শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

তথাগত চট্টোপাধ্যায়

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৮


গায়ক

অতনুর গাওয়া গান আর তবলচির তবলায় দাদরার বোল – মুগ্ধ শ্রোতাদের মাতিয়ে দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হল। করতালির শব্দে প্রেক্ষাগৃহে কান পাতা দায়। একের পর এক মান্না দে-র কালজয়ী গান নিখুঁত দক্ষতায় গেয়েছে অতনু। যেন অবিকল সেই কণ্ঠ, শ্বাস-প্রশ্বাসের ওঠানামা, সুরের মুর্ছনা। দর্শক-শ্রোতারা তাকে এইজন্যই তো বারবার চায়। বলে – এ তো একদম হুবহু গায় রে! চোখ বুজলে মনে হয় মান্না দে-ই গাইছেন।

ব্যাকস্টেজে ফিরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রইল অতনু। পুরনো বাংলা গান ছাড়াও আধুনিক বাংলা গান তার খুব প্রিয়। বেশ কিছু গানে সে নিজেই সুর দিয়েছে, কয়েকটির গীতিকারও সে। অথচ সেইসব গানের জন্য শ্রোতা খুঁজেই পায় না অতনু। আয়োজকদের একটাই আবদার, “দাদা, ওসব গান থাক, মানুষ যা চায় সেটাই দিন প্লিজ!”

আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল অতনু। এমনটা কি হতে পারে না, কোনও একদিন গোটা অনুষ্ঠান জুড়ে অন্য কারও গান নয়, নিজের লেখা ও সুর দেওয়া গানই গাইবে সে! আর তা শুনে প্রেক্ষাগৃহ এভাবেই ফেটে পড়বে হাততালিতে!

নিজের গানের জন্য করতালির তৃষ্ণা নিয়ে চোখ বন্ধ করল অতনু।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন