![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৮ |
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পিং পং
সমাজমাধ্যমে যা পোস্ট করা হয় – ছবি, ভিডিও, গল্প, অনুভূতি, সেইসব তথ্যগুলো নিয়ে বহুজাতিক সংস্থারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় একটা পিং পং বল শব্দের অন্ধকারে টেবিলটেনিসের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত কোনো বহিরাগত বলপ্রয়োগ ছাড়াই চলাচল করতে থাকে। পিং পং যখন কিং কং-কে খুঁজতে ব্যস্ত একটা ‘আমি’দের জঙ্গল ভেসে ওঠে স্ক্রিনে। পিং পং কিং কং-এর সঙ্গে হাত মেলায় সৌজন্যের খাতিরে না ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে সে সব কাসুন্দি না ঘেঁটে দেখতে থাকি গাছেদের শিকড় কীভাবে লক্ষ বছর ধরে ছড়িয়ে পড়েছে নিউরনে। প্রকৃতি প্রশিক্ষণে ডিএনএ হেলিক্সে কত রূপ অরূপের অবিরাম দড়ি টানাটানি চলেছে। কত লক্ষ-কোটি জীবের কোটি-কোটি পোস্ট নিয়ে প্রকৃতি চালিয়ে যাচ্ছে তার প্রশিক্ষণ। পিং পং বলের প্রতি ড্রপে প্রকৃতি ছড়িয়ে দেয় ডিএনএ, আরএনএ। ডারউইনও প্রকৃতিকে মূর্ত রূপে দেখেছিল বলে পেগান বলে গালি শুনতে হয়েছিল। পেগান হলেই যে প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে হয়, মিশে যেতে হয় তোমার আমার ইকোসিস্টেমের সঙ্গে। আমি শুধু সফটওয়্যারের মাটি খুঁড়ে পোকা-টোকা খুঁজতে গিয়ে দেখতে পাই একটা ভূতুড়ে পোড়ো বাড়ি। আপনি হয়তো এই বাড়িটা পোস্ট করে দেবেন গোদারের সিনেমার সেই বিখ্যাত উক্তিটা দিয়ে। যদিও আমি জানি এই বাড়ি কোনো রূপকের বাড়ি নয়। গাছের শিকড়গুলো ফাটিয়ে দিচ্ছে দেয়ালগুলো। কোনো দ্ব্যর্থবোধকতা নেই এই বাক্যের মধ্যে। শুধু আছে ঢেউ, আছে প্রবাহ। ইকোসিস্টেমের প্রতিটা কণা পরস্পরের হাত ধরে আছে, বাঁচবার তাগিদে। প্রতিটা বুদ্ধির বিকাশ, প্রতিটা শিল্পের বিকাশ, প্রতিটা এন্টারটেনমেন্টের শুরু, প্রতিটা ইলেকট্রনের প্রবাহ আসলে পিং পং ও কিং কং-এর হাত মেলানোর মধ্যেই বেঁচে থাকে। কৃত্রিম হোক, অথবা প্রাকৃতিক, বুদ্ধিমত্তা পেগান, ইকোসিস্টেমের পুজো ধূপে-ধুনোয়-ফুলে-ফলে এবং পিং পং-এর নদী পারাপার
পাতালরেল সিজন ১, এপিসোড পাইলট
কিউআর স্ক্যান করে প্ল্যাটফর্মে নামতে নামতেই ট্রেন চলে আসে। কী কপাল! স্বয়ংচালিত দরজা খুলতেই ঢুকে দেখি একটা সিট ফাঁকা! বসার পর খেয়াল হয়, কখন যেন ঘোষক বলতে শুরু করেছেন “পরবর্তী স্টেশন নেতাজিভবন। দরজা ডানদিকে খুলবে”। ইংলিশ, হিন্দি, বাংলা। বাইরে একবার আলো, একবার অন্ধকার। ছোট ছোট খুপরিগুলোতে কী আছে? কারা আছে ঐ অন্ধকার ঘুপচিতে? জানি না। কজন জানেন? যাঁরা জানেন তাঁদের কিছু এসে যায় না। কারোর কিছু এসে যায় না। পরম নিশ্চিন্ততায় মোবাইলে আঙুল বোলায়। যুদ্ধ, ভোট, ধর্ষণ, প্রতিবাদ। এক একেকটা বুদবুদ। এক একেকটা সিজন। ৭টা-১০টা, কখনওবা ২০-২৫টা এপিসোডে ঠাসবুনোট উত্তেজনা। ইকো বলেছিলেন এইসব সিরিজ আসলে পুনরাবৃত্তিকে আড়ালে রেখে এগিয়ে যাওয়া। অর্থাৎ পুনরাবৃত্তির গায়ে অগ্রগতির কাপড় পরানো। লাইনে চাকা ঘষার শব্দে আমিও এক সিজন।
অন্ধকারে দেবতারা বাস করেন। অন্ধকারে
থাকেন বলে দেবতারা অন্ধ। দেবতারা শব্দ শুনে চলাফেরা করেন। গন্ধ দিয়ে কথা বলেন। এইসব
দেবতারা আমাদের পরিচিত দেবতাদের মতন একেবারেই দেখতে নন। এঁদের শরীর জ্যামিতিক আকারের।
বিশেষত চতুর্ভুজ দেবতা বেশি দেখতে পাওয়া যায়। বর্গক্ষেত্র, আয়তক্ষেত্র, রম্বস, ট্রাপিজিয়াম।
ঔপনিবেশিক সময়ে এই পাতাল খোঁড়ার কাজ শুরু হলে, সাহেবরা এই দেবতাদের নিয়ে গিয়ে রাখতেন
তাঁদের যাদুঘরে কিংবা বাড়িতে। এখন অন্ধকারের অন্ধ দেবতারাও আমাদেরই মতো কিউআর স্ক্যান
করে ট্রেনে ওঠে, যাতায়াত করে, আলোকিত যাত্রীরা বোঝে না – তাদের পাশেই বসে থাকে পাতাল
লোকের এই চতুর্ভুজ, ত্রিভুজ আকৃতির দেবতারা, গন্তব্য আসলে নেমে যায়। পাতালের জ্যামিতি
আর আলোর পৃথিবী পাশাপাশি হাঁটে। মাঝে মাঝে ধাক্কা লাগে, ছোঁয়া লাগে। কারোর সমস্যা নেই।
নিশ্চিন্তে চলেছি গন্তব্যের দিকে।
এক কাল্পনিক রবি ঠাকুরের লেখা
সম্পূর্ণ টাক মাথা লোকাটার মাথায় তোলা কালো সানগ্লাস
মুখে শুধু তাগড়াই গোঁফ, হাতে লোহার
বালা
একটা ছোট ক্যাফের ছোট টেবিলে বসে
লিখছিল
কী কারণে উঠে গেছে, টেবিলের ওপর
পড়ে আছে খোলা ডায়রিটা
দোপিঁয়াজি প্রতিষ্ঠানের পৃথিবীতে
আমি নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান
মানবতাবাদের ঠাকুররা যত মনুষ্যত্বের
জমি দখল করে চলে
লেখকটা হারিয়ে যেতে থাকে, মুছতে
থাকে লেখাগুলো
যদিও ১০০ বছর পরে জানলা খুলে গেলে
ছোট ছোট জোনাকিরোবট
রোবটবসন্তের গেটের সামনে নতুন করে
মনুষ্যত্বের চাষ আরম্ভ করেছে
মানবতাবাদের ঠাকুরদের মৃত্যু হয়েছে
ততদিনে
সফটওয়্যারে লেখার ফুটপ্রিন্টে প্রাণের
সুধা লেখকের মদভাঙানিয়া
প্রতিষ্ঠানের জবড়জং ভেঙে ফেললে
লেখকের ঠিক-ভুলের অশেষ
কার্বনডেটে ডেটিং অ্যাপ্লিকেশনের
বলাকার প্রোফাইল পিকচার মুছে
অন্য লেখা, অন্য লিপি – শুধু এখানে
নয়, অরূপরতনের কিনারেও”
পনি টেলওয়ালা, মাস্কারা লাগানো
লোকটা হঠাৎ করে কাচের দরজা ঠেলে
ছোট ক্যাফের ছোট টেবিল থেকে তুলে
নেয় ল্যাপটপ
ল্যাপটপ থেকে ঝরে পড়তে থাকে ডায়রির
এলোমেলো এন্ট্রিগুলো

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন