সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

শান্তনু গঙ্গারিডি

 

সমকালীন ছোটগল্প


হাফালোগ

আলতাফ হাঁফাতে হাঁফাতে বললো — জানো তো পৃথিবীতে সকল অমঙ্গলের কারণ হলো এটাই; মানুষ তার মনের গল্পটা বলতে পারে না। এটা মোর কথা নয় গো।…

পাগলু— ওটা তো মনোবিদ কার্ল গুস্তভ ইয়ুং বলেছেন। এরম উদ্ধৃতি টুদ্ধৃতি বাদ দিয়ে তুমি তোমার গল্পটা বলে ফেলো না! বাধা দেবার কেউ নেই।

আলতাফ— দেখো না, বাড়ির পেঁপে গাছের দুটো পেঁপে পাথরের মতো শক্ত হয়ে আছে এবং দুটোর গায়েই এভাবে আঁচড় কাটা! কিছু দিন আগে কুড়িয়ে পাওয়া তাবিজের সাথে এর কোনো সম্পর্ক আছে কিনা জানি না। তাছাড়া আমাদের অপরাধটা কী তাও বুঝতেছি না। আমাদের প্রতি কিসের এতো অভিযোগ অভিমান!

হেমন্ত— ধুর মিঞা। কোনো প্রাণী আঁচড়ে দিয়েছে। মনে হয় বিড়ালের আঁচড়।

রঘুনাথ— না না। আমি নিশ্চিত এগুলো বিড়ালের আঁচড় না।

নাজমা— কেউ কালাজাদু করতে পারে। সাবধান। দাগটা একটু অন্যভাবে করেছে। কেটে দেখেন ভিতরে কেমন। না বুঝে খাবেন না।

শাহিন— প্রেশার কুকারে বিশ মিনিট রান্না করলে তাবিজ টাবিজ সব গলে যাবে। শক্ত পেঁপে গলে ভর্তা হয়ে যাবে।

আবদুল— খাইলে খান, না খাইলে আমারে দিয়া দ্যান।

সায়রা— আমার এক কাজ়িনের পেঁপের গাছে এমন শক্ত পেঁপে ছিলো। এটা পেঁপের জাতের উপর নির্ভর করে।

জোছনা— জীবনে চড়াই উৎরাই, অসুখ বিসুখ থাকবেই! আমরা ভাবি কালোজাদুতে হয়েছে। ওসব হয় না কিছুই; কেবল যার যার বিশ্বাস। পেঁপের আঠা চুল ও ত্বকের উপকারী, হজম বৃদ্ধিকারক বিধায় কেউ চিরে নিয়ে গেছে। নিশ্চিন্তে খান।

সবুজ— পেঁপে প্র্যাগনেন্ট থাকতে পারে। পেঁপে কাটার আগে খুব সাবধান!

সাকিব— কেউ পেঁপের কষ বের করেছে অথবা বাচ্চাদের কাজ। আপনাগো আর কাম নাই, কিছু হলেই জাদুটোনা।

শাহনাজ— এগুলো মানুষেরই করা দাগ। কেউ হয়তো কষ বের করার জন্য এটা করেছে। তবে খুব বেশী সন্দেহ হলে খাবেন না...।

পারুল— আমার তো মনে হয় কেউ কাঁটা চামুচ দি কেইটেছে, মানে দাগ দিছে। পঁচা লিভার সারাতে রস খাইছে।

আরিফুর— এগুলা মা‌টির পেঁপে বোঝাই যা‌চ্ছে।‌ যতসব ফাজলামি। কৃষ্ণনগরের পুতুল।

তানিয়া— আরে ভাই, মাটির উপর বেড়ে ওঠা গাছে কি মাটির ফসল ফলে! আসল ফল। এটা হয়তো পোলাপাইনের নষ্টামি।

নাজমা— খেয়ে নিন। সমস্যা নাই। সব সময় দোয়া কালাম পড়ুন; বাড়িতে কোনো খারাপ শক্তি আসবে না।

নাহিদ— এগুলো মাটির পেঁপে। মাটি পোড়ালের লাল লাল হয়ে যায়। এই তো ভেতর থেকে লালের মতো দেখা যাচ্ছে।

আয়েশা— কোথায় লাল দেখা যাচ্ছে? যাকগে, না খাওয়া ভালো।

হাসান— কোনো দুষ্ট ছেলের কাজ নিঃসন্দেহে।

কমলিনী— পেঁপের গায়ে আঁচড় দিলে গা বেয়ে কষ পড়ে। এটা করতে ও দেখতে ভালো লাগে। তাই হয়তো কেউ কাজটা করেছে। এত ভয় পেলে চলবে?

 

(২)

কমলজা— এদেরকে কি ভাত দেওয়ার কেউ নেই? এদের থালায় দু হাতা গরম ভাত দিন তো!

ভাস্বর— যদি তোমার জানা না থাকে কোথায় যাচ্ছ, তবে যে কোনো পথই তোমাকে সেখানে নিয়ে যাবে। হা হুতাশ করে লাভ নেই।

রমেশ— টাকা ধার দেওয়ার সময় অন্যের দুঃখ শুনতে হয়। সেই টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে নিজের টানাটানির কথা বলতে হয়। আজব দুনিয়া।

বরেণ— খবর পেয়েছ? জমি হাঙরের নজর আমাদের পটাশপুরেও পড়েছে গো। আর স্বস্তি নেই।

বলরাম— জঙ্গলের অধিকার শেষ হয়ে যাচ্ছে। সেটাও বলো। উদারীকরণ বেসরকারিকরণ যেন আজকের দিনের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বরেণ— তা আর বলতে। বিল্ডিং মেটেরিয়াল সাপ্লাই লেবার সাপ্লাই সব অই একজন‌ই করবে। লিখে রাখো।

মলয়— কে বা কারা বিগত বছরগুলোতে সুন্দরবন ধ্বংস করলো তা প্রকাশ করতে হবে।

রুইদাস— অনেকে নাকি বেসরকারি ক্ষেত্রে চাকরি পাচ্ছে।‌ কতটাকা বেতন দেয়? উপযুক্ত কাজ খুঁজে হয়রান হয়ে তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ওসব কোম্পানিতে ঢুকছে। এগুলো আসলে চাপা বেকারত্ব, সাপ্রেস্ট আনএমপ্লয়মেন্ট।

মলয়— বুজলে ভায়া, হরির লুটের জমানায় আমরা সবাই হরি ঘোষের গোয়ালে নাড়া বেঁধে দিব্য বেঁচে আছি।

বিজয়— চলো, তোমাকে লেডিস কামরায় তুলে দিচ্ছি। দেয়াল পত্রিকায় তোমার কবিতাটা পড়েছি। এক কথায় অসামান্য। এমন দুঃখের কবিতা লিখতে নেই গো কমলাক্ষী।

জটলা থেকে অনতিদূরে জনৈক পান্থ কান পেতে বিভিন্ন গ্রুপের আলোচনা শুনছিলেন। যেহেতু শুরু থেকে ছিলেন না তাই আঁচ করার চেষ্টা করছিলেন। জনৈক পান্থ আসলে এলাকার ঢোল গোবিন্দ বাবু।‌ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল বিষয়ে তাঁর তুমুল আগ্রহ। কিন্তু না, তিনি কিন্তু কোনো আলোচনা সমালোচনায় অংশ নেন না। সাতে পাঁচে নেই। ঝামেলায় নেই। আখের রসটুকু যদি নিংড়ে নেওয়া গেল তো ছোবড়া দিয়ে কি হবে? মধু খেতে গিয়ে শরীরে হুল ফোটাতে নেই। তাই তিনি সামাজিক তর্কবিতর্ক বিষয়ে কোমাচ্ছন্ন ভাব নিয়ে থাকেন।

দুর্জনের কাছে তিনি কান পাতলা ঘোড়েল লোক। অথচ, একদা তিনিই কানে খাটো ছিলেন।‌ বাঁ কানে কিছু শুনতে পেতেন না। বয়স যখন চল্লিশ তখন কানের হাড় অপারেশন করিয়ে তবে স্বস্তি পেয়েছিলেন। ধূসর রঙের জ‌ওহর কোটের বুক পকেট থেকে বিড়ালের কানের মতো একটি রুমাল উঁকি দিচ্ছে। হাল্কা শীতে এই একটি পরিধানে তাঁকে দেখা যায়।

সেদিন ভোরে ফারুকের বাড়িতে রেইড হয়েছিল। ফারুককে তুলে নিয়ে গেছিল। দিকে দিকে রটে গেল ফুলেরতল অবৈধ রোহিঙ্গাতে গিজগিজ করছে।‌ একটাকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়েছে। টিভিতে ব্রেকিং নিউজ়। ওমা, সাত মাস গেছে কী যায়নি জানা গেল ছোকরাটা পাকিস্তানি।‌ এখানে এসে ফরেন এক্সচেঞ্জের কাউন্টার দিয়ে ছিল। ঢোল গোবিন্দর বড়ো জামাই ওর কাছে মুদ্রা বদলাতে গেছিল।

এই তো বছর কুড়ি আগে অনেক লড়াই আন্দোলন ডেপুটেশনের পর এখানে হল্ট-স্টেশন হলো। তারপর থেকে এই জনবসতি আড়ে বহরে হুহু করে বাড়তে লাগলো। সারা তল্লাটের সকল মানুষ জানেন এই প্রথম বার কোনোও একটা সামাজিক কাজে ঢোল গোবিন্দ বাবু খানিক উৎসাহ দেখিয়েছিলেন। ডেপুটেশনের পাঁচ শো একোত্রিশ জনের মধ্যে পাঁচ শো তেইশ নম্বরে ঢোল গোবিন্দ চাকলাদারের নাম জ্বলজ্বল করেছিল এবং তা দেখিয়ে আরো আট জন সাতে পাঁচে না থাকা কঠিন ভদ্রলোকের স‌ই বাগানো গেছিল। লজ্জাহীন নির্লিপ্ত মানুষটাকে সেই প্রথমবার অনেকেই সুদৃষ্টিতে দেখেছিল।

 

(৩)

আসলে আঁচড় শব্দটি ঢোল গোবিন্দর কানকে খাড়া করে তুলেছিল। এই তো গত পরশুর ঘটনা। বৃশ্চিক রাশিতে লেখা ছিল, নিজস্ব কৌশলে সকল সমস্যা মিটিয়ে পাড়া প্রতিবেশীদের তাক লাগিয়ে দিতে পারেন।‌ একাধিক উপায়ে আয় বৃদ্ধি যোগ। সকাল থেকে বেশ খুশি খুশি ভাব ছিল। তার মধ্যে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। নাইট ডিউটি সেরে বাড়ি ফেরার পথে অজানা অচেনা খেচর খামচি দিয়ে চলে গেল ছোট মেয়ে কমলিকাকে।

—বুঝলে ঢোল আমার নামের বানান হ্রস অ দিয়ে শুরু না হয়ে সন্দুক্কো ও দিয়ে শুরু হলে মাস্‌লম্যান ভেবে সিওর  কেটে দিত।  প্রাণের বন্ধু অমর সাধুখাঁ ফাইনাল লিস্ট ডাউনলোড করতে করতে তীর্যক মন্তব্য করল।

অনীক স্যারের উদ্ভ্রান্ত অবস্থার উন্নতি হয়নি। এখনো ডাক আসে।‌ আচ্ছা বলুন তো, একটা মুমূর্ষু লোককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াটাই কি কাল হলো! পথচারীকে আঘাত করার পর দ্বি-চক্রযানটা হাওয়া হয়ে গেছিল। অনীক স্যরই অচেনা অজানা আহত লোকটিকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে গেছিলেন।‌ লাভের মধ্যে লাভ হলো আজ অব্দি শান্তি পেলেন না। প্রিসাইডিং অফিসার হয়ে পোলিং বুথে সময় মতো পৌঁছতে না পারায় এক্সপ্লানেশন করা হয়েছিল। বিষয়টা আদালত পর্যন্ত গেছিল।

 

(৪)

ফটিক মিস্ত্রী — মনে আছে, আব্বাসের দোকানে সেই যে এক বিড়ি পাওয়া যেত।‌ এক টান দিলে দুনিয়ার খুশি ভাব এসে যেত। …বলছি, সেই সুদিন আর নেই। বুজলে হে, সদিচ্ছায় ঘাটতি রয়েছে বলেই তুমি আর মাটিতে পা ফেলছ না।

যার উদ্দেশ্যে বলা তার ভ্রুক্ষেপ নেই। কবি কবি ভাব নিয়ে সে বলে— অই দ্যাখো, গুচ্ছ গুচ্ছ মেঘ এসে আকাশে সাদা ফুলের বাগান তৈরি করেছে।

কত লোকের কত ভাবনা। অনেকেই আবোলতাবোল ভেবে, উদ্দেশ্য বিহীন ভাবে ঘোরাঘুরি করে দিন শেষে বাড়ি ফিরে যায়। কেউ আবার যুক্তির বাইরে কোনো কিছু চিন্তা করে না। অনেকে নির্লিপ্ত, অনেকে নির্লজ্জ, অনেকে এক শো ভাগ স্বার্থপর।

ঢোল গোবিন্দবাবু ভাবেন, হল্ট থাকার সময় সবাই সতর্ক থাকত।‌ গ্যালোপিং লোকাল বিষয়টা না জানা থাকায় রবীনবাবুর বাড়িতে পেয়িংগেস্ট থাকা ছেলেটি ট্রেন চাপা পড়ে বেঘোরে মারা গেল। টানা হুইসেলের অর্থ জানা ছিল না ছেলেটার।‌ খবর পেয়ে বৃদ্ধা মা এসে আছাড়ি পিছাড়ি কেঁদে ছিল। কঠিন হৃদয় ঢোলবাবু পর্যন্ত চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।

বাবলু— তিরিশ টাকায় পাঁচ শো গ্রাম আমুদি মাছ। সঙ্গে নিজের বাগানের বেগুন, সিম, পিঁয়াজকলি দিয়ে মনোহরা ঝাল চচ্চড়ি। বিরিয়ানি তফাৎ যাও বাপু!

নয়ন— আমুদি কড়া করে ভেজে মুসুর ডাল আর গন্ধ লেবু। সাপটে সুপটে পেটে চালান।

ঢোল গোবিন্দর হাসি পায়।‌ তিনি কাঁচা পেঁপের সাদা রস নারিকেল তেল ও চুন মিশিয়ে গলার আঁচিল লাগিয়ে সারিয়ে তুলেছিলেন।

উপর্যুক্ত কথপোকথন পুরুষ পেঁপে গাছটি শুনছিল আর মনে মনে হাসছিল।‌ তাকে ফলবতী করার জন্য কত ছাঁটাছাটি কাটাকাটি করা হয়েছিল। লাভ কিছু হয়নি। মাটির ভেতরে শেকড় চারিয়ে মাথা তুলে আছে।

ধরিত্রী থেকে অনেক উঁচুতে উঠে যাওয়ায় ফ্ল্যাট বাড়ির ছাদ বাগানের পেঁপে গাছেরা কিছুটা অন্য টাইপের। ফল মিষ্টি হলেও সাইজে ছোট। ওরা নিজেদেরকে কেউকেটা ভাবে। একটা ভালো দিক রয়েছে। মনোযোগ দিয়ে টিভি শোনে।

"গাল্ফ ওয়র / টি-টুয়েন্টি ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা / মেট্রো লাইন সম্প্রসারণ আটকে আছে / আপনার পছন্দের গান / ফ্রি জ্যোতিষ চ্যানেল…।‌"

মানুষগুলো কেমন জানি অস্থির মনের হয়ে গেছে। লাফিয়ে লাফিয়ে চ্যানেল পরিবর্তনের ফলে কোনো চ্যানেল‌ই পুরোপুরি শোনা যায় না। চারিদিকে এত কথা।‌ এত এত আলোচনার মধ্যে একটু মনোযোগ দিয়ে একটা কথা শোনার আগ্রহ কি শেষ হয়ে গেছে? সবাই যে যার কথা বলে চলেছে। অন্যের বক্তব্য শোনার ইচ্ছে নেই। নিবিষ্ট শ্রোতা নেই। এসব নিয়ে গন্ধরাজ লেবু বা পঞ্চমুখী জবাদের রাগ বিরাগ কিচ্ছুটি নেই। অতিমারি কালেও ওরা নির্লিপ্ত ছিল।

 

(৫)

"তুমি যেদিন আমাকে বলেছো ভুলে যেতে,

কত যে চোখের জলে ভেসেছি,

ভুলে যাবো আমিও ভেবেছি,

ও বন্ধু, ভুলে যাবো আমিও ভেবেছি..."

অলিপের বাবা সরকারি বা বেসরকারি চাকরির চেষ্টা করেননি। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি বড়ো রাস্তার কাছাকাছি এসটিডি বুথ খুলেছিলেন।‌ ছোট্ট অলিপ বাপের নেওটা। কত মানুষ এসে দূরদূরান্তে ফোন করত। সন্ধ্যার দিকে মন্দিরের মতো জেগে উঠত আট ফুট বাই সাত ফুটের ঘরটা।‌ অলিপ কান খাড়া করে কথা শোনার চেষ্টা করত। অধিকাংশ সময়েই এক পক্ষের কথা শুনে একটা কাল্পনিক সংলাপ তৈরি করে নিত।

সেই অলিপ এখন একটি নাইট ক্লাবের কর্মচারী। এক শ্রেণির লোকের বৈভব দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বার ডেন্সাররা আলোর রোশনাই আর গানের ঝংকারে টংকারে ইন্দ্রজাল ছড়িয়ে দেয়। ধনাঢ্য বাবুরা খোলামকুচির মতো পাঁচ শো টাকার নোট হাওয়ায় উড়িয়ে দিতে থাকে।

সোমবার সকালে দোস্ত ঋষভের দেখা পেয়ে আর সে থাকতে পারে না। —আরে, কি আর বলবো। মনটা খারাপই হয়ে আছে।

—এত মন খারাপের মতো এমনকি ঘটলো বন্ধু!

—বাধ্য হয়ে বাউন্সারের চাকরি করি তাই বলে তো মায়া মমতা অনুভূতি হারিয়ে যায়নি ভাই।‌ সেদিন থেকে তোকে বলবো বলবো ভেবেও বলতে পারিনি। …ওদের তো অভাবের সংসার না। তবু…!

— ভনিতা তুলে রেখে বলেই ফেল না।

—বলবো কিন্তু কালী মায়ের দিব্বি, দু কান করবি না।

—এই যে, রক্ষাকালীর কিরা।  গলায় হাত রেখে কৌতুহলী ঋষভের গড্-প্রমিজ়।

—বলছিলাম… পাড়ার সেই ওকেই তো দেখলাম পরপর দু দিন। যতই সাজুগুজু করুক না কেন…।

—তোর নাইটক্লাবে? কে, কোন সে নারী? চটজলদি বল।

—বলছি…।

—আরে বন্ধু, আমার তাড়া আছে। গ্যাস সার্ভিসিঙের লোকটাকে কল করার পরেও এল না। …বলে ফেল, কাউকে বলবো না। ইতস্তত না করে নামটা বল।

—ক ম ল…

"পরমন্দ মারণদোষ কাটাতে চলে আসুন শ্বেতকালী মন্দিরে। ১৮ মার্চ অমাবস্যার রাতে মারণ স্তম্ভে বিদ্বেষণ উচাটন কালসর্প সাড়েসাতি মাঙ্গলিক সহ সকল গ্রহের কু নজর কাটানো হয়। তবে কোনো ক্ষতিকারক কার্য করা হয় না।…"

হঠাৎ করে একটা সাইকেল রিক্সা মাইকিং করতে করতে এসে তড়িৎ গতিতে চলে গেল। ডেসিবেল পার করা আওয়াজে অলিপের উচ্চারিত নামটা তৃতীয় পক্ষের কর্ণকুহরে প্রবেশ করলো না।

 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন