বিশ্বাস,
এক অনন্ত বোধ...
এক টুকরো কর্পূর ঘ্রাণ বাতাসে।
এক নিমেষে গলে যেতে যেতে নিজের আয়তন, উচ্চতা, ওজন সব বাতাসে
লীন করে দিয়ে শুধু রেখে যাচ্ছে শুচিতার সমাবেশ...
'বিশ্বাস' শব্দটাও খানিক
তেমনই। নিরাকার, নির্মেদ, নির্ভেজাল। এক নি:শেষ হয়ে যাওয়া অনুভূতি যা ছুঁয়ে থাকে
বেঁচে থাকার সারমর্ম।
নি:শ্বাসকে হৃদয়ের বাসভূমির পাশে বসিয়ে এমনই বিশ্বাসের পাঠ
পড়িয়ে যাই রোজ আর সামনে অনড় মূর্তি হিসেবে গড়ে রাখি নিজের জলভাঙা প্রতিবিম্বকে।
বাতাসের কার্বন, ধূলো,
ছাই কোথাও এতোটুকুও এসে সে মূর্তিকে ছুঁলে আমি ছুটে গিয়ে
রগড়ে রগড়ে মুছে ফেলি তাদের আর আমার স্রোতস্বিনী প্রেমকে ভাসিয়ে দিই ওর মাথা থেকে
পা অবধি দারুণ সমর্পণে।
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত সব সব পেরিয়ে যখন লুকিয়ে থাকা হেমন্তের মতো অবিশ্বাসী
ছোবলগুলো আমার মন্ত্রোচ্চারিত ওষ্ঠে বিষদাঁত বসায়, ঠিক তখনও আমি আমার শিরশির করে ওঠা রন্ধ্রে অনুভব করি ক্ষমার মহার্ঘ্য।
যতোবার তাই সময় নিভিয়ে গেছে প্রত্যয়ের আলো, ততোবার তাই প্রাণপণে দু-হাত দিয়ে আগলে রেখেছি দিগন্তের
সূর্যটিকা।
অনুরণনে প্রতিধ্বনিত হয়েছে
প্রিয়মুখের শব্দ, মুদ্রা, ভঙ্গি...
সেইসব ছুঁয়ে ছুঁয়ে হেঁটে গেছি এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে
কেবল মৃত্যূবাণের বিষাক্ত ফণার শেষ গ্রাসটুকু থেকে বাঁচাতে চেয়ে আমার বেঁচে থাকার, বাঁচিয়ে রাখার সম্পদ এই 'বিশ্বাস'টুকুকে...
আজ মনে হয়, বিশ্বাস এক
অভ্যেস।
বাঁচার অভ্যেস।
মরতে না চাওয়ার অভ্যেস।
আর্তনাদের অন্ধকার চিরে সমস্ত অপমান গিলে নেওয়া অস্তরাগের
উপর পড়ে থাকা মৃদু রেশের মতো অন্ত:স্থল ঘিরে থাকে এক অনন্ত বোধ, যে বোধের নাম,
'ভালবাসা'।
ভালবাসার ঘরে নারীত্ব মরে, সতীত্ব মরে, হাজার হাজার বার খুন হয়
মান-সম্মান, তবু বেঁচে পড়ে থাকে
হোমাগ্নির শুদ্ধ ছাইএর মতো এক দীর্ঘ ছায়া।
সেই ছায়াময় আশ্রয়টুকু যত্নে গুছিয়ে রেখে প্রতীক্ষারত বসে
থাকে এক শবরী অপেক্ষা সময়ের চৌকাঠে।
অবিশ্বাসের ভাঙাচোরা খড়কুটো দিয়ে রোজ সে গড়ে যায় বিশ্বাসের
প্রতিমূর্তি কেবলই ভালবেসে...
বাঁচার অভ্যেসে।
0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন