কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / দ্বিতীয় সংখ্যা / ১৪১

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / দ্বিতীয় সংখ্যা / ১৪১

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

<<<< সম্পাদকীয় >>>>

 


কালিমাটি অনলাইন / ১৪১ / চতুর্দশ বর্ষ : দ্বিতীয় সংখ্যা     

 


যাঁরা ভারতের ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন এবং মানবাধিকার আন্দোলন সম্পর্কে আগ্রহী, তাঁরা আশাকরি ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী এবং মানবাধিকার আইনজীবী সুধা ভরদ্বাজের নামের সঙ্গে পরিচিত। বিশেষত প্রায় চল্লিশ বছর ধরে তিনি ছত্রিশগড়ের নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করছেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৯৬১ সালের ১লা নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনে, কেননা তখন তাঁর মা কৃষ্ণা এবং বাবা রঙ্গনাথ ভরদ্বাজ সেখানে অর্থনীতিতে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো ছিলেন। অবশ্য সুধা ভরদ্বাজ তাঁর মায়ের সঙ্গে বাবার বিবাহ বিচ্ছেদের পরে একসময় ভারতে ফিরে আসেন এবং পরবর্তী সময়ে কানপুর আই আই টি থেকে অঙ্ক নিয়ে বিজ্ঞানে পাঁচ বছরের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। আর তারপরেই তিনি ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী হিসেবে চলে আসেন ছত্রিশগড়ে। শ্রমিক নেতা শঙ্কর গুহ নিয়োগীর সঙ্গে এখানেই তাঁর পরিচয় হয়, যাঁকে তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব রূপে স্বীকার করেছেন। ২০১৮ সালে মহারাষ্ট্রের ভীমা কোরেগাঁও গ্রামে হিংসায় প্ররোচনা দেওয়ার মিথ্যে অভিযোগে ইউএপিএ আইনের অধীনে তাঁকে কারাবন্দী করা হয়। প্রথমে তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়, তারপর দেড় বছর পুনেতে ইয়েরওয়াড়া জেলে নির্জন কারাবাসে রাখার পর আরও একবছর মুম্বাইয়ের বাইকুলা জেলে রাখা হয়। ২০২১ সালে তাঁকে জামিনে ছাড়া হয়।

২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে ২৯২০ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সুধা ভরদ্বাজ ছিলেন পুনের ইয়েরওয়াড়া কারাগারে। এই সময়ে জেলবন্দী নারীদের কথা তিনি লিখে রাখতেন টুকরো টুকরো নোটসের মতো। আর তাঁর স্বচক্ষে দেখা এবং অভিজ্ঞতালব্ধ সেইসব নারীদের মধ্যে ছিয়াত্তরজন নারীর জীবন এবং সেইসময়ের আদালত ও জেল ব্যবস্থার সমকালীন চিত্র তুলে ধরেছেন পরবর্তী সময়ে তাঁর ইংরেজিত লেখা ‘ফ্রম ফাঁসি ইয়ার্ডগ্রন্থে। বিগত ২০২৫ সালে এই গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয় ‘ফাঁসি ইয়ার্ড থেকে (ইয়েরওয়াড়ার মহিলাদের সঙ্গে আমার একটি বছর)। অনুবাদ করেছেন সোমনাথ গুহ। বইয়ের ভূমিকায় বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বইটিকে একটি ব্যতিক্রমী কারাসাহিত্য রূপে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও লিখেছেন, “যে-কোনো আন্দোলনের ইতিহাস বা উত্তরণশীল সময়কে অনুধাবন করার জন্য কারাগার থেকে লেখা আন্দোলনকারীদের চিঠি, বন্দীজীবনের দিনলিপি বা বন্দীশালার চার দেওয়ালের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা পর্যবেক্ষণ ও উপলব্ধি এক অপরিহার্য উপাদান। ভারতের দীর্ঘ স্বাধীনতা আন্দোলন, ষাট ও সত্তর দশকের উত্তাল বিপ্লবী বামপন্থী আন্দোলন, জরুরি অবস্থার পর্যায়ে স্বৈরতন্ত্র-বিরোধী আন্দোলন এবং বর্তমান পর্বে কর্পোরেট লুন্ঠন ও ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন – সব আমলেই কারাগার থেকে উঠে আসা সাহিত্য রাষ্ট্র, সমাজ এবং সময়ের এক নির্মম ছবি পাঠকের সামনে তুলে ধরেছে

সাহিত্যিক জয়া মিত্র লিখেছেন, “জীবনমরণ বিপদের মাঝেই নাকি মানুষের স্বরূপ প্রকাশ পায়, লোকে বলে। এই বিশেষত্ব আমাকে আরও বেশি ভাবালো সুধা ভরদ্বাজের এই নাড়া দেওয়া বইটি পড়ে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে ঘোষিত এই দেশে দুর্বল, আহত এবং অন্যমত পোষণকারীদের কীভাবে দেখে রাষ্ট্র – তার অতি স্পষ্ট প্রমাণ দেশের কারাগার। একথা যে-কোনো শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রেই সত্য

এবছর আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় এই বইটি আমি সংগ্রহ করেছি। বইটি পড়ে আমি মুগ্ধ। আমার জীবনে এ এক অন্য অভিজ্ঞতা। আমি আমার প্রিয় পাঠক-পাঠিকাদেরও বইটি পড়ার জন্য অনুরোধ জানাই। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ শ্রদ্ধেয় অমর্ত্য সেন বই পড়ে মন্তব্য করেছেন, “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বই। আর সাহিত্যিক অরুন্ধতী রায় মন্তব্য করেছেন, “চমৎকার পর্যবেক্ষণ এবং সংবেদনশীল লেখা

 শুভ নতুন বাংলা বছরের শুরুতে সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা।

 

আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের ই-মেল ঠিকানা : kajalsen1952@gmail.com

দূরভাষ যোগাযোগ : 9835544675

 

 


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন