![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৬২ |
মেরিকে আমি টুথপেস্ট খেতে বলিনি
টিউব থেকে পেস্ট নিয়ে
ব্রাশে লাগিয়ে
আমি নিজেই তা দিয়েছিলাম মেরির হাতে
হ্যাঁ
ও নিজেই পারতো এটা
কিন্তু আমি চেয়েছিলাম আর না বাড়ুক
ওর এ্যাপ্লাস্টিক এ্যানিমিয়া
(প্যারিসে এই রোগ আজ অব্দি মরণঘাতীই)
আর ব্রাশ করতে করতে
ভুলোমনে
খানিকটা পেস্ট যদি ও খায়
কী এমন ক্ষতি
ওকে তো আমি তেজস্ক্রিয় রেডিয়াম
খেতে বলিনি
বাইরে ট্যাংকের শব্দ, হুইসেল, সেনাদলের বুটের আওয়াজ, আর হাসপাতালের বেডে অসুস্থ প্রেমিকার মাথার কাছে বসে লেখা কবিতা
এই কবিতা আসলে হাসপাতাল নিয়ে লেখা কবিতা না
প্রেমিকা নিয়েও না
দেখো
তাকিয়ে দেখো
এই কবিতায় নেই শুভ্র কমনীয় নার্সের কুমারী এ্যাপ্রোনের খসখসানি
আর সংক্রামক আদরণীয়তা
অথবা প্রেমিকার চোখের হলুদ
দেখো
শুঁকে দেখো
ডেটল বা ন্যাপথলিনের গন্ধ এতে নেই
এই কবিতায়
এইটা এক ট্র্যাজেডি
একটা কবিতা লেখার চেয়ে একবেলা ঘুম উত্তম
এইটা
বারংবার আমায় বুঝিয়েছে আমার বউ
রাত জেগে বেশি বেশি পড়া অথবা সাদা কাগজের ওপর ঘাম-রক্ত-বমি
আর অনির্বাণ অনুভূতির মাখামাখি
কী বলা যায় একে
আত্মহত্যার অর্গ্যানিক আর্কেস্ট্রেশান
বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই আমি
আজ অব্দি এক লাইন কবিতা না লিখেও
এইটা কীভাবে জানে আমার বউ
যা হোক আমার আশঙ্কাপ্রবণ আর দায়িত্বশীল বউয়ের কথা
কেন আমি রাখতে পারলাম না
এইটা মারাত্মক এক ট্র্যাজেডি
আজও
সমর বিজ্ঞানীর প্রকৃতিবিদ্যা অধ্যয়ন
বিমানের পাখাগুলির সঙ্গে পাখির ডানার হুবহু মিল আছে
মানে একজন সমর বিজ্ঞানী একইসঙ্গে প্রকৃতিবিদও
আবার অস্থিপ্রকৌশলীও
জানো তো মিথপুরাণের গোলকধাঁধা সরায়ে
কচুরিপানা ফুলের হাড়মজ্জা-ব্যথাদীর্ণতা নিয়া
উড়তে উড়তে
পাখিরা যত দূরেই যাক
ওরা থাকে নিজেদের শ্বাসের কাছাকাছি
আর বিমানগুলোরও আছে খিদে বিরক্তি উল্লাস
হোক তা ভিয়েতনামে বা ত্রিপোলিতে
ব্যাপারটা একই
মেনিফেস্তো
বাকল উচ্ছেদ প্রক্ষেপণ, যাকে বলে মেনিফেস্তো
সবাক ভূগোল বিপ্লবীর হাতে
আধি বা তেভাগা বন্টনব্যবস্থা নাশ হলো
চায়ের কাপের মতো স্তন,
ধোঁয়ায় ময়নামতি -- মসলিন বায়ুতে কাঁপছে
বাতাবীর ডালপালা
ক্ষত কালো, লাল আর প্রতিবাদী, খড়ের গাদায়
খরগোশ, এখন উদ্বুদ্ধ
যেন পেয়ে গেছে কালিনীকূলের
পরকীয়া ঊরু -- এভাবে ক্রমশ গ্রাম-অর্থনীতি উন্মেষিত
শ্রমজীবী দেহ-দেহান্তরে।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন