![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৬ |
স্ল্যাং
বাংলা খিস্তির অভিধান লেখার একটা প্রকল্প হাতে নিয়েছিল আদিনাথ
হিন্দু স্কুল থেকে সেবার হায়ার সেকেন্ডারিতে ফার্স্ট
হয়েছিল সে
তখন পয়সা দিলে ইংরেজি স্কুলে পড়া যেত সহজেই
সরকারী বাংলা স্কুলে সুযোগ পাওয়া সহজ ছিল না।
অনেকদিন পরে আবার
তার সাথে দেখা হয়ে গেল
অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক
খর্বুটে ক্ষয়া ক্ষয়া চোখ
মুখে একটিও অপশব্দ নেই
অভিধান কতদূর, কবে তা বেরোবে আদিনাথ?
গত পঞ্চাশ বছরেও বাংলাভাষায় নতুন কোন স্ল্যাং আবিষ্কৃত
হল না আদিনাথ
তফাৎ বলতে শুধু আড়ালে বলার সব পুরনোগুলোই
লোক পরিসরে এসে গেছে
খিস্তি যদি খিস্তিই না থাকে আদিনাথ
এ ভাষায় তোর কোন অভিধান হবে?
সন্ধ্যাতারা ও লুব্ধক
কথকের সন্ধ্যাতারা এসে দাঁড়িয়েছে
দরজায় একা
কবিতার লুব্ধক তাকে হাত ধরে ঘরে
নিয়ে এলো
নিত্যানন্দ বলতে পারো
নতুন কিছু আর কী ভাবে লেখা যেতে পারে?
যা আজ বলতে চাই আমি
সব তুমি কাল বলেছিলে
হতে পারো সনাতনী তাই বলে
ফল কি নিষিদ্ধ হতে পারে?
ভক্ষ্য নয় একথা জিব্রিল বলেনি কখনও
সে যারাই নামগান করে করুক,
কৃষ্ণসংকীর্তন-
তুমি তো আসলে প্রভু দেহের পূজারী
আখ্যান হোক বা কাব্য
সন্ধ্যাতারার জন্য লুব্ধকের অন্বেষণ
আলো ফুটে গেলেও শেষ হতে চায় না
তুমি আর কাকে প্রভু খুঁজে খুঁজে মর!
গাধা
একাকী একটি গাধা
সন্ধ্যাবেলায়
দূরগামী বাসের পাশে এসে দাঁড়িয়ে থাকে,
রোজই দাঁড়ায়।
বাক্স প্যাঁটরা ওঠে ছাদে
স্কুটার সাইকেল সব একে একে সেঁধিয়ে যায়
রাতের সে বাসটির পেটে।
খালাসী হুকুম করে
পা রেখে খোলা দরজায়।
ঠায় দাঁড়িয়ে গাধা
রোজ এসে সেখানে ঝিমোয়,
হয়ত নিজেকে তার অলস ও বেকার মনে হয়
অথবা সে ভেবে নিতে থাকে
দূরগামী বাসে, কেউ একদিন এসে,
নিশ্চিত তুলে দেবে তাকে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন