কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / তৃতীয় সংখ্যা / ১৪২

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

অনির্বাণ সাধু

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৭


অচিন পাখি

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বিভাগের উর্দ্ধতন করণিক,

মিনিবাসের ক্ষয়াটে মুখওলা চিরচেনা কন্ডাক্টর,

মুদিখানার কবেকার অন্ধকার জটিল জোগাড়ে,

পাড়ার চেনা মেজাজ আনা সকালবেলার সবজিওলা,

সবাই বলেছেন

আকাশের ঈশাণকোণে তাঁরা এক অলৌকিক পাখি দেখেছেন।

আর আমরা ভাবছি

পাখি

এই এলো, এই এলো।

সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত

কত নিষ্ফল গবেষণা,

কত টিকিট না দেয়া ফাঁকির সফর,  

কত তেলচিটে পরা টিনাপলের কৌটো,

কত শুকিয়ে যাওয়া ফুলকপির ডাঁটা,

সেই পাখিটাকে খাঁচায় পুরে,

দানাপানি দিয়ে,

গান শিখিয়ে,

বশ করার চেষ্টা করছে।

আমার যে পাখি নেই,

ছিলো না কোনোদিন...

ঈশাণকোণে  

সে পাখির ঝড়ের ইংগিত।

আজও

আমরা সবাই

ঝাঁক ঝাঁক পাখি উড়ে আসার প্রতীক্ষায়

সকাল সকাল উঠে পড়ি।

 

আকন্দ

কতফুল তুলে দেয় প্রেমিক ও শ্রমিক।

লালফুল বুকে জমা শ্রম ও শোষণ।

ঘেঁটু ফুল তুলে আনে, অজানা বঁধূয়া,

শিব চায় আকন্দ। আকন্দ ফুল।  

মা'র জন্যে মালা কেনে কুমারী সে জন।

শিবরাত্রি তার কাছে ভিড় আর মেলা,  

ভক্তি নিয়ে অতি যত্নে পয়সা দিয়েছে,

সে মালা সে বয়ে আনে, বাবা তার নেই।

গোলাপ, শিমুল ফুল, ডালিয়া বা বেল,

সাদা ফুলে পুজো হয়, রং ঢং কি বা!

পদ্মের শতদল, সহস্র বা বুঝি,

বুঝি না, সন্ধ্যা নামে মালতীর দোলে।

নিমফুলে মধুমাস, দুধ শাদা জল,

গৌরীপটে, শিবলিঙ্গ সমূলে প্রোথিত,

সযত্ন মোড়কে সেই বাঁধা বিনিময়,

হাঁসফাঁস সে মালাটি, বেগুনি ও শাদা।

ঝিঙেফুল, সর্ষে ফুল, নারকেল ফুলে

চালতার, বকুলের, বাঁশফুল গান।

একটি কুমারী মেয়ে, জানে তার মা

শুধোবে মালার কথা, এখনো রঙিন।

 

জামির লেনে গরম দুপুর

একটা চড়াই আর একজন পুলিশ।  

চড়াই, ছোট্টো ছোট্টো লাফ দিয়ে সকালের উঠোন পেরোয়।

পুলিশ, চালু করে তার বাইকের এঞ্জিন।

গুমগুম শুনে রাখে হাসনুহানার এলোমেলো অনাদর।

পুলিশ, চোর ধরতে যায়।

চড়াই, পোকা খোঁজে,

পুলিশ চোরকে পোকার মতো এলোমেলো অনাদরে ঘিরে রাখে।

একদিন,

চোর-পুলিশ খেলা শেষ হয়।

একদিন চড়াই তার শহুরে কোটোর ভাঙে,  

ভাঙে তাল সকালবেলার।

মোটরবাইক তার ধাতব হাতলে,  

খুঁজে মরে চড়াইপাখির আদর।


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন