বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

সুকান্ত পাল

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৫২

 

বোঝাপড়া

আর না, অনেক হয়েছে। সব ধৈর্যের সীমা ভেঙে গেছে। এভাবে কিছুতেই এক ছাদের তলায় থাকা যায় না। অনেক ভেবে চিন্তে মন্দার শেষ পর্যন্ত সেপারেশনের সিদ্ধান্তটা অফিসে বসে বসেই নিয়ে নিল। আজকে অফিস থেকে ফিরে তার এই সিদ্ধান্তটা উর্বিকে জানিয়ে দেবে বলে ঠিক করল।
সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখে কাটোয়া থেকে উর্বির বাবা মা এসে হাজির হয়েছে। উর্বি যেন খলসে মাছের মতো খলখলিয়ে উঠছে। তার বাবা মায়ের জন্য কিচেনে ভীষণ ব্যস্ততা। মন্দার একটু থম মেরে যায়। নাহ্ যা ভেবেছিল তা আর এখন উর্বিকে বলা যাবে না। এটা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব বোঝাপড়ার ব্যাপার।
মানসিক ভাবে থম মেরে গেলেও মন্দার নিজেকে সংযত রেখে উর্বি এবং তার বাবা মায়ের সঙ্গে স্বাভাবিক ব্যবহারটাই বজায় রেখে চলল।
উর্বির মায়ের রাতে রুটির সঙ্গে দুধ না হলে চলে না। এটা নাকি তার ছোটবেলা থেকেই অভ্যাস। সেই দুধের ব্যবস্থাও উর্বি করে ফেলেছে ফ্ল্যাটের নিচে রামুর দোকান থেকে।
রাতে বিছানায় উর্বি যেন আজকে একটু বেশি অ্যাক্টিভ হয়ে উঠেছে। মন্দারকে সে অস্বাভাবিক ভাবেই উত্তেজিত করে তুলল। মন্দারও ভেসে গেল । তার মাথা থেকে কখন যে অফিসে বসে প্রতিজ্ঞার কথা উড়ে গেছে তা আর খেয়াল নেই। একসময় দুজনেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। উর্বির চোখ দুটো গভীর তৃপ্তিতে ঘুমে জড়িয়ে আসছে।
হঠাৎই মন্দার ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। তার কান্নার দমকে উর্বির তৃপ্তির আবেশটা কেটে গেল। সে অবাক হয়ে মন্দারকে ধাক্কা দিয়ে বলে,
--
কী হলো মন্দার, তুমি কাঁদছ কেন?  
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর মন্দার উর্বিকে জড়িয়ে ধরে বলে,
--
আমি তো তোমাকে ভালোবেসেছিলাম, বিশ্বাস করেছিলাম!
--
হ্যাঁ, এতে তো কোনো ভুল নেই। হঠাৎ এই কথা বলছ কেন? আমিও তো ‌তোমাকেই ভালোবাসি।
---
তবে কেন এখনো তুমি তোমার ভার্সিটির বয়ফ্রেন্ড তমালের সঙ্গে সম্পর্ক রাখো?
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে উর্বি। তারপর গম্ভীর গলায় বলে,
---
তুমিও তো তোমার বিয়ের আগের গার্লফ্রেন্ড যাকে তোমার সঙ্গে সম্পর্কের জেরে অ্যাবরসন করাতে হয়েছিল ভার্সিটি লাইফেই; সেই কস্তুরীর বরের সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যাবার পর তো এখনো অফিস ফেরত ওর ফ্ল্যাটে যাও। আমি তো কিছুই মনে করি না।
---
উর্বি তুমি...
---
জানি। তুমি যেমন আমারটা জানো আমিও তোমার পুরোটাই জানি। কিন্তু কিছু বলিনি কেন বল তো?
--
কেন?
---
আমি বিশ্বাস করি প্রতিটি মানুষেরই তার একটা ‌নিজস্ব জগত থাকে। সেখানে অবাঞ্ছিতভাবে হস্তক্ষেপ করা মানে তার মানসিক স্বাধীনতাকে আহত করা।
---
তাহলে!                       

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন