কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ১৪৭

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ১৪৭

বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

অরিন্দম গোস্বামী

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৫২

 

সেই গন্ধ অমলিন

একটা অচেনা নম্বর থেকে ফোন। ধরব কি ধরব না ভেবে, ধরলাম শেষ পর্যন্ত। ভেসে এল - তুমি এখন কোথায়?

আমি অবাক। কেটে দিলাম। আমাকে 'তুমি' বলে ডাকার মানুষ এখন খুব কম। নিজেই তেমন অনেকের সঙ্গে সংযোগ বোতাম টিপে উড়িয়ে দিয়েছি।

এখন আমার নামের আগে 'সম্মাননীয়' বলে ঘোষণা করা হয় অ্যাম্পলিফায়ারে। দুবার ঘোষণা করা হলে, তারপর আমি আসন ছেড়ে উঠি। ওঠার সময় হাততালি পড়ে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমি দেখেছি, বিশেষ করে কোন কোন জায়গায় শ্রোতারা হাততালি দেয়, সেখানে তাদের সুযোগ করে দিতে আমি খানিকটা বিরতি নিই।

ছোটবেলা থেকেই লক্ষ্য করেছি, ভোরবেলায় কয়েকটা পাখি এসে চেঁচামেচি শুরু করে দিত আমার মাথার পাশে জানলার ধারে। সেখানে গন্ধরাজ ফুলের ঝাঁকড়া গাছটা শুকিয়ে গেছে। আমার বাতানুকুল যন্ত্রের বাইরের অংশটা ওই গাছের ওপর গরম হাওয়া ছড়ায় নিয়মিত।

টেলিফোনে রিং টোন বাজে। বুঝতে পারি, এবার হয়তো আবার নতুন করে নামতে হবে কোথাও। ওঠার সুযোগ তো খুবই কম - তাই।

এইসব মিথ্যা কথা - প্রমাণ করতে সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠি হাঁফাতে হাঁফাতে। দেখি, মাথার ওপর উড়ে যাচ্ছে একটা কাটা ঘুড়ি - একবার ডানদিক, একবার বাঁদিকে টাল খেতে খেতে। খানিকটা দূরে পোড়াকাটির বন, তার একপাশে যুগীর বাঁওড়।

ওপর থেকে দৃষ্টি নিচে নামাই। দেখি, শেষ বিকেলের আলোয় খিড়কির পুকুরের পাড়ে ঘষে ঘষে কড়াই মাজছে বলাইয়ের মা। দূরে কোথাও তোলা উনুনে আঁচ দেওয়ার গন্ধ ভেসে আসে। মনে হয়, এর পরেই তো আসে গরম ভাত ফোটার গন্ধ। মনে পড়ে, অনেক দিন গরম ফ্যান আর ভাত খাওয়া হয়নি, এক চামচ ঘি দিয়ে। পাখিরা দল বেঁধে ফিরে আসতে থাকে, নিজেদের ডেরায়। ওদের মধ্যে ফিরতে না পারার সমস্যা নেই।

 

 

 

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন