কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

উদয়ন ভট্টাচার্য

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৭


চিরকালীন

পরিযায়ী পাখিরা ফিরে এলো পশ্চিম থেকে

 তাদের বাদামী ছায়ার দাগ মাটিতে পড়েছে

 প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে প্রিয় মানুষেরা

 আজকাল কেউ আর চিঠি লেখে না

 প্রাচীন বীজ থেকে জন্ম নেয় প্রতিবাদের গাছ

 কপালের ঘাম এসে পরে খরার মাটিতে, শুকিয়ে যায়।

 বাষ্পীয় বাতাস চোখে লাগে মনে হয় অশ্রু

 সমস্ত মানুষ বিচার চাইতে মাঠে নেমেছে

 পড়ন্ত বেলায় ভেসে ওঠে ওঠে পুরনো দিন

 বনভূমির সূর্য ডুবে যায় একই নিয়মে 

 মনে পড়ে।

 

লক্ষ্য

আমাকে ডাকো সেইভাবে, যেভাবে সমুদ্রগামী নদী জলের কল্লোলে ডেকেছে পাহাড়

 আমি সেইভাবে লজ্জিত চলে যেতে চাই, সেইভাবে একাগ্র বেহুলা।

 আমাকে সেইভাবে ভাঙো

 যেভাবে চকিত বজ্রপাতে

 ভেঙে যায় বোধি বৃক্ষ

 আমি সেইভাবে সাধারণ ভেঙে যেতে চাই নমনীয়

 সেইভাবে ছিন্নমূল।

 

বনস্পতি

বনস্পতি হয়েছে সাক্ষর তাই তার ছার নিচে গেলে সে আজ প্রশ্ন করে, জীবনে কী পেলে?

যে রাখাল বাঁশি বাজা তো পূর্ণিমায়, সেই শাসক, সরকার

 তার সুরে মানুষের সুখ দুঃখ ফোটে না আর।

 পরিকাঠামোর ফলে অগ্রহায়ণের শুরুতে যে লাগাতো ধান  

 সে এখন হয়েছে নেতা, অঞ্চল প্রধান।

 যে বাবুর কাছে ভিক্ষে নিয়েছিল দুটি টাকা খেতে পাবে বলে,

 সেই বাবুই এসেছে ভিক্ষা পাত্র নিয়ে, মেঘে ঢাকা বিবর্ণ সকালে।

 

 কম্পিউটারে লেখা হবে বলে কলমের দিন শেষ

 সবই থাকে যন্ত্রে মগজ উপনিবেশ।


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন