কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ১৪৭

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ১৪৭

বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

সৈয়দ কওসর জামাল

 

কবিতার কালিমাটি ১৬২

 

হ্যামলেট

বস্তুত সবাই হ্যামলেট

হওয়া আর না হওয়ার মাঝে

মুখ ঢাকে দ্বিধাদ্বন্দ্বগুলো

প্রশ্ন অথচ শূন্যতা বাজে

 

দুঃখ লেখো, দুঃখই নির্ঝর

শুধু কি শেষের সঙ্কেত গোনো

ব্রিজে ঝমঝম ট্রেন যায়

হাওয়ায় শেষের ঘন্টা শোনো

 

তুমি এসেছিলে পর্যটনে

তোমার বসতি অন্য দেশে

ফিরে যাও কিংবা চলো দূরে

পিছুটান এভাবে কি মেশে

 

আমিও দর্শক মাত্র, মুগ্ধ

দেখি এ বিচিত্র অভিনয়

প্রতিদিন নতুন নতুন

দৃশ্যেরও বদল শুরু হয়

 

নিজের ছায়াও ভয়ে থাকে

কালো স্ক্রিন দ্বিধান্বিত মনে

রুক্ষ হাওয়া মঞ্চের আড়ালে

তীক্ষ্ণ ছুরি চালায় গোপনে

 

আনন্দ

আনন্দ জেগেছে এই দেহে

বেজে ওঠে আঙুলে আঙুলে

বাজাও গিটার প্রাণপণে

সব প্রতিরোধ যাও ভুলে

 

ভুলে যাও সমস্ত বিষাদ

প্রকৃতির কাছে উত্তেজনা

স্বাভাবিক রীতি বলে ভাবো

সময় তুলেছে কাল-ফণা

 

অপ্রাকৃত বলে কিছু নেই

এক অংশ দৈব ঘটনার

বাকি অংশ প্রেরণার মতো

ঢেঊ ওঠে ডানায় হাওয়ার

 

উদ্ভাবন করো, দূরে রাখো

যত বাধা আর ভেসে থাকো

ডুবে দাও শুশুকের মতো

উলকি দিয়ে স্বাধীনতা আঁকো

 

যখন আনন্দ জাগে দেহে

গানে গানে টানটান স্নায়ু

উল্কিগুলো তোমার মোটিফ

পেতে হবে উদ্ভাসিত আয়ু

 

উৎসব

আয়ু উদ্ভাবনা মানুষের

তার গায়ে সৃষ্টিসুখ লেগে

যত যত নিভে আসে আলো

শুকতারা আছে ঠিক জেগে

 

অথচ উল্লাস নেই কোনও

তখনও মাটির ঘরে বাতি

একটুখানি উস্কে দেওয়া চাই

নিঃশব্দ উৎসবে এসো মাতি

 

খেলতে নামি শব্দ হাতে থাকে

তুমি কি রঙের তুলি হাতে

কুয়াশাচাদর ছিঁড়ে কারা

সূর্য খোঁজে অন্ধকার রাতে

 

অন্ধকারে জ্বালাও আগুন

হাত পুড়ে যাক তীব্র আঁচে

বর্ণমালা জেগে ওঠে কোণে

কবিতা এভাবে বুঝি বাঁচে

 

বেশ তবে শান্ত হয়ে বোসো

মন নয়, যেন তৃণাঙ্কুর

বাঁচাও, বাঁচিয়ে রাখো তাকে

তাকে দাও আকাশ সুদূর

 

 

 

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন