![]() |
| সমকালীন ছোটগল্প |
মুরুগান ও তার যত সমুদ্র
(১)
নিউইয়র্কের জেএফকে বিমান বন্দরে প্রথম যেদিন তার পায়ের পাতা ছুঁয়েছিল, মুরুগানের বিশ্বাস হয়নি যে সে সত্যিই এখানে এসে পৌঁছাতে পেরেছে। একদিনে কী তার এই আসা হলো? প্রথমে মুল্লিভাইক্কল গ্রামের সামনের সমুদ্রতির থেকে কার্গোয় করে মালয়েশিয়া - তামিলদের কেউ না কেউ থাকেই মালয়েশিয়ায়- ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে হয় তাদের পৃথিবীর নানা দেশে - শ্রীলঙ্কা-ভারত-সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া- তারপর মালয়েশিয়ায় কয়েক বছর থেকে, সেখান থেকে এতটা পথ বিমানে করে নিউইয়র্ক আসা! অথচ, বিমানের সীটে বসেই সে যেন কাণে শুনতে পাচ্ছিল ভান্নির মুল্লাইতিভুর মুল্লিভাইক্কল গ্রামের সামনের সমুদ্রতির থেকে মালয়েশিয়া যাবার পথে বারোটা টানা দিন কার্গোর ভেতর আটকা থাকা অবস্থায় সমুদ্রের উত্তুঙ্গ গর্জন- জোয়ারের সময় সমুদ্রের শোঁ শোঁ করে ওঠা, আবার কখনো বা ছোটবেলায় মা’র সাথে রামেশ্বরম পার হয়ে ভারতের তামিলনাড়–তে মা’র গ্রামের বাড়ি বা মুরুগানের মামাবাড়ি যাওয়ার স্মৃতি- সমুদ্র যেন শ্যামাঙ্গ তামিলের জীবনে থেকেই যায়! সে যে সমুদ্রেরই সন্তান! তাই সমুদ্রতিরের নারকেল বীথির পাতার মতই সে-ও শ্যামবর্ণ।
ভাগ্য ভাল এই নিউইয়র্কের ব্রুকলিন
শহরেও মুরুগান যে এক টুকরো সমুদ্র পেয়ে গেছে। এখানে এক ভারতীয় গুজরাতির যে রেস্তোরাঁয়
সে কাজ করে, সেখান থেকে মিনিট দশেকের হাঁটা পথেই একটি ছোট্ট উপসাগর। প্রতিদিন কাজ শেষেই
সে এক ছুটে সেখানে যাবেই।
’তেরি ডিউটি ওভার, ইয়ার?’ পাশের
গ্রোসারি শপ থেকে হাত নাড়লো আব্দুল হামিদ বালুচ। মজার বিষয় হলো হিন্দি-উর্দূ খানিকটা
মুরুগান বলতে শিখেছে এই নিউইয়র্কে এসে। ভান্নিতে মুল্লিভাইক্কলে তার হিন্দি শেখার দরকার
হয়নি। তবে, ছোটবেলায় মামাবাড়িতে সেই ভারতীয় তামিল গ্রামে গেলে দেখতে পেত যে সেখানে
সবাইকে হিন্দি জানতে হয়। শ্রীলঙ্কায় যেমন সিংহলী শিখতেই হয়। তামিলের পাশাপাশি সিংহলী
আর ইংরেজি। তবে কতটুকুই বা ইংরেজি শেখা হয়েছে তার!
’আভি তু সমোন্দর কি পাশ যায়েঙ্গি,
না?’ মুরুগানের মুখ থেকে উত্তর না পেয়েও দমে যায় না হামিদের সদা প্রফুল্ল কথার তোড়।
’হাঁ- মেরি ডিউটি আওয়ার খতম হ্যায়!’
এটুকু বলে মুরুগান রেস্তোরাঁ থেকে বের হতে না হতেই ওর ডিউটির জায়গায় এসে পড়ে পেদ্রো
ফার্ণান্দেজ। নামেই পেদ্রো ফার্ণান্দেজ। ছোট-খাটো আর তামাটে রঙে তাকে না উত্তর ভারতীয়
বা পাকিস্থানীদের মত একটু বেশি ফর্সা, না দক্ষিণ ভারতীয় কি শ্রীলঙ্কানদের মত একটু গাঢ়
শ্যাম- পেদ্রোকে হুবহু বাংলাদেশীদের মত দেখতে লাগে। কালো চুল, কালো চোখ। এই এক ব্রুকলিনে
এসে কত জাতের মানুষের সাথে তার পরিচয় হলো! সেই সাথে নানা জাতের মানুষের চেহারা তার
কিছুটা মুখস্থও হয়ে গেছে। আগে তার ভয়ই ছিল যে আমেরিকা কি বিলেতে গিয়ে টিঁকতে হলে না
জানি কত ইংরেজি জানতে হবে! এখানে এসে দেখলো ভারত-পাকিস্থান-শ্রীলঙ্কা-নেপালের মানুষেরা
মিলে তার মত কম লেখা-পড়া করা ’দিশি ভাই’দেরও ইংরেজি না জেনেই টিঁকে থাকার দিব্যি ব্যবস্থা
করে রেখেছে। এদের হোটেল বা গ্রোসারিতে কাজ করেই একটা জীবন চলে যায়। কাস্টোমারদের সাথে
কাজ চালানোর মত সামান্য কথা-বার্তা বলতে পারলেই হয়। চীণেরা ত’ আরো মজার। পুতুলের মত
দেখতে চীণে মেয়েগুলো বছরের পর বছর ব্যবসা চালাচ্ছে, একটি জীবন এখানে পার করে দিচ্ছে
একটি ইংরেজি শব্দ না জেনে। ভারত-পাকিস্থান-নেপাল-শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের মানুষ ত’ তবু
এক/দু’টো ইংরেজি শব্দ বা বাক্য জানে- যত গরীব বা যত অশিক্ষিত হোক! ল্যাটিনোরা? পেদ্রোর বউ রোজই ত’ এই এক রাস্তা সামনের
কয়েকটি তামিল-বাংলাদেশী-গুজরাতি-পাকিস্থানী শিক্ষিত, চাকরিঅলাদের বাসায় বাথরুম ধোয়
বা ঘর পরিষ্কার করার কাজ করে। রোজ ত’ একটা বাক্যও ইংরেজিতে বলতে পারে না। ওর মোবাইলে
কী টিপে টিপে হিস্পানী থেকে ইংরেজি কথা-বার্তা দিব্যি সেই সব বাড়ির মালকিনদের সাথে
চালায়। কাজ শেষে ডলার নিয়ে, হাসি মুখে বাড়ি ফেরে।
বউ...না, পেদ্রো ফার্ণান্দেজ বা
আব্দুল হামিদের মত মুরুগানের এই মূহুর্তে কোন বউ নেই। ছিল একসময়। মাত্র এক দিন, এক
রাতের বউ। যে অদ্ভুত বিয়ের গল্প লিখে অনুক স্যার বিদেশে পুরষ্কার পেলেন? অনুক স্যার
আস্ত একটি উপন্যাসই লিখেছেন ইংরেজিতে। এবং সেই উপন্যাসের নায়ক কিনা সে? মুরুগান। অনুক
স্যার অবশ্য উপন্যাসে তার নাম বদলে দিয়েছে। সে বদলাক। যত কমই লেখা-পড়া করা হোক, মুরুগান
এটা অন্তত: জানে যে নাটক-নভেলে নায়ক-নায়িকাদের নাম লেখকরা বদলে দেয়- যদিও বাস্তব জীবনে
লেখকদের সাথে তাদের কোন না কোন ভাবে পরিচয় হয়! অনুক স্যারের সাথে কীভাবে যেন তার পরিচয়
হয়েছিল?
(২)
’ইয়ার- তু খাব দেখতি হুঁ না? মেরি ভি ডিউটি খতম হো আউর ম্যায় ভি সমোন্দরকে পাশ যাউঙ্গি!’
আব্দুল হামিদ বালুচ কখন গ্রোসারি
ছেড়ে মুরুগানের পাশে হাঁটা শুরু করেছে সে খেয়াল করেনি। ওহ- হামিদ যে কেন একথা তাকে
প্রায়ই বলে! ’তু খাব দেখতি হুঁ?’ কথাটা সে প্রায়ই বলে। নাহ্- মুরুগান কি সত্যিই সব
সময় স্বপ্নের ঘোরে থাকে নাকি? অথবা দু:স্বপ্নের ঘোরে? ইদানীং আব্দুল হামিদের ব্রুকলিন
বে-র পাশে যাওয়াটা একটু বেড়েছে। তার বিবি দ্বিতীয়বারের মত অন্তসত্ত্বা। সামনেই বাচ্চা
হবে। এসময় স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন কিছুদিন হয় ব্যাহত তার। ফলে এই সময়টা কাজ শেষেই
একা মুরুগানের মত সে-ও ব্রুকলিন বে’র সামনে গিয়ে সময় কাটায়। এসব গল্প মজার ঢঙ্গে হামিদই
মুরুগানকে করে। সবে দ্বিতীয় বাচ্চা হতে চলেছে তার। তার বিবি এখনো সুন্দরী এবং বিবিকে
ছেড়ে অন্য কোন মেয়ের প্রতি মুগ্ধ হওয়া তার এখনো হয়নি। মুরুগানের কাছ থেকে ভাঙা ভাঙা
তামিল কিছু হামিদও শিখে নিয়েছে।
কত রকমের মানুষ আসে এই ব্রুকলীন
বে’র পাশে! কত জাতের আর কত ভাষার মানুষ। আরব-ইহুদি-মিশরীয়-চীণে-জাপানী-আফ্রিকীয়-ল্যাটিনো-
সারা পৃথিবীই যেন এই নিউইয়র্কে। পুরো শহরটা জুড়ে পাঁচটি বে বা উপসাগর...যেন রামেশ্বরম,
মুল্লিভাইক্কল অথবা প্রায় বারো দিন সমুদ্রে ভেসে মালাক্কা প্রণালী অবধি পৌঁছানো। সেখান
থেকেই তিরে উঠে আরো বাইশ মাইল বাসে চলার পর কুয়ালালামপুর। সমুদ্র- এই সমুদ্রই ত’ মুরুগানকে
বাঁচিয়ে রাখে। রামেশ্বরম থেকে মুল্লিভাইক্কল থেকে মালাক্কা অবধি তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
মৃত্যু থেকে জীবনে। কিন্তÍ গঙ্গা? ওর আসল নাম অবশ্য ’গঙ্গা’ ছিল না। তার এক দিন এক
রাতের বউ। ’গঙ্গা’ নামটিও অনুক স্যারের দেয়া। ওর আসল নাম ছিল ’চন্দ্রা।’ গঙ্গা ত’ নদীর
নাম। তার জীবনে ’গঙ্গা’ থুক্কু ’চন্দ্রা’ এসেছিল? একদিন এক রাতের বউ। এক রাতের বাসর।
আর তারপর...তারপর তার বিপত্নীক হওয়া? হ্যাঁ, টিভিতে অনুক স্যারের অনুষ্ঠান দেখেছে সে।
অনেক অনেক সাহেব-মেম ঠাসা একটি বড় রুমে স্যারের নাম মাইকে ঘোষণা করলো কেউ। আর তারপর
অনুক স্যার স্টেজে উঠে হাতে একটি ট্রফি নিলো। কী কী বললো সে ইংরেজিতে। অনুক স্যার যখন
পুরস্কার পেলো, তখন ত’ মুরুগান মালয়েশিয়ায়। সাত বছর আগে তার ইন্টারভিউ নিয়েছিল অনুক
স্যার। আর সেই ইন্টারভিউ থেকেই না অনুক স্যারের বইয়ের মূল কাহিনী। এমনকি বইয়ের শুরুর
লাইনটাও ত’ মুরুগান প্রথম যেদিন ইন্টারভিউ দেয়- সেই ইন্টারভিউয়ের প্রথম লাইন।
’অনুক- ইউ ক্যান ইন্টারভিউ দিস
ম্যান! আ ইয়াং তামিল হুজ ওয়াইফ ডায়েড ইন আর্মি বম্বিং ফ্রম এয়ার অন দ্য ওয়েডিং নাইট,’
ভাগিশা তিলকরত্নে ইউএনডিপির ঐ দিদিমণি কলম্বো শহরে অনুক স্যার তামিল হলেও বড়লোকের ছেলে ত’ বটে- একই ইংরেজি স্কুলে লেখা-পড়া
করেছিলেন বলেই সিংহলী হয়েও প্রভাকরণের পরিবার-সুদ্ধ খুন হবার পরে, অসংখ্য তামিল সাফ
হয়ে যাবার পরে ইউএনডিপি আর ইউএনসিএইচআর যখন ক্যাম্প খুললো- ঐ ভাগিশা দিদিমণির ক্লাসমেট
ছিল বলেই তামিল হয়েও অনুক স্যার একদিনের জন্য তাদের বোমা-বিধ্বস্ত ছোট্ট দ্বীপটির মুল্লিভাইক্কল
গ্রামে আসতে পেরেছিলেন। অত অত হত্যা, অত অত ধর্ষণ আর অত অত শিশু পঙ্গু হবার ভেতরেও
মুরুগানের জীবনের গল্পটি গল্প হিসেবেই মাত্র পুত্র হত্যা, কন্যা ধর্ষণে শোকগ্রস্থ মানুষদের
মুখেও চাউড় হচ্ছিল। আসলে বিয়ে হওয়াটাই ত’ খুব আশ্চর্য ছিল বৈকি।
’আপনার নাম?’
অনুক স্যার মোবাইলে রেকর্ডার অন
করে আবার কলম-ডায়েরিও খুলেছিলেন।
’মুরুগান। শিব-পার্বতীর সন্তান
কার্তিক দেবতার নামে নাম রেখেছিল আমার বাবা-মা।’
’আপনার পরিবারে আর কে কে বেঁচে
আছেন?’
’কেউ নেই।’
’কেউ নেই মানে?’
’মা-বাবা আর দুই ভাই, এক বোন আগেই
বোমা হামলায় মারা গেছিলো। গত ছয় মাস এই গ্রামের জঙ্গলে আমি একাই বেঁচেছিলাম।’
’আর- আর বিয়ে করেছিলেন?’
’হ্যাঁ।’
অনুক স্যারের বিষণ্ণ মুখেও হাসি
ফোটে, ’প্রেমে পড়েছিলেন? কোন মেয়েকে ভাল লেগেছিল?’
’ঠিক তা’ না।’
’তবে?’
এ কথার উত্তরে আচম্বিতে মুরুগান
তার শ্বশুরকে দেখিয়েছিল। উপন্যাসে অবশ্য শ্বশুরের নাম অনুক স্যার রেখেছিলেন ’সোমসুন্দরম।’
’স্যার- আমার শ্বশুর কিন্তÍ বেঁচে
আছেন। ওনার কথাতেই আমি বিয়ে করি।’
’কিন্তÍ আপনি বোঝেননি যে এমন একটা
যুদ্ধের সময়ে যখন তখন বোমা পড়তে পারে, বিমান হামলা হতে পারে- উনি বললেন আর আপনি বিয়ে
করে ফেললেন? কি বলে উনি আমাকে প্রস্তাব দিলেন? যৌতুক...এর ভেতর যৌতুক বা কী দেবে?’
’না- না- স্যার, যৌতুক না-’
মুরুগান ব্যখ্যা করার আগে তার শ্বশুরই
মুখ খোলে। সে-ও অনতিদূরে বসে ছিল, ’আসলে স্যার- সিংহলী সৈন্যরা অবিবাহিত মেয়েদের আগে
টার্গেট করে- তাদের ধর্ষণ ত’ করেই, আবার খুনও করে। ধর্ষণের পর খুন করে। আমার স্যার
বউ আর অন্য তিন ছেলে-মেয়ে এই জঙ্গলে আসার আগেই মারা গেছে। শেষ মেয়েটা যদি মরতো- সেই
ভয়ে এই ছেলেটাও একা- মা-বাবা কেউ নাই আর বিয়েও করেনি দেখে বললাম যে ও যদি আমার মেয়েকে
বিয়ে করে- বিবাহিত মেয়েদের সৈন্যরা অত টার্গেট করেনা- তাহলে আমার মেয়েটা বেঁচে যেতে
পারে! শুনে ওর চোখেও প্রায় জল চলে আসলো আর কয়েক মিনিটের মাথায় রাজি হলো।’
’কিন্তÍ মেয়ে ত’ আপনার বাঁচলো না?’
’সে যা কপালে থাকে- কপাল ত’ ফেরানো
যায় না! তবে সৈন্যদের হাতে ধর্ষিত হয়ে মারা যায়নি- এই কী আমার সাত পুরুষের ভাগ্য না?
কপালে সিঁদুর উঠে, স্বামীর সাথে বাসররাত পার করে- স্বামীর আগেই মেয়ে আমার মরেছে। মেয়ে
আমার সতী পূণ্যবতী। ওর অক্ষয় স্বর্গবাস হবে। আর ওর পুণ্যে আমাদেরও। কপালে সিঁদুর নিয়ে
মরতে পারা কী যে সে কথা স্যার?’
তা’ মুরুগানের শ্বশুরের মুখে এইটুকু
নিতান্ত, সাদা-সিধে তামিল বাক্য শুনে ভাগিশা ম্যাডাম আর অনুক স্যার দু’জনেই কেমন থতমত
খেয়ে, কয়েক মিনিট নিজেদের ভেতর ইংরেজিতে কি কি যেন বলে! কাশতে কাশতে অনুক স্যার তার
পিঠের ব্যাগ থেকে এক বোতল জল বের করে খানিকটা জল খায় আর তারপর মুরুগানের দিকে চেয়ে
তামিলে জিজ্ঞাসা করে, ’আপনি তাহলে এজন্যই বিয়ে করেছিলেন? যেন সে আর্মির হাত থেকে বেঁচে
যায়?’
’হ্যাঁ- স্যার- পুরো বাঁচাতে না
পারলেও...মানে মরে ত’ গেলো...তবে আর্মির হাতে রেপ হয়নি!’
’ওহ্- আচ্ছা- আর আপনি এমনিতে- মানে
কী কাজ করেন?’
’আমার কাজ হলো স্যার এই রিফিউজি
ক্যাম্পে ত’ ঘড়ির কাঁটা ধরে বোমা পড়তেই থাকে। যারা মরার ত’ মরলো। আর বেঁচে যারা গেলো-
তাদের বডিগুলো এক জায়গায় জড়ো করে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। ওখানে মেডিসিন নাই, এ্যানেস্থেশিয়াও
নাই। তারপরও কারো হাত-পা কাটতে হলে...নইলে যদি গ্যাংগ্রিন ছড়িয়ে মারাই যায়...ডাক্তাররা
দরকারে হাত-পা কেটে হলেও রোগীদের বাঁচায়...’
’এ্যানেস্থেশিয়া নেই?’ অনুক চমকে
ওঠে।
’না- স্যার। কত মানুষের হাত-পা
কাটা গেলো! তবে-’
’তবে?’
’বাচ্চাদের হাত-পা যখন এ্যানেস্থিশিয়া
ছাড়া কাটা হয়, তখন যেন সহ্য করা কঠিন।’
’এমন- এমন কয়টি বাচ্চাকে আপনি দেখেছেন?’
’অনেক- স্যার- তবে পরশু যে বাচ্চাটাকে
হাসপাতালে নিলাম- ওর ডান পা চার মাস আগেই একটা ল্যান্ড মাইল ফাটার পর উরু থেকে কাটা
ত’ গেছেই, পরশু বিমান থেকে ছোঁড়া বোমায় ওর একটা হাতও-হাতটাও কাটতে হলো। ওর বোন বলছিল
যে চার মাস আগে একটা ল্যান্ড মাইন ফাটার সময় তাদের মা-বাবাও মরেছিল। তবে অপারেশন হয়ে
গেছে। এখন হয়তো কেটে দেওয়া পায়ের মত হাতটাও ওর সেরে উঠবে।”
না, অনুক স্যারের বইটা ইংরেজিতে
সে এখনো হাতেই নিতে পারেনি। তবে সে শুনেছে যে উপন্যাসটি নাকি শুরুই হয়েছে এইভাবে:
’বেশির ভাগ শিশুরই থাকে দুটি আস্ত পা এবং দুটি আস্ত হাত, কিন্ত এই ছয় বছরের ছোট শিশুটি
যাকে দীনেশ বহন করছিল, সে এরই মধ্যে একটি পা হারিয়েছে- উরুর নিচ থেকে তার ডান পা পুরোটাই
গেছে এবং দ্রুতই সে তার ডান হাতটিও হারাতে চলেছে।’
আরে- অনুক স্যার উপন্যাসটির নামই
ত’ রেখেছে মুরুগানের বিয়ের নামে। হ্যাঁ- ইংরেজি বইটি না পড়লেও তার নামটি মুখস্থ আছে
তার: ’দ্য স্টোরি অফ আ ব্রিফ ম্যারেজ।’ সেখানে নাকি সব কিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে লিখেছেন
তিনি। কিভাবে তার শ্বশুর এসে তাকে প্রথম প্রস্তাব দেয়, একটু ভেবে সে কেমন রাজি হয়ে
যায়, জঙ্গলের ভেতর বিয়ের মন্ত্র পড়াতে পুরুত খুঁজতে গিয়ে দেখা গেলো যে বুড়ো আয়ারও ক’দিন
আগে বোমায় মরেছে আর তারপর তার ঘাড় ত্যাড়া শ্বশুর নিজেই কষ্ট করে, জঙ্গলের ভেতরেই একটি
বিয়ের মন্ডপ সাজায়। দায়িত্ববান পুরুষের মত বউকে সে বিয়ের পর একদিনও ’বাপের বাড়িতে’
রাখেনি। জঙ্গলের ভেতরেই খানিকটা জায়গা পরিষ্কার করে নতুন বউয়ের জন্য একটি নতুন বাড়ি
সে কি গুছিয়ে তোলেনি? তার বউও অলস বা বসে থাকা মেয়ে না। একদিনের সংসারেই স্বামীর জন্য
সে ডাল আর ভাত রেঁধেছিল। নতুন বউ যখন লাজুক মুখে ডাল-ভাত চাপিয়েছিল, মুরুগান সারা দিন
স্ট্রেচারে জখম রোগী টেনে, হাসপাতালে দিয়ে এসে ভাল ভাবে ¯œান করেছিল। হাজার হোক একটি
নতুন মেয়ে এসেছে তার সংসারে। অন্য দিন সে যেমন একা মানুষ- যখন-তখন ¯œান করে। কিন্তÍ
একটি নতুন মেয়ের কাছে যেতে হলে, তাকে একবার ছুঁতে হলে ত’ ভাল ভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন
হতে হবে। তারা- হ্যাঁ, তারা ভালওবেসেছিল। প্রথম ও শেষ প্রেমের রাতের পর তারা ঘুমিয়েও
পড়েছিল। ঘুম ভেঙ্গেছিল আর...প্রতিদিনের মতই বিমান থেকে বোমার শব্দে। পাশেই আধ-নগ্ন
নব পরিণীতার দেহে শাড়িটা ঠিকমতো জড়ানো ছিল কি ছিল না...শুধু মুরুগান একাই বেঁচে গেলো?
তবে তার শ্বশুর রাত ভোর না হতেই জামাতার পাশে এসে দাঁড়ায়। তাকে খুব বিধ্বস্ত মনে হয়
না। মেয়ে তার ধর্ষণের হাত এড়িয়ে, সতীর মত কপালে ও সিঁথিতে অক্ষয় সিঁদুর নিয়ে চিতায়
উঠছে, এতেই তাকে বেশ গর্বিত লাগছিল। আর এখন এই ক্যাম্পে তারা শ্বশুর-জামাতা বাস করে
পিতা-পুত্রের চেয়েও বেশি অপত্য ও আত্মীয়তায়। তা’ এই গল্প লিখেই ত’ অনুক স্যারের পুরষ্কার
মিললো।
(৩)
মুল্লিভাইক্কল থেকে মালাক্কা প্রণালী পর্যন্ত কার্গোর ভেতর সেই অবরুদ্ধ টানা বারোটি দিন। সমুদ্রের জল জোয়ারে উত্তাল হয়ে ওঠে। যেন বাসুকী নাগের অনন্ত ফনার মত সেই উত্তুঙ্গ ঢেউয়েরা বুক সমান তরঙ্গ তুলে এসে ফিসফিসিয়ে মুরুগানের কাণে বলে যাচ্ছে:
’হ্যাঁ- আমি শ্রীলঙ্কান আর্মির
৫৮তম ডিভিশনে কাজ করতাম। ২০০৯-এ...২০০৯-এ...’ তরুণ সৈনিকটি থরথর করে কেঁপে উঠে মুখ
ঢাকে, ’হ্যাঁ- আমি অস্বীকার করব না যে আমার সহযোদ্ধারা নির্বিচার গুলি চালিয়েছে তামিলদের
উপর, ছুরিবিদ্ধ করেছে, ধর্ষণ করেছে, ওদের জিহ্বা কেটে নিয়েছে, মেয়েদের স্তন কেটেছে।
আমি- আমি সব কিছু নিজের চোখে দেখেছি।
অনেক...অনেক...ছোট ছোট বাচ্চা দেখেছি,
এত নিষ্পাপ ছিল...ওদেরও আমরা হত্যা করেছি ত’। বয়ষ্কদের ত’ কথাই ছিল না। ডাক্তার আমাকে
রোজ অনেক- অনেক ঘুমের ওষুধ দেয়। আমি খাই- কিন্তÍ ঘুম আসে না-
কোন তামিল মেয়েকে ধর্ষণ করতে চাইলে,
সৈন্যরা ওকে শুধু পিটাবে এবং তারপর যা করার করবে। মেয়েটার বাবা-মা বাধা দিতে চাইলে,
তাদের পেটানো হতো বা খুন করে ফেলা। সব ত’ আমাদের রাজত্ব ছিল, তাই না?
কত- কত নারীর লাশ- উদোম- গায়ে কাপড়
নেই। মাথা কেটে ফেলা হয়েছে এবং শরীরের অন্য অংশগুলোও কাটা। এক মা ও বাচ্চার লাশ দেখেছি-
একটি গ্রামে ধানক্ষেতের পাশে পড়ে থাকতে- বাচ্চাটির মাথা নেই।’
’এক পুথুমাথালনেই দেড় হাজারের উপর
বেসামরিক মানুষকে আমরা খুন করেছি। সবাইকে মাটি চাপা দেবার মত মাটিও ছিল না। তখন বুলডোজার
এনে- প্রথমে সব লাশ এক জায়গায় করে, উপরে বালু ফেলে- তার উপর বুলডোজার চালাতাম। একবার-
এক জায়গায় ৫০,০০০ মানুষকেও এভাবে খুন করা হয়েছে।
ঐ লোকগুলো, ঐ মেয়েগুলো, ঐ বাচ্চাগুলো...আমি-
আমি রাতে ঘুমাতে পারি না।’
নোনা জলের সমুদ্র এই স্বাক্ষ্যে
কাঁদে না হাসে বোঝা যায় না। শুধু দু’পাশের বিস্তীর্ণ তির জুড়ে অসংখ্য নারকেল আর ঝাউ
গাছে গভীর রাতে কম্পন ওঠে। শঙ্খচিলের দল আকাশরেখা জুড়ে উড়ে চলে। এবার তরুণকে সরিয়ে
দিয়ে অপেক্ষাকৃত বয়সীতর এক সৈন্য কথা বলা শুরু করেন, ’আমিও শ্রীলঙ্কান আর্মিতে কাজ
করতাম। তারিখটা ছিল ২০০৯-এর ১৮ই মে। আচ্ছা- ওরা ত’ আত্ম-সমর্পণই করছিল। তারপরও কেন
ওদের মেরে ফেলতে হলো? কোথাও ৫০, কোথাও ৭৫ আবার কোথাও ২৫ জনের এক/একটি মানুষের দল এসে
আত্ম-সমর্পন করছে এবং তাদের মেরে ফেলতে হবে। ছোট ছোট বাচ্চা, মেয়েরা, বুড়ো-বুড়ি...সবাইকে
খুন করো।’
এবার তিন সৈন্যের ভেতর সবচেয়ে বয়সী
একজনের মুখ (প্রত্যেকের মুখই ঝাপসা করে দেয়া হয়েছে তথ্যচিত্রের পর্দায়- তাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই):
’আমাদের আসলে ক্ষমা চাইতেই হবে। তামিলদের শেষ করে দেবার জন্য আমরা যা করেছি- বাহিনীতে
সিনিয়ররা বলতেন আমাদের মনে দয়া-মায়া থাকলে চলবে না। আর আসলে- আসলে আমরা পাগল হয়ে গেছিলাম।
পাগল না হলে এটা করা সম্ভব না।’ কিন্ত শহরে ফিরে এসে- বাসায় ফিরে এসে- ভাত খেতে গেলে
মনে হয় রক্তের গন্ধে পাগল হয়ে যাব- কাটা বুকের মেয়েরা চোখের সামনে ঘুরে বেড়ায়।’
কার্গোর ভেতর লুকিয়ে মুরুগান দিন
গুণতো- আর ক’দিন পর তারা মালক্কা পৌঁছাতে পারবে। বুড়ো শ্বশুর দু’চোখ না বোঁজা পর্যন্ত
তার পাশে ছেলের মত থেকেছে মুরুগান। এরপর শ্বশুরেরই আদেশে তার বোনের ছেলে যে মালয়েশিয়ায়
একটি দোকানে কাজ করে, সেখানে চলেছে।
’ভয় পেও না, বাবা! আমাদের উপর নির্যাতনের
কথা সিংহলী আর্মিরই কেউ কেউ স্বীকার করেছে। আবার প্রভাকরণকে ধরিয়ে দিয়েছে তামিল দালালদের
কেউ কেউ। সবার ভেতরেই দেবতা আছে আর সবার ভেতরেই দৈত্য। আমার বোনের ছেলের ওখানে ত’ যাও।
তোমার বউয়ের সাথে ছোটবেলায় ভারি খেলতো। আমার কথা বলো। তোমার বউয়ের কথা বলো। দেখো- ওখানে
কোন চাকরি-বাকরি পাও কিনা। আগে ত’ বাঁচো!’
সেই শ্রীলঙ্কা যাবার সময়েই পাশের
কার্গোর প্রায় ২০/২৫টি বাংলাদেশী শ্রমিকের সাথেও পরিচয় হয়। ওরা কুয়ালালামপুর চলছে
কাজের খোঁজে। শ্রমিকের চাকরি। তেমনি একজন ছিল মনোয়ার হোসেন। ’চিলমারী’ নামে একটি জায়গার
কথা এত বলতো যে সেটা আজো মুখস্থ হয়ে আছে। মনোয়ার হোসেন আর সে কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কারের
কাজ নিয়েছিল একই নির্মীয়মান, বহুতল ভবনে। রোজার মাসে একবার সারা দিন না খেয়ে কাজ করতে
করতে ভারসাম্য রাখতে পারেনি মনোয়ার। পড়ে গেছিল মাথা ঘুরে। তারপর তার লাশ দেশে পাঠানো
নিয়ে কত যুদ্ধ! সব শুনে বউয়ের পিসতুতো ভাই-ই বললো, ’মালয়েশিয়ার চেয়েও ভাল হয় যদি আমেরিকা
চলে যেতে পারেন। আপনি যে এলাকার মানুষ, ওখানে তামিলরা জন্মাবধি শুধু মরতেই শেখে। পড়া-শুনা
আর তেমনটা করবেন কী করে? আমার মা’র না হয় ভাগ্যে খোদ কলম্বো শহরে বিয়ে হয়েছিল। এক কাজ
করেন। আপনার জীবন নিয়ে ত’ এক লেখক ইংরেজিতে একটি আস্ত উপন্যাসই লিখেছেন। আমি দেখি ওনার
সাথে ই-মেইলে যোগাযোগ করে, ওনার একটি রেকমেন্ডেশন লেটার নিয়ে- আর বিদেশী কিছু পত্র-পত্রিকা
বা টিভি চ্যানেলে কিছু সিংহলী সেনা অফিসারও বিবেকের তাড়নায় কিছু ইন্টারভিউ দিয়েছে।
তারা স্বীকার করেছে যে তামিল বিদ্রোহ দমনের শেষ পর্যায়ে সেনা বাহিনীর বোমা বর্ষণেই
মারা গেছে চল্লিশ হাজার তামিল। জাতিসঙ্ঘের কাছে ৭০,০০০-এর উপর তামিল আজো নিখোঁজ। ২০০৯-এর
মে মাস নাগাদ প্রতিদিন হাজার খানেক তামিল মরতোই। ১৯৫৮, ১৯৬০-এর দশক, ১৯৭৭, ১৯৮১ ও ১৯৮৩
সালে তামিল গণহত্যা বাদ দিলেও- এক বিদ্রোহ দমনের শেষ সময়েই আমরা প্রায় দুই লাখের কাছাকাছি
খুন হয়েছে। এসব সংবাদ বা তথ্যচিত্র নিয়ে ইউএস এ্যাম্বাসীতে গেলেও আপনি রিফিউজি স্ট্যাটাস
পাবেনই!’
’আপনি যাবেন না, দাদা?’
’না- আমি এখানে ব্যবসায় সেটেল করে
গেছি। চীনে বৌ আমার। আপনি চলে যান আমেরিকায়-সঙ্কোচ করেন না। ’
(৪)
’আরে- ইয়ার- তুমি আভি তক খাব মে রহতি হ্যায়?’
আব্দুল হামিদ বালুচ কয়েক পাক দৌড়ে
চলে এসেছে।
’ক্যা শোচ রহতা হো তুম?’
’কুছ নেহি।’
’চল্- উ আরব কাফে পর দো কাপ কফি
পিলুঙ্গি- হাম ঔর তুম- ওকে?’
নাহ্- ভারতÑশ্রীলঙ্কা-পাকিস্থান-বাংলাদেশেই
কিনা যত হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ মারামারি। এখানে সবাই তারা বাদামি চামড়ার মানুষ। সবাই
সবার দোস্ত। আরব কাফের লোকগুলোও হাসি-খুশি। পুরো সাদা ত’ না। দারুণ ওদের কাবাবের গন্ধ।
তবে মুরুগান নিরামিষাশী। তারা খাবেই অবশ্য দু’কাপ কফি মাত্র। কাবাব খাবার পয়সা নেই।
এই ত’ এসে বসবে বুড়ো দাভিদও। ও ইহুদি। তবে গাজায় এত মানুষ খুন তারও পছন্দ না। আব্দুল
হামিদ বালুচকে বলছিল সেদিন যে কীভাবে ওর পূর্বপুরুষ হিটলারের সময়ে পোল্যান্ড থেকে পালিয়ে
এসেছিল। আরে- ঐ ত’ দাভিদ বসেই আছে। হামিদ তাকে ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজিতে বলেছে বটে মুরুগানের
এক দিন এক রাতের বিয়ে আর বউয়ের মরার খবর।
’ওহ্- আই সী ইয়াংম্যান- দেন ইউ
আর উইডোয়ার অফ ওয়ান নাইট!’
’ইয়েস।’ মিশনারী স্কুলে ক্লাস এইট
পর্যন্ত পড়ার বিদ্যায় এক/আধ লাইন মুরুগানও বলতে পারে অবশ্য, ’এ্যান্ড এ্যাবাউট ইউ?’
’ওহ- আই ম্যারেড জাস্ট ওয়ান্স ইন
মাই লাইফ। বাট দ্যাট এন্ডেড ইন ডিভোর্স। ডিড নট গেট ম্যারেড এ্যাগেইন।’
আরব কাফেটি মাত্র সন্ধ্যার খদ্দেরে
ভর্তি হতে শুরু করেছে। তিন ফিলিস্তিনী ভাই মিলে এটা চালায়। বছর দশেক আগে ওরা এদেশে
এসেছে বেঁচে থাকার আসায়। নিউইয়র্ক বা ব্রুকলীন যেন এক দীর্ঘ পক্ষ পক্ষিণী মাতা- সেখানে
কত জাতের তাড়িত, বিপন্ন মানুষই না এসে আশ্রয় খোঁজে!
’ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সী- প্যালেস্টাইন
উইল বি ফ্রি!’ এমনটা কেউ গুণ গুণ করা শুরু করলেই আব্দুল হামিদ বালুচও তখন ’মা চুকে
বালোচানি’ গাওয়া শুরু করে। যে কিনা কলেজ ছাত্র হিসেবে বালুচ স্বাধীণতা আন্দোলনে কয়েক
বছর জেল খাটার পর তার বাপ তাকে সব জায়গা-জমি বেচে পাঠিয়েছে এই মার্কিন মুল্লুকে। মুরুগান
গুণগুণ করে ’সেমমোঝি মানাডু’ গাইতে। এ, আর, রেহমানের মত সুরকার তার জাত বা ভাষার মানুষ।
যতই সে ধর্ম বদলাক!
’ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সী- প্যালেস্টাইন
উইল বি ফ্রি!’ ব্রুকলীনের এই আরব ক্যাফেতে মাত্রই কেউ গীটারে সুর তুলছে। কিন্তÍ...চন্দ্রা-
অনুক স্যার উপন্যাসে যার নাম রেখেছেন ’গঙ্গা’- সেই নদীর নামের মেয়েটি তার কাছে এসেছিল।
এক রাতের ভালবাসার পর নদীটি মরে গেলো। সাত সমুদ্র পার হয়ে মুরুগান তবে এরপর কোথায় এলো?
(কৃতজ্ঞতা: ২০২৪-এ কয়েক মাস আমেরিকার ব্রুকলিনে থাকার সময় সেখানে নানা জাতি ও ভাষার অভিবাসী মানুষকে দেখে, বিখ্যাত ইংরেজিভাষী তামিল লেখক অনুক অরুপ্রসাদগমের আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত ’দ্য স্টোরি অফ আ ব্রিফ ম্যারেজ’-এর নায়ককে ব্রুকলিনের একজন অভিবাসী হিসেবে কল্পনা করে এই গল্প রচিত হয়েছে।)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন