![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৬২ |
দখলনামা
সুতরাং মণিকোঠায় যখন কোনো কিছুই পড়ে নেই আর-
স্ক্রল করে করে শুধু চলে যেতে ইচ্ছে করে
বহুদূর …কতদূর?
যেতে পারি কি?
পড়েই তো থাকতে হয় বর্তমানের শিকড় ধরে…
অকস্মাৎ তোমার-আমার কন্ঠস্বরের চেয়েও তীব্র
কোনো ফেরিওয়ালার ডাক চমকে দেয়!
সতেরো সেকেন্ডের জন্য স্থবির হয়ে থাকি…
এরপর ঘরের শাণিত দখলে
শুধু আমারই শ্বাসের নাদ, ধ্বনিবিকার।
উত্তর সন্ধ্যার দিকে
(ক)
নিলয়হীনদের মত তাড়া করে নগ্ন আকাশের ভয়,
সূর্য আড়ালে গেলে
গলাচেরা পাখির ডাক… মনমরা উদাস করে
এত শব্দ পরিচিত ট্রেনের নির্ঘোষে?
ভ্রূকুটি ঘিরে ধরে, থালাবাটি কাঁপে
জল ঢাকনাটাও ...
অণুর জ্বরে যেমন পরমাণু কাঁপে!
(খ)
সেগুন কাঠের একঘুমে দুপুর পার, বিকেল …
হাতের গোল টানে
ফিরে আসে দড়ির কাপড়
রোদ হটিয়ে মাটিতে নেমেছে বুদ্ধছায়া,
বুক জুড়ে এখন কিছুটা শীতলতা
শান্ত হতে দেখি
ধিকিধিকি পুড়তে থাকা জীবনকে
ক্লান্তি মুছতে মুছতে উত্তর সন্ধ্যার দিকে যাই।
অনুকল্প
অপর বেলাগুলোও অবেলার মত,
শ্লেটের মত অন্ধকার চেপে ধরেছে ছায়া ও ছায়াভঙ্গিদের …
আকারবিহীন হতে হতে সবই নিবর্ণী ধূসর-
নিয়নে আলোও নিজেই বাজে ছমাছম্!
শিউলি ঝরাবে
বাতিল কারখানার বিরান মাঠের অন্তর প্রতিবারই ভিজে, এবারও ভিজছে
কাশের সমুদয় বিস্তারে
কচি চালতা সবুজ হচ্ছে, গোটা আশ্বিন জুড়ে
তারই ঘ্রাণ।
খড়-বাঁশে মাটির দোমেটে প্রলেপে
প্রতিমার গড়ন ও ভাব স্পষ্ট হচ্ছে, দুয়ারে আগমনী
যেটুকু দেরি শিশিরে আঙুল ছোঁয়ানো
অপেক্ষার বাঁধ ভাঙলে শিউলি ঝরাবে উঠান।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন