![]() |
| সমকালীন ছোটগল্প |
রাতের ট্রেন
আমবাসা আসতে আসতেই ট্রেনের কামরা ক্রমাগত খালি হয়ে যাচ্ছিল। পরের কামরাগুলো থেকেও লোকজন নেমে যাচ্ছিল দ্রুত। রায়ন বহুবছর পর কৈলাশহর আসছে। তাকে নামতে হবে কুমারঘাট। ওখানে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে কাকু। আগরতলা এয়ারপোর্ট থেকে ট্রেনে করে এতটুকুই একার পথ। তাকে বারবার বলা হয়েছে সে যেন এ সি কামরায় ওঠে। কিন্তু জীবনের দীর্ঘসময় নিউইয়র্কে কাটিয়ে দেবার পর আজ তার সাধ হয়েছে সাধারণভাবে আসার। তাই টিকিট কেটেছে জেনারেল কামরার। রায়নের চুল সামান্য লালচে। দারুণ ফিট চেহারা। আর লম্বায় তো সবসময়ই সাধারণ বাঙালি ছেলেদের থেকে অনেক বেশি। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা থাকায় সে একটা বিপজ্জনক এইজবারের প্রতিনিধিত্ব করছে। তাকে দেখে মধ্যবয়স্ক না যুবক ঠিক ঠিক বোঝা যায় না। এপ্রিল মাসের সন্ধ্যারাত। গরম ততটা তীব্র লাগছে না। কামরার জানলা চারটেই খোলা। হু হু করে বাতাস ঢুকছে। ট্রেনের গতি ততটা দ্রুত নয়। মন্থরবেগে চলছে। উড়ো কথা দু একটা কানে আসছে পাশের কামরা থেকে। সামনেই নাকি ক্রসিং। ক্রসিং হলে ট্রেন থেমে থাকবে বেশ কিছুক্ষণ।
রায়নের এতোবছর পর বাড়ি ফিরে আসার একটি গূঢ় কারণ রয়েছে। মা বাবা কেউ নেই। কাকু কাকীমা কাকাতো ভাই বোন আছে। রায়নের বিয়ের কথাবার্তা চলছে। দীর্ঘদিন বিদেশ থাকায় রায়নের নারীসঙ্গ হয়েছে প্রচুর। কিন্তু এখন একটিও টিকে নেই। বয়স একটু বেড়ে যাওয়ায় রায়ন ঠিক করেছে এবার সত্যি সত্যি বিয়ে করবে। বউয়ের নাম খুব মিষ্টি হতে হবে। যেন ডাকলেই রিনরিন করে বেজে ওঠে। রায়ন বহুদিন আগে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিল। মেধাবী ছাত্র হওয়ার সুবাদে স্কলারশিপ পেয়ে আসছে ছোট থেকেই। মা বাবা অল্পবয়সে চলে গেলেও ওর পড়াশোনা নিয়ে কাকা কাকীমাকে বিশেষ কোনো হ্যাপা পেতে হয়নি। আজ যৌবনের শেষপ্রান্তে পৌঁছে রায়নের মনে পরিবার গড়ার স্বপ্ন জেগেছে। কিন্তু থাকবে বিদেশেই। অনেকগুলো রিলেশনসিপের মধ্যে দিয়ে আসতে আসতে রায়ন ক্রমাগত ফাঁকা হয়ে গেছে। এমনকি দুঃখবোধটাও নেই। দুঃখও তো একটা আশ্রয়। দুঃখকে, বিরহকে নিয়েও মানুষ কিছুদিন বেঁচে থাকতে পারে। পৃথিবীতে মানুষের বেঁচে থাকার সময়টা যদি কেউ বলে দিতে পারত তাহলেই ঝামেলা চুকে যেত। ছোট আয়ু হলে তো আর কিছু করারই প্রয়োজন ছিল না। কতদিন বেঁচে থাকতে হবে কে জানে! রায়নের এখন সঙ্গী দরকার। মোটামুটি আশেপাশে থাকবে। অসুস্থ হলে জল দেবে, ব্যস এটুকুই।
ঘ্যাঁচ করে রেলের ইঞ্জিন একদম থেমে গেল। সামান্য কথাবার্তা শোনা গেল যাত্রীদের তারপর সব চুপচাপ। রায়ন বুঝল এটাই ক্রসিং। এর জন্য গাড়ি থেমে যাওয়া।
এতক্ষণে রায়ন উপলব্ধি করল সে হয়ত ট্রেনের পেছনদিকের একটি বগিতে উঠেছে। প্ল্যাটফর্ম প্রায় শেষ হয়ে গেছে এখানে। নতুন কোনো যাত্রী এই স্টেশনে তার কামরায় উঠে বসবে আশা করে লাভ নেই। জানলা দিয়ে বাইরের প্রকৃতিকে দেখার চেষ্টা করল রায়ন। এবড়ো খেবড়ো উঁচুনিচু টিলা। বাঁশের ঝাড় আর কলাগাছ। পূর্ণিমা বোধহয় কিছুদিন আগে শেষ হয়েছে। ঘোলাটে জ্যোৎস্না ছেয়ে আছে সর্বত্র। কিছু পাহাড়ি ফুল ফুটে আছে। অস্পষ্ট আলোতেও রায়নের মনে হলো ফুলগুলোর রঙ হলুদ। এই তার মাতৃভূমি, বিশাল পৃথিবীর এক কোণে পরে থাকা একটি ছোট্ট জনপদ। কাকু কাকীমা কি কোনো মেয়ে তার জন্য খুঁজে রেখেছে? কেমন মেয়ে? তার সঙ্গে বিদেশে গিয়ে থাকতে রাজি হবে?
অনেক দূরে যেন হকারদের হাঁকডাক শোনা যাচ্ছে। চা গ্রম, চা গ্রম, ঠান্ডা জল। এদিকে কি একজন হকারও আসবে না? বাইরের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়েছিল রায়ন। কামরাটা যেন মৃদু সুগন্ধে ভরে উঠেছে। পাহাড়ি ফুলের গন্ধ কি এরকম?
আশ্চর্য কামরার মধ্যে ইনি প্রবেশ করলেন কখন? রায়ন কি কিছুক্ষণের জন্য ঘুমিয়ে পড়েছিল? পুরনো দিনের বাংলা সিনেমার হিরোইনের মতো, মোটা ফ্রেমের কালো চশমা। সুতির শাড়ি, ব্রাউন কালারের ঝোলাব্যাগ। অন্ধকার আর হালকা আলোর মিশেলে হাতের অনামিকায় ঝিকমিক করছে পাথর বসানো সরু একটি আংটি।
রায়নের তাকানোটা ঠিক ভদ্রলোকের মতো হচ্ছে না। হতবাক ও বিস্মিত এবং কিঞ্চিৎ গিলে ফেলার মতো।
মেয়েটি বোধহয় অস্বস্তি বোধ করছে। উঠে গিয়ে খোলা দরজার সামনে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো।
ট্রেন ঢিক ঢিক করে চলতে শুরু করছে। আস্তে আস্তে স্পিড বাড়ছে। আরো বেশি করে হাওয়া ঢুকছে। দাঁড়ানোর ভঙ্গিটি বিপজ্জনক। দরজার মুখে মুখে দাঁড়ানো। যেকোনো সময় পড়ে যেতে পারে। খোলা আঁচল হাওয়ায় উড়ছে।
আশ্চর্য তো ইন্ডিয়ার মেয়েরা এখনো শাড়ি পরে ট্রেনে ওঠে! বিশেষ করে এর মতো অল্পবয়সের মেয়েরা! তার ওপর এখন তো বেশ রাত। একা একা ট্রেনে উঠেছে। ও কি অন্য কামরায় ছিল? ভিড় কমে গেছে বলে আস্তে আস্তে এই কামরায় চলে এসেছে?
রায়নের খুব ইচ্ছে হচ্ছে মেয়েটির সঙ্গে কথা বলার। বাংলায় কথা বলতে হবে। বহুদিন কোনো অনাত্মীয় বাঙালি মেয়ের সঙ্গে কথা বলেনি সে। কীভাবে শুরু করা যায়! পড়ে যাবেন তো, ভেতরে আসুন বলে একটি সাবধানবাণী দেওয়া যায়। রায়নকে দেখে ভয় পেয়েছে আসলে মেয়েটি।
দারুণ স্মার্ট রায়ন প্রচুর সাহস সঞ্চয় করে বারকতক ঢোক গিলে বলল, শুনুন, আপনাকে বলছি। ভয় পাবেন না, ভেতরে এসে বসুন। দরজার এতো কাছে দাঁড়াবেন না। নীচে পড়ে যেতে পারেন।
সেই মুহূর্তেই কর্কশ শব্দে ট্রেন ঢুকে পড়ল টানেলে। চারদিক মিশমিশে অন্ধকার হয়ে গেল, কামরার লাইটগুলো কি জ্বলছে না? আশ্চর্য তো।
টানেল শেষ হলো, মেয়েটি এখনো দরজার সামনেই নির্বিকার ভাবে দাঁড়ানো। রায়নের কথায় সে কর্ণপাতও করেনি। ফোন বাজল। ব্যাগ খুলে ফোন বের করে কথা বলল, তাহলে তো জীবিত মেয়েই, রায়নের কেন জানি মনে হচ্ছিল মেয়েটি কি আসলেই মেয়ে। যাকগে আর ওদিকে তাকাবে না। কিছুক্ষণ পর রায়নের গন্তব্য এসে যাবে।
জানলার দিকে মুখ ঘুরিয়ে রায়ন আর এক দফা অবাক হলো, আগে যাকে মৃদু জ্যোৎস্না মনে হয়েছিল এখন সেই জ্যোৎস্না সবলে মোহিত করে তুলেছে প্রকৃতিকে। চারদিক স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। ট্রেনের গতি কমে এসেছে, সামনে ষ্টেশন বোধহয়। আর প্রায় চলন্ত ট্রেন থেকেই রায়নের ক্ষণিকের সহযাত্রী মেয়েটি খোলা প্ল্যাটফর্ম দিয়ে জ্যোৎস্না কেটে কেটে পালকের মতো হালকা পায়ে হেঁটে চলে যাচ্ছে।
রায়নের বুকটা কেমন ভার ভার লাগছে। এধরনের একটি মেয়ে তার বউ হলে বেশ হয়। কুমারঘাটের আশেপাশেই তো মেয়েটি নেমে পড়ল। কাকুকে বললে কি খোঁজখবর করে দিতে পারবে না? অত্যন্ত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সে মেয়েটিকে লক্ষ্য করেছে। একবার দেখলেই চিনে নিতে পারবে।
কুমারঘাট স্টেশনে যখন ট্রেনটি ঢুকছিল তখন রায়ন দীর্ঘদিন পরে দেখা হলেও কাকুকে ঠিক চিনতে পারল। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছেন, অনেকটা বয়স হয়েছে আর একদম বাবার মতোই যেন লাগছে। ছোটবেলায় দেখা বাবা। কতদিন পর একজন রক্তের সম্পর্কের মানুষ। যদিও আগে এসব বিষয়কে একদম ফালতু মনে হতো রায়নের, কিন্তু বয়স বাড়তে বাড়তে মনের কোণে দুর্বলতা জমছে নিজের অজান্তেই।
কাকুর সঙ্গে গাড়িতে উঠল রায়ন। খুব একটা গরম লাগছে না, মনোরম আবহাওয়া।
কদিন থাকতে হবে রায়ন, বয়স টয়স হচ্ছে আমার, বাড়িটা ভাগ বাটোয়ারা করতে হবে, এসব তো বাস্তব জিনিস, তাই না! দাদা বৌদি অকালে চলে গিয়ে আমার ওপর বিরাট দায়িত্ব দিয়ে গেছে।
ভাগ বাটোয়ারা? কি বলছ কাকু। আমি এই দেশের জায়গা জমি নিয়ে কি করব! বাকি জীবন দেশের বাইরেই থাকব ঠিক করেছি, বলতে গিয়েও একটু যেন থমকাল রায়ন।
তুই কি ঠিক করেছিস না করেছিস জানি না, বিয়ে করবি, তারপর নানা কারণে জীবনটা বদলেও যেতে পারে তো!
কৈলাশহরে ঢুকছে গাড়ি। কৈশোর আর প্রথম তারুণ্যের শহর। আসলেই কি শহর? না এখনও গ্রাম, চেনা মাটি কি আদর করে তাকে ধরে রাখতে পারবে?
বহুদিন পর নিজের বাড়িতে এসে রায়ন বাড়িটাকেই চিনতে পারছে না। কাকু বেশ সুন্দর করে বিল্ডিং বানিয়েছে, বাড়ির সামনে পুকুরটাও রয়েছে আর পুকুরের চারপাশে সুপুরি গাছের সারি, দুটো ঝুঁকে পড়া নাড়কেল গাছ, গেটের কাছে বোগেনভিলিয়ার ঝোপ। তার চাইতেও আনন্দের কথা কাকাতো ভাই বোন দুটো বড়ো হয়ে গেছে। তার যে এতো সুন্দর দুটো ভাইবোন আছে এখানে না এলে ঠিক বুঝতেই পারত না। তারা আবার ওকে দাদা বলে ডাকে। একদিনের মধ্যেই কাকাতো বোন ঝিমলি আর রায়নের মধ্যে গোপন আঁতাতপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেল।
রায়ন ইতঃস্তত করে শেষপর্যন্ত ঝিমলিকে জিজ্ঞেস করেই ফেলল, সুতির শাড়ি, কালো ফ্রেমের চশমা পরা কোন মেয়েকে সে চেনে কিনা যে কুমারঘাটে থাকে!
কেন? কাউকে দেখে ক্র্যাশ হলে বুঝি!
হ্যাঁ
ওমা সে কী! তুমি তো দেড়দিনও হয়নি এসেছ দাদা, এর মধ্যেই কি করে… কেমন করে?
ঐ মেয়েটাকে খুঁজে দে না ঝিমলি!
তোমার মেয়ে তো প্রায় ঠিক করে রেখেছে বাবা।
হু, সে তো আমিই আগে বলেছিলাম।
কাল কুমারঘাট চল আমার সঙ্গে। শুধু এইটুকু বর্ণনায় কাউকে খুঁজে বের করা যায় না রায়নদা!
আমার মন বলছে যাবে, কালই চল। কাকুর দেখে রাখা পাত্রীপক্ষ চলে আসার আগেই।
খরখরে রোদ উঠেছে চারদিকে। রায়ন সব সহ্য করতে পারছে। মনে হচ্ছে নিউইয়র্ক আর কুমারঘাট দুটোর মধ্যে শুধু একটিই পার্থক্য, একজন আধিভৌতিক মেয়ের উপস্থিতি।
তুমি এসব দোকানে চা খেতে পারবে রায়নদা?
আমি সব পারব। রাস্তার ধারেই বসতে হবে, ভালো হোটেলে ঢুকে বসে থাকলে তো কিছুই দেখব না।
আমাকে যে কি সমস্যায় ফেলেছো রায়নদা! ঝিমলি কলেজ থার্ড সেমিস্টারে পড়ছে, এই জেনারেশনের মেয়ে, প্রেমট্রেম নিয়ে আদিখ্যেতা একদম পছন্দ করে না। রায়নদার নাকি কত মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এখন এই লেজে গোবরে অবস্থা কি করে যে হলো?
ধ্যাৎ, কী ভালো মেয়ে দেখে রেখেছে বাবা ওর জন্য। ঝিমলিরও দারুণ পছন্দ। মেয়েপক্ষ তো ধরেই নিয়েছিল কদিনের মধ্যেই বিয়ে। ঝিমলিও দাদার বিয়েতে খুব এনজয় করবে বলে অপেক্ষা করছিল। এখন এক আবোলতাবোল ক্র্যাশের ঠেলায় অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলেছে রায়নদা। একজন দারুণ হ্যান্ডসাম স্মার্ট ভদ্রলোক কি করে এতো খ্যাপাটে হয়ে গেল? বাবাই বা কী জবাব দেবে মেয়ের বাড়িকে?
ঝিমলি একটু বিরক্তই হচ্ছে। সকালে খেয়ে বেরিয়েছে, কুমারঘাট বাজারে খুব সাধারণ একটি চায়ের দোকানে একটানা এতক্ষণ ধরে বসে আছে, কোনো মানে হয়?
আজ এপর্যন্তই, চল ঝিমলি এবার কিছু খাওয়া যাক, তোর খিদে পেয়েছে জানি, এখানে নিশ্চয়ই আশেপাশে ভালো খাওয়াদাওয়া করার হোটেল আছে। খাওয়ার পর আজ বাড়ি চলে যাবো। কাল থেকে তোকে আর আসতে হবে না।
থেকে মানে? ঠিক বুঝলাম না।
আমি কয়েকদিন আসব রোজ, আফটারঅল মেয়েটিকে খুঁজে বের করে আমার জিজ্ঞেস করতে হবে, আমি কি এতোই খারাপ লোক যে চলন্ত ট্রেন থেকে সে নেমে গেল! আর ও কী করে ওমন হালকা পায়ে জ্যোৎস্না কেটে কেটে হেঁটে যায়!
তুমি কি গল্প কবিতা লেখো রায়নদা? এতো সফ্ট ল্যাঙ্গুয়েজে কথা বলছ!
রায়ন উত্তর দিল না, সে নিজেও ভ্যাবচ্যাকা খেয়ে আছে কেন জানি!
তিনমাস হলো রায়ন এসেছে। রায়নকে আটকে রেখেছে শান্ত একটি বাড়ি, যেখানে অনেকদিন আগে মা বাবা ছিল, মিষ্টি দুটো ভাইবোন, পৃথিবীতে এসবই বোধহয় আশ্রয়। তবু রায়ন থাকবে না, অপেক্ষা শেষ হলেই ফিরে যাবে, কিন্তু কিছুতেই ফিরে যাওয়ার টিকেট করতে পারছে না, বিয়েও করা অসম্ভব লাগছে, কারণ শুধু একজন বিশেষ মেয়েকেই খুঁজছে সে।
কেন জানি রায়নের বদ্ধমূল ধারণা হয়েছে, রাতের ট্রেন মানুষকে ভালোবাসার গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন