কালিমাটি অনলাইন

ত্রয়োদশ বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১৩৮

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

ত্রয়োদশ বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১৩৮

বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫

সরোজিনী নাইডুর কবিতা

 

প্রতিবেশী সাহিত্য

সরোজিনী নাইডুর কবিতা

(অনুবাদ : সুপর্ণা বসু)

 


কবি পরিচিতিঃ সরোজিনী নাইডু ছিলেন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী। তিনি কবি ও সুবক্তা ছিলেন। তাঁর সুরেলা কবিতা ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতার জন্য মহাত্মা গান্ধী তাঁকে 'দ‍্য নাইটেঙ্গেল অফ ইন্ডিয়া' নামে অভিহিত করেন। তাঁর জন্ম ১৮৭৯ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি। পিতার নাম শ্রীঅঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং মা বরদা সুন্দরী দেবী। সরোজিনী শৈশব থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি মাদ্রাজ লন্ডন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাগ্রহণ করেন। ১৯২৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হন এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল হন। ১৯০৫ সালে তাঁর প্রথম কাব‍্যগ্রন্থ The Golden Threshold  প্রকাশিত হয়। ১৯১২ এ প্রকাশিত হয় The Bird of Time.এবং

১৯১৭ সালে প্রকাশিত হয় The Broken Wings. এখানে তাঁর প্রথম কাব‍্যগ্রন্থটি থেকে তিনটি কবিতা বাংলায় অনুবাদ করা হল।

 

PAST AND FUTURE (অতীত ও ভবিষ্যৎ)

নতুন এসে পড়েছে, এখন পুরাতন অবসৃত হবে :

অতএব অতীত এখন এক পর্বত কন্দর,

যেখানে একাকী বৃদ্ধ সন্ন‍্যাসীর মত স্মৃতিরা নিবাস করবে পবিত্র শান্ত বিস্মৃত স্মৃতিসমূহ

 

নির্জন একান্তে  সাধুর মতো

জেগে থাকবে স্মৃতিরাশ্রদ্ধায় নিঃশব্দ,

ব‍্যগ্র হৃদয়ে বড় দ্রুত ভুলে যেতে হবে পুরনো সবকিছু

সেখানে নিবাস করবে কেবল পরিপূর্ণ সুখদায়ী নবতম আকাঙ্ক্ষারা

 

এখন আত্মা দাঁড়িয়ে আছে

এক অস্পষ্ট, নিবিড় প্রতীক্ষার প্রান্তে,

অনিশ্চিয়তার যন্ত্রণায়

 

চৌকাঠের ক্ষীণ রেখায়

ম্লান দ্বারের উপর... হঠাৎ সে দেখে

ভবিষ্যৎকে

যেন, অজানা এক ভাগ্য-বিজড়িত বধূ,

কাঁপছে একাকী, তার পর্দায় ঢাকা মুখ

রহস্যে মোড়া বিবাহের ওড়নায়।

   

LIFE (জীবন)

শিশুরা, তোমরা আর কতটুকুই বা জীবন দেখেছ?

তোমাদের কাছে জীবন মানে এক অপূর্ব স্বপ্নসৌধ

অথবা কুহক মণি ও পদ্মনীলার শিখায় হৃদয়ের গভীরে

ঢেউয়ের মত লাফিয়ে ওঠা বেপরোয়া আনন্দের উৎসব

 

বাচ্চারা, তোমরা বাঁচোনি এখনো সেভাবে

কেবল অস্তিত্বশীল রয়েছ

যতক্ষণ না কোনো অদম‍্য মুহূর্ত জেগে উঠে

তোমাদের হৃদয়কে ডেকে তুলে

প্রেমের খিদে জাগিয়ে তুলছে

 

তোমাদের ভেতরে সতৃষ্ণ আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠছে সেই সবকিছুর জন‍্যে

যা তোমাদের কপাল পুড়িয়ে দেয় গনগনে যন্ত্রণায়

 

যতক্ষণ না যুদ্ধ করছ মহাশোক ও ভয়ের সঙ্গে

এবং স্বপ্নভঙ্গের বছরগুলোকে বয়ে বেড়াচ্ছ

ক্ষত বিক্ষত হচ্ছ উদগ্র কামনার সংঘাত - ধ্বস্ত জীর্ণতায়

 

শিশুরা, তোমরা বাঁচোনি এখনো। কারণ জীবন সেইরকমই!

 

My Dead Dream (আমার মৃতস্বপ্ন)

শেষ পর্যন্ত তুমি আমাকে খুঁজে পেলে, ওগো স্বপ্ন আমার

সাত যুগ আগে তুমি মারা গিয়েছিলে আর আমি তোমায়

তুষারাবৃত অরণ‍্যের গভীরে পুঁতে দিয়েছিলাম

কেন তবে ফিরে এলে আজ? কে তোমায় নিদ্রা থেকে

ডেকে তুলে দিল? আমায় সমুদ্রের গভীরে নীল ফেনা পার করে ওপারে নিয়ে যেতে?

তুমি কি আমার চৌকাঠ থেকে ছিঁড়ে নেবে সবুজ পাতার পবিত্র মালিকা?

আমার ছাদের কার্নিশে বাসা বেঁধে থাকা বন‍্য শ্বেত কপোতদেরকে তুমি কি সন্ত্রস্ত করে তুলবে?

তুমি কি তোমার মৃত আঙুলে ছুঁয়ে অপবিত্র করবে

আমার পুজারির পোশাক?

 

তুমি কি আমার উৎসবের প্রেম সংগীতে বুনে দেবে

বিলাপের সুর?

ওগো স্বপ্ন তুমি তোমার কবরে ফিরে যাও

সেই বরফাবৃত বনের গভীরে

যেখানে সাত যুগ আগে কোনো ভগ্নহৃদয় বালক

তোমায় পুঁতে দিয়েছিল

তোমায় সেই অন্ধকার থেকে উঠে আসার আদেশ কে দিয়েছে?

আমি তোমায় ফিরে যেতে বলছি

আমি আমার হৃদয়ের ফাটলে যেসব মন্দির গড়েছি

তাদের অপবিত্র করো না।

 

 

 

 


1 কমেন্টস্:

  1. গম্ভীর সুললিত আর্দ্র সুন্দর। লেখিকা ও অনুবাদিকে শ্রদ্ধা

    উত্তরমুছুন