সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অভিজিৎ বসু

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৫১

 

সবুজ মিত্তির

ধীরে ধীরে জোৎস্না রাতে ভারী হয়ে আসে অনুর্বর ভূমির শস্যগুলো। মেঘের থেকে শতশত স্বপ্নের ডালপালা নেমে আসে। মেরামতের কাজ চললো। প্রতি মুহূর্তে বুকের বাম দিকটায় থাবা বসিয়ে লোভী মানুষের ভুল দেখা। অস্থিসার মানুষ দর্শন।

কে জানে কবে খুলবে আলতার পাতা?

বুক জুড়ে কফিন সামনে রেখে অন্ধের অভিনয়। স্বপ্নগুলো অতিক্রম করেনি তাকে কোনোদিন। তবে আজ চেপে ধরে বুকের খুব গভীরে। ঘেরাটোপে নিস্তেজ, ভিখিরির মতো হাজারো মানুষের ছুট।

আর অবাক করা ব্যাপার সবুজ মিত্তিরের বুকের পাঁজরও সবুজ হয়ে যাচ্ছে। অজানা স্বপ্ন। নানা অজুহাতে ফসলের বিলি বন্টন। সবুজ রঙয়ের সোমত্ত মেয়েমানুষের গন্ধ। ঝাঁপিতে আঁশটে গন্ধ।

: আমরা তো আছি।

: কে আছে?

: আমরা।

ভাগ্যিস মেহগনির ডালে ঝুলেছিল দুজন।

: ধারণাটা ভুল।

: নেতারা কখনও ভুল বলে? মিথ্যা বলে।

গাছগাছলা ভেঙেচুরে দলা পাকিয়ে গলার কাছে।

: ঘরে ফেরার তাড়া সবুজ মিত্তির তোমার।

: আরে অহনা। অহনা সান্যাল, এখানে!

: কেন ঠান্ডা মাথায় লাশটাকে দিয়েছিলে পোস্টমর্টেমে। প্রেমিক স্বামী হলে আর প্রেমিক থাকে না।

: আমি এসব কিছু জানি না।

: মানুষ আসে মানুষ যায়। আর দেখ চারপাশ আজ কেমন নির্ভুল সবুজের ছোপে ঢুকে যাচ্ছে!

অহনা একটানে সবুজ মিত্তিরকে বুকের কাছে টেনে নিয়ে আসে। তারপর এক ঝটকায় ব্লাউজের বোতাম খুলে বলে, দেখো! কী দেখতে চাও! শালা দেকার্তের দর্শন। আউলা বাতাস। অসমাপ্ত সেতু কার অধিকারে। বলো, কার অধিকারে?

অহনা সান্যালের ব্রা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সবুজ মিত্তির ছুঁয়ে দেখতে পারে না। হারুকি মুরাকামির বায়োডাটা মনে আনার চেষ্টা করে, কিন্তু মনে আসে না। শাহবাগ মোড়ে পাঠক সমাবেশের দোতলা কেমন যেন অন্ধকার লাগে। দৌঁড়ে নিচে নেমে আসে। তারপর সাভার পরিবহনে ঝুলতে থাকে। কন্ডাকটর হাঁকতে থাকে, গুলিস্তান গুলিস্তান!

আর তখনই দেখা যায় পুরো বাসটার ভেতরটা সবুজ হয়ে গেছে। অহনা স্যানালের সবুজ ব্রার ভেতর উঁকি দিচ্ছে সবুজ টান।

তাহলে মেহগনির ডালে ঝুলে ছিল দুটো লাশ কার? কার? ভাস্বর চক্রবর্তীর কবিতার লাইন, আগুন আগুনের মতো ব্যবহার করবে। আর জল জলের মতো। শুধু নতুন কাগজ কিনি- খালি পায়ে ঘুরে বেড়াই চারপাশ।

আর সে দিনই খবর আসে মেহগনির গাছে, আরও একটা মানুষ ঝুলছে।

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন