কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ১৪৭

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ১৪৭

বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

সুদীপ দাস

 

কবিতার কালিমাটি ১৬২

 

 

শেষ ভ্রমর

(১৩)

লালাযুদ্ধের সৈনিক : লুকোচুরি ফটকের শেষে জীবন্ত পগার গলি। শেষপ্রান্তে জাল আঁটা উঠোন। ওখানে গলা সাধছে যারা তাদের লালায় নির্ধারিত হয়ে চলেছে আমাদের ভবিষ্যৎ।

ভ্রমর : ভিতরের শূন্যতাকে চিনতে ভুল করে প্রত্যাশার আয়নায় পাথর ছুঁড়ি। দেখি ছদ্মবেশী সংযমের ড্রাপারিতে ঢেকে আছে পাথর শরীর।

লালাযুদ্ধের সৈনিক : স্থিরতা চম্পট দেয়। তাকে খুঁজতে বের হওয়া ছোটো ছায়া তারই সঙ্গী বড়ো ছায়ার ভিতরে হাঁসফাঁস করে। ছায়ার ভিতর থেকে হাত ডুবিয়ে তুলে আনি ছেঁড়া চটি, ফুটো জামা, আমাদের উল্লাসে চোবানো নিষ্ক্রিয়তার, লুকিয়ে ফেলা পাপের নিশান।

 ভ্রমর : বহুদূরে, বহুকাল পরে, উদ্ধারকারী দল পেয়ে যায় তথ্যের ছোটোখাটো পাহাড়ের নিচে চাপা পড়া একটি নেংটি ইঁদুর।

(১৪)

ছায়ামানুষ : কারা যেন ইতিহাসের সিলেবাসকে বদলে বদলে খড়ের গাদা বানিয়ে তুলেছে।

ভ্রমর : তোমার ঘাড়ে হলুদ পণ্ডিতের নিঃশ্বাস, কানের পাশে বাদামি দর্শনের ফিসফিসানি। অনুভূতির তিনকোণা চাদরে মুখ ঢেকে রসিক মানুষ কাঁদছে। তার কুঁচকানো ত্বকে অদৃশ্য রক্তজালকের আভাস এখনও গতির সামর্থ্য খোঁজে বিষণ্ণ উরু আর শ্লথ হাঁটুতে।

ছায়ামানুষ : কে যে কবে উদ্ভাসিত হবে কে জানে ! আমি কবে ছায়ামুক্ত, সঙ্গীহীন হব? ব্যথামুক্ত স্মৃতি নিয়ে হাঁটব নদীর পাড় ধরে। অন্ধকারে কবে আঁকা হবে লাল রং-এর একটি বিন্দু!

(১৫)

লাল বিন্দু : দুই পা এগিয়ে এক পাক ঘুরে চলো এবার পিছিয়ে যাই। আমাকে না দেখে সে থমকে দাঁড়াতেই আমি কোণাকুণি দ্রুত এগোতে থাকি সেই দিকটায় যেখানে তক্ষক আর ভ্রম বসে থাকে মুখোমুখি।

ভ্রমর : ওরাই তো পাঠালো তোমাকে বিশাল শিশুবৃক্ষের কাছে যে অপেক্ষা করছে তোমার দুঃখের কথা শুনবে বলে। শিশুগাছ তোমাকে যদি আরও এগিয়ে অশ্বক্ষুরাকৃতি নদীর কাছে যেতে বলে, যাও। উন্মাদ যুদ্ধতাড়না নামিয়ে দাও জলের কাছে গিয়ে। নদী তোমার সব বর্ম সব ব্যথা নিয়ে চলে যাবে আকাশের দিকে।

লাল বিন্দু : কিন্তু আমি যেতে পারিনি। চলতে চলতে হঠাৎই আমার পুরোনো সঙ্গীকে খুঁজে পেলাম। সে কোনও গাছ খুঁজে পায়নি, কোনও নদী খুঁজে পায়নি। তার বড়ো ছায়াও তাকে ত্যাগ করেছে। আমি পথ বদলে এগিয়ে চললাম বন্দরের দিকে। যেভাবে ফ্ল্যানিউর উঁকি মেরে চলে যায় অসমাপ্ত ইস্যু থেকে সমাধানহীন অন্য ইস্যুতে।

 

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন