![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৬১ |
মুক্ত
পৃথিবী অনাত্মীয়, অচেনা, বিভুঁই
জন্ম থেকে জীবন ছিন্ন হয়ে ভেসে যায়।
সবই দুর্যোগ, ছিঁড়ে চলে যাওয়ার
পরিণাম-বেগ, রক্ত কিচ্ছু নয়, ছেঁড়া শিকড়।
ক্ষেত ও ঘাসের মতো, অফসল, অসফল
জন্মসূত্র, প্রজন্মসূত্র--- প্রকৃষ্ট প্রয়োজন কেবল।
কিছুই বিস্তীর্ণ নয়, যা মনে হয়; ধোঁয়া বা মেঘ
ধরবার মতো হাত, চির বরবাদ, সুস্পষ্ট ছেদ।
পৃথিবী অনাত্মীয় রাত, ঝড় ও বর্ষা, ঝঞ্ঝাট
পুরাতন যত--- সান্ত্বনার পাসপোর্ট।
ঘর নেই কোথাও, কোনও একটি ঘরের ভেতর
বিভুঁইয়ের ভাঙা সৌধ, স্তূপ, ধ্বংস-সার।
ভেসে আসে ক্ষীণ, মৃত্যুর গান, শূন্যতার তান
জীবনই মিথ্যের চিত্রায়িত গল্পের মতন।
বুনো
বন-পরাগ কি মনে পড়ে না ? পড়ে
মনের যে অবসর চাই, অবসরের যাপন চাই
শুধু ভেবে ভেবে ভেসে যাওয়ার কত উত্তাল নদী
কোনো নির্জন সমুদ্র দ্বীপ, বালিয়াড়ি, ফ্যান্টাসি।
ব্যক্তিগত বৃষ্টির পর, জানলাটা খুলে দেখে মানুষ
ধোঁয়ার মতো দূরের ঘর, ভিজে ছাদ, জবুথবু শালিক
অথবা বজ্র বিদ্যুৎ সহ কোনো কালো মেঘের সকাল।
পথ-ফুল দেখে কি আশ্চর্য হয়নি? হয়েছে
অবাকের আছে এক অ্যালবাম, দেখে সময় কাটায়
মনে পড়ে খুব, দু'একটি মিষ্টি লাইন আনন্দ কবিতার
ব্যক্তিগত বৃষ্টির শেষে যা মনে পড়ে অনায়াসে---।
আজন্ম মানুষ নান্দনিক, পৃথিবীতে সময় তার কম
বন-পরাগে, পথ-ফুলে--- সু-সংস্কৃত গাঢ়তর টান
লিখতে লিখতে, বলতে বলতে সে জ্যান্ত ভগবান।
তবু সাপ মাত্রেই ভয় করে নাকি? করে…
হংস
কেলিবিলাস-ক্লান্ত রভসে হাঁস ভেসে আসে,
মরানদীর পানকৌড়ি-মুখে দেয় অপমান-গান--
এঁটোকাঁটা তখনো যে ছড়ানো, না-নিকানো
উঠোনে, যতিচিহ্ন ভরা ছন্নছাড়া বাহারে বিঘ্ন
সে সব, বিলম্বিত সুর, জানা যায় না--- কে দেব,
কে অসুর; কী রূপে উপেক্ষা উপস্থাপনের
অবহেলা-বেহালায় বাজে ধ্বনি, স্বপ্ন শিরোমণি
ঘন ঘন কালো জলে দেয় ডুব; প্রাণ নেই
অথচ প্রাণিত শ্যাওলা বনে, ব্যথার শাপলা ফুল--
হাঁসেরা অধিক স্বেদ-মাখা পালকে পলাতক
তাই--- পুনঃ ডিম পেড়ে আসে ঘাসের ওপর।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন