলিস মাথা খাটাতে হয়েছে কিন্তু। নার্সিং হোম হল সেফেস্ট। এখানে  বর খোঁজা কারো মগজে আসবে না।সকালে দেখি দুটো বেপাড়ার হুমদো বটগাছের নিচে বসে চা খাচ্ছে আর আমার কালো গাড়ি ওয়াচ করছে। মরগে যা। দেখেই আমি পিছনের দরজা দিয়ে  ট্যাক্সিতে ... হুঁ হুঁ বাবা। বিয়েটা একবার হয়ে যাক তারপর ওই জুলফিওয়ালার কুলপি জমিয়ে ছাড়বো। তুমি বাবাজীবন এ ঘর থেকে বেরিও না আমরা না আসা পর্যন্ত। যা লাগবে বেল মারলেই লোক এসে দিয়ে যাবে। চলি এখন। একটু অসুবিধে ... তা বিয়ের পরে কত কিছু মানাতে হয় - ধরো তুমি আগেই শুরু করে দিলে ...বুঝলে তো... হে হে হে '।

- ' খুব বুঝেছি হে হে হে '।ভূতনাথ বলল মনে মনে। মোবাইল ঘরে আছে। এখানে ফোন নেই, থাকেও না কোনো দিন। অর্থাৎ এই তিন মূর্তি ছাড়া কেউ জানে না সে কোথায়। তিন লাইনের কথায় কাকা তো তিন ঘন্টার সিনেমা বলে দিল। দু তিনবার পুঁচকির সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে ... তেমন কিছু তো... । কি গেরো! না হয় করতে বিয়ে জুলফিওয়ালাকে , হত তোমার ভুঁড়ো শ্বশুর।  হে বাবা জগোন্নাথো... পুরীতে পাঁচশো, আবার দীঘায় পাঁচশো দক্ষিণা দেবো -বাঁচাও।  ওদিকে বাবার নিশ্চয়ই সুগার ফল করল, মায়ের কি অবস্থা কে জানে। যমদূত গুলো গেল বোধহয়। একবার বেরিয়ে দেখি'।

দরজা খুলতেই একজন দশাসই মহিলা 'কোভিড রোগী, কোভিড রোগী, পালাতে না পারে, পাকড়ো পাকড়ো' করে চেঁচাতে লাগল। সঙ্গে সঙ্গে দু দিক থেকে দুজন -  ইয়া বড় বড় স্যানিটাইজারের বোতল নিয়ে তেড়ে এল। ভোঁ-চাক্কা ভূতনাথ বিনা চাক্কাতেই আশি স্পিডে কেবিনে ফেরত। মানতে হবে কাকার বুদ্ধি। আরো কেউ অপহরণ করতে এলে কোভিড শুনেই পালাবে। এবার একজন গোলাপি পোশাক পরা মহিলা এসে হেসে বলল -

- 'কোথায় যাচ্ছেন স্যার? আপনার একলক্ষ উনত্রিশ হাজার তিনশো পঁয়ষট্টি টাকার বিল প্রায় রেডি। আপনি ম্যাকেঞ্জি এন্ড মাদাগাস্কার কোম্পানিতে আছেন তো'?

= 'হ্যাঁ... কিন্তু ... কিন্তু আমার তো কোনো রোগ হয়নি'?

- 'ছেলেমানুষ। বিলের সঙ্গে রোগের কি সম্পর্ক? তাছাড়া বিয়েও তো হয়নি এখনও। হলে কি হয় কে জানে। বিলের চিন্তা টিপিএ র-  আপনি বরং কফি খান। না কি চা? আমাদের কাছে মোকাচিনো আর দার্জিলিং দুই আছে। লাতে ও খেতে পারেন'।

= ' লাত মানে লাথি'?

- 'লাথি না কফি। আনি'?

কোনো রকমে হাত নেড়ে ভূতনাথ ধবধবে  সাদা চাদর পাতা বিছানায় গা এলিয়ে দিল। মুম্বাইতে একজন ভদ্রমহিলা ছোট-হাজরিতে পঞ্চাশ হাজারি চা খান। স্থানীয় চিত্র-তারকারা পুজো প্যান্ডেলে আসতে ও হাসতে লাখ খানেক নিয়ে থাকেন।  এখানে হাসি মাখানো চায়ের দাম তাহলে কত হল? কত রকমের হাসিই দেখল আজ। সকালে বৌদিদের, তারপর বাবার, তারপর পুঁচকির কাকার, এখন এই সেবিকার। এত হাসি আছে জগতে তোমার বঞ্চিলে শুধু আমারে , কে যেন লিখেছেন? হ্যাঁ। অতুলপ্রসাদ। তারও বোধহয় বিয়েতে গণ্ডগোল ছিল। মরুকগে। কিছুই যখন করার নেই সকালের বাকি ঘুমটাই না হয় সেরে নেওয়া যাক।

খুব চিন্তিত মানুষেরও ঘুম আসে, তবে নাক ডাকে না। ভূতনাথও চুপচাপ ঘুমাল। এবং দুপুর দুটো নাগাদ-

নাড়া খেয়ে জাগল না কি জেগেই নাড়া খেলো। সামনে গোলাপি পোশাকে আরেক মূর্তিমান, গালে বড় জুলফি। ভূতনাথ চোখ চাইতেই বলল -

= ' আরে ব্রো , বিয়ের দিন কেউ এত ঘুমায়। উঠে পড়। সিপ সাম কফি। নাও রিলাক্স। আমি রকি। অপর্ণা মানে পুঁচকির কাকা বোধহয় আমার কথা বলেছেন তোমাকে'।

- ' অ্যাঁ '!

= 'ভয় নেই। তোমাকে ইনজেকশন দিতে আসিনি। হসপিটাল স্টাফ সেজে ঢুকেছি।হ্যাঁ - পাহারায় তোমার আঙ্কল ইন ল্য যাকে রেখে গেছেন - সে ব্যাটা এত বড় হাঁ করে ঘুমাচ্ছে যে বাচ্চারা ওর মুখে চকোলেট র‍্যাপার ফেলে দিচ্ছে। আসলে অপর্ণাই পাঠিয়েছে আমাকে। ইউ সি - সি ইজ আ গুড ফ্রেন্ড অফ মাইন, নাথিং এলস। ওর কাকা আর আমার বাবা একই পলিটিকাল পার্টির দুটো ডিফারেন্ট ক্যাম্পে বিলঙ্গ করে। আগামীতে দুজনেই ভাবছে টিকিট পাবে। নাও দ্য প্ল্যান ইজ - আমার সঙ্গে অপর্ণার বিয়েটা দিতে পারলে ওর কাকা আমার বাবাকে চুপচাপ ইলেকশন টিকিট নিতে দেবে'।

-  ' বিয়ে ? টিকিট'?

= ' বুদ্ধিটা আমার বাবাকে দিয়েছে তোমাদের বিয়ের পণ্ডিত, সে ব্যাটা বহুদলীয় স্পাই কাম জ্যোতিষী । প্রাচীনকালে এরকম বিয়ে ... কি যেন বলে রাক্ষস না কি ... এমন হত। রাজাদের মধ্যে যুদ্ধ কমাতে। বাট আমরা রাজাও নই বোড়ে নই - ওরকম ঘোড়েলও নই।এই ঘোড়া বেচা কেনায় আমরা দেবো আড়াই চাল।বুঝতে পারছ'?

- ' কি যে বুঝবো ব্রাদার। সকাল থেকে খুব ঘেঁটে আছি। চারটে লুচি কখন হাওয়া হয়ে গেছে। তুমি বলে যাও'।

= ' এখানে সব পাবে,  জাস্ট অর্ডার সাম গুড স্টাফ। অপর্ণার সঙ্গে একবার কথা বলে নাও আমার মোবাইল থেকে। বাকিটা ও ক্লিয়ার করে দেবে'।

কথা হল। ফাঁকতালে বাড়িতেও কথা বলে নিল ভূতনাথ। তারা ' জয় তারা' বলে নিশ্চিন্তে সাজতে গুজতে বসলেন। ভূতনাথ রকিকে বলল -

- ' থ্যাংকস। তাহলে এবার'?

= ' মাই প্লেজার।  এই প্লাস্টারটা পায়ে পরে নাও'।

- ' অ্যাঁ !  কেন প্লাস্টার কেন ? তুমি কি আমার পা ভাঙ্গতে চাও'

= ' ওহ নো। প্লাস্টারটাই আমাদের মাস্টার প্ল্যান। এক স্ট্রাটেজির বিরুদ্ধে আরেকটা । এটা শুধু প্যান্টের মত পায়ে পরে নেবে। আমি এই হকিস্টিক শুদ্ধু একটা ছবি নেবো। নিয়ে বাবাকে দেখাবো। বলব তুমি গোলমাল করছিলে - আমি পা ভেঙ্গেছি। বাবা বাড়াবাড়ির জন্যে আমাকে খুব বকবে। প্ল্যান ভণ্ডুল। পিঠ বাঁচাতে দুজনে তারাপীঠে পিট্টান দেবো।এখানে তোমার বিয়েটাও নির্বিঘ্নে হয়ে গেল। আমরা যখন ফিরবো তখন তোমাদের ... কি যেন বলে ... অষ্ট মঙ্গলা হয়ে যাবে। বেশ উইন উইন সিচুয়েসন... কি বল'।

- ' কে জানে । তাহলে ...'?

= ' জাস্ট চিল। এই প্লাস্টারটা পরে ফেল জাস্ট লাইক প্যাড আপ ইন ক্রিকেট। এবার একটু ব্যথার ভাব আনো মুখে। না... না ... হচ্ছে না, দেখো এই রকম। ধ্যুত'।

- ' আঃ'।

= থ্যাংকস অ্যান্ড সরি। তোমাকে মারার জন্যে । কিছুতেই তোমার ভ্যাবলা ভাবটা কাটছিল না। ছবিটা খুব রিয়েলিস্টিক হয়েছে। ইউ আর রিয়েলি পুয়োর ইন অ্যাক্টিং। নো চান্স ইন পলিটিক্স। অবশ্য আমারও নেই, চাইও না। হোটেল ম্যানেজমেন্ট করা আছে, দুবাইতে চাকরিও ঠিক। এখন আসি। প্লাস্টার খুলে ফেলতে পারো।কাকাকে বলবে কে যেন মেরে পালিয়েছে।চোটটা তেমন জোর ছিলনা তাই এ নিয়ে গোলমাল না করতে।আজকের দিনটায় তোমার অনেক ফটো উঠবে,পারলে এই প্রেশার ব্যান্ডেজটা পরো। আমার বাবা আর অপর্ণার কাকা - গলাগলি ফ্রেন্ড তো। কমন বন্ধুরা খেতে যাবে। রিপোর্ট পাঠাবে। অল দ্য বেস্ট ফর টু নাইট'।

সে রাতে যা হবার তাই হল। কাকা সত্য মিথ্যায় মেশানো একটা গল্প শুনলেন।বিয়ের সময় ভূতনাথ পণ্ডিত মশাইকে দেখে চোখ টিপল।অপর্ণা ফিসফিসিয়ে বলল ' আমরা সব জানি'। তিনি চমকে হাতে হোমানলের ছ্যাঁকা খেলেন। জোড় বেঁধেই এমন দৌড় দিলেন যেন ইশবগুল খেয়েছেন।  ভূতনাথের বাবা ' দেখি কেমন" বলে চারটে ক্ষীর-মোহন খেলেন, মা তিনটে পান।ভূতনাথ আর অপর্ণা এখন 'হ্যাপিলি ম্যারিড'।

ঈশ্বর, আল্লা, যীশু, গুরু গোবিন্দ সে আনন্দকে 'এভার আফটার' করে দিন।


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন