অবন্তিকা সিরিজ
কৃত্রিমতা
গাড়ির কাচটা নামা; গগলস খুলে ওই দ্যাখ
সেই সাব-এডিটর তোর অভিনয়ে কৃত্রিমতা
আছে লিখে তুলোধনা করেছিল তোকে অবন্তিকা
তাকিয়ে রয়েছে তোর পোস্টারের খাঁজে অপলক–
নাহ, অপলক বলা যুৎসই নয়, গিলছে রে
তোর সিলিকন-ঠাসা বুক দুটো। ভুলে গেছে ব্যাটা
ওদুটো কৃত্রিম, কিন্তু যৌনতার
শিল্পবোধে ফেঁসে
লটকে পড়েছে তোর বুকের নিজস্ব অভিনয়ে।
নাচ মুখপুড়ি
নাচ তুই নাচতে থাক অবন্তিকা, উইখেকো
গোরিলার ঢঙে
নাচতে থাক নাচতে থাক নাচ কী হয় কী যে হয় তালে তালে
আমি আছি তোর ঘামে নুন হয়ে হাওয়ার সঙ্গে ট্যাঙ্গো
আলোর সঙ্গে ফক্সট্রট কিংবা দোলানো পাছায় মাম্বো
রুম্বা বুগি
পাসো দোবলে লিকুইড লকিং বোলেরো জাইভ সুইং সকা
মুনওয়াক ফ্ল্যামেংগো নাচে কথা বলা বন্ধ রেখে তুই
নিজেকে নাচাতে থাক ডি জে; আমি
আছি তোর নাভি ফুটো করে
হালকা হলুদ পোখরাজে, অন্তর্বাসে আছি আলতো
সন্মোহিনী কটূগন্ধে রাতজাগা পিচুটিতে
মোদোভাপ নিঃশ্বাসে নখের পুরনো ময়লায়
চুমুপ্রিয় গালের ফুসকুড়ি হয়ে তেষ্টা পাওয়া খসখসে
ঠোঁটে
শ্লেষাত্মক হাসি হয়ে আছি বুঝতে পারবি না মুখপুড়ি
কেননা তুই ঢঙি চিরকাল কেবলই নেই নেই নেই নেই
নেই নেই নেই নেই করে নেচে গেলি নেচে গেলি নেচে
ভাষার মাস্টার বোদা করিয়োগ্রাফারের ইশারায়
ডেথ মেটাল
মুখপুড়ি অবন্তিকা চুমু খেয়ে টিশ্যু দিয়ে ঠোঁট
পুঁছে নিলি?
শ্বাসে ভ্যাপসা চোখের তলায়
যুদ্ধচিহ্ণ এঁকে ডেথ মেটাল মাথা দোলাচ্ছিস
চামড়া-জ্যাকেট উপচে লালনীল থঙ গলায় পেতল-বোতাম
চোকার
ঝাপটাচ্ছিস সেকুইন গ্ল্যাম রকার খোলা চুল কোমরে বুলেট
বেল্ট
বেশ বুঝতে পারছি তোকে গান ভর করেছে যেন লুঠের-খেলা
স্ক্রিমিং আর চেঁচানি-গান তোর কার জন্য কিলিউ কিলিউ
কিল
ইউ, লাভিউ লাভিউ লাভ ইউ কাঁসার ব্যাজপিন
কব্জিবেল্ট
কুঁচকিতে হাত চাপড়ে আগুনের মধুর কথা বলছিস বারবার
আমি তো বোলতি বন্ধ থ, তুই কি কালচে ত্বকের
সেই বাঙালি মেয়েটা?
কোথায় লুকোলি হ্যাঁরে কৈশোরের ভিজেচুল রবীন্দ্রনাথের
স্বরলিপি
কবে থেকে নব্বুই নাকি শূন্য দশকে ঘটল তোর এই পালটিরূপ
পাইরেট বুট-পা দুদিকে রেখে ঝাবড়া চুলে হেড ব্যাং হেড
ব্যাং হেড ব্যাং
ঝাঁকাচ্ছিস রঙিন পাথরমালা বুকের খাঁজেতে কাঁকড়া এঁকে
পাগলের অদৃশ্য মুকুট পরে দানব-ব্লেড বেজ গিটারে
গাইছিস
বোলাও যেখানে চাই নেশা দাও প্রেম-জন্তুকে মারো
অ্যানথ্র্যাক্স বিষে
মেরে ফ্যালো মেরে ফ্যালো মেরে ফ্যালো কিল হিম কিল হিম
কিল
কিন্তু কাকে বলছিস তুই বাহুতে করিটি উল্কি : আমাকে?
নাকি আমাদের সবাইকে যারা তোকে লাই দিয়ে ঝড়েতে
তুলেছে?
যে আলো দুঃস্বপ্নের আনন্দ ভেঙে জলের ফোঁটাকে চেরে
জাপটে ধরছিস তার ধাতব বুকের তাপ মাইকে নিঙড়ে তুলে
ড্রামবিটে লুকোনো আগুনে শীতে পুড়ছিস পোড়াচ্ছিস
দেয়াল পাঁজিতে লিখে গিয়েছিলি ‘ফেরারি
জারজ লোক’
ভাঙাচোরা ফাটা বাক্যে লালা-শ্বাস ভাষার ভেতরে দীপ্ত
নিজেরই লেখা গানে মার্টিনা অ্যাসটর নাকি ‘চরমশত্রু’
দলে
অ্যানজেলা গস কিংবা ‘নাইট উইশ’-এর টারজা টুরম্যান
লিটা ফোর্ড, মরগ্যান ল্যানডার,
অ্যামি লি’র বাঙালি বিচ্ছু তুই
লাল নীল বেগুনি লেজার-আলো ঘুরে ঘুরে বলেই চলেছে
তোরই প্রেমিককে কিল হিম লাভ হিম কিল হিম লাভ হিম লাভ
হিম আর ঝাঁকাচ্ছিস ঝাবড়া বাদামি চুল দোলাচ্ছিস
উন্মাদ দু’হাত…
0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন