শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

বিকাশ দাশ

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৮


আগুন মায়ায় ছায়া ফেলে

কুসুম নিও না কেউ হাতে

এখানে চুলের ঢেউয়ে কুসুম ভাসানো মানা।

আমাদের কুসুমিত মেয়েরা

বহুকাল পুষ্পরাগে সাজিয়েছিল দেহ

মুখে লোধ্র রেণু, হাতে লীলাপদ্ম

সেই শৃঙ্গার দেখে সাদা দেবলোকেরও ছিল অপাবৃত লোভ।

 

আমাদের পুরুষেরা কুসুমের আগুনকে

বহুকাল বুক পেতে নিয়েছিল,

আগুনের মশালকে হাতে নিয়ে হেমন্তের যুবকেরা

অরণ্যে অরণ্যে জ্বেলেছিল হা-হা দাবানল।

 

আমাদের মেয়েরা দেবদাসী ছিল না কখনো

আমাদের পুরুষেরা আসলে মর্ত্য দেবদূত।

ওদের নিহিত প্রেম কুসুমকে ঘিরে

ওদের নিহিত প্রেম আগুনকে ঘিরে

এখানে কুসুম ফোটে না তারপর।

এখানে আগুন নেই জেনো

আগুনের গোধূলি আলোয় কিছু মায়া জেগে থাকে

ছায়ার মতন, চিরন্তন।

 

সম্পর্ক

এবং আমাদের চেনাজানাগুলি

আরও বেশি আলোকিত হতে পারত

আমাদের ভাল লাগা, মন্দ লাগার কারণগুলি

আরও স্পষ্ট ও লঘু হতে পারত।

তোমাকে তেমন করে আর দেখা হবে না

জানা হবে না--

কোন উৎসবে তোমার বাণী মাঠে ফসল ফলাবে।

 

তুমি কী জানতে চেয়েছিলে

আর আমি কী জানাতে পেরেছি?

আমি তো সেই ব্যর্থ  চিত্রকর

যে আজও তোমার ঠোঁটে

এঁকে দিতে পারেনি একটাও দুর্লভ চুম্বন।

ভেতরে ভেঙে গেলে

মানুষের বাইরেটার কী দাম থাকে বলো?

তবু আজও মুখোমুখি বসে

উড়িয়ে দিই সম্পর্কের বীজ।

 

বালিশ বিসর্গ হলে

এপারে আমি আর ওপারে তুমি

আমাদের মাঝখানে একটা বালিশ

কেমন বিসর্গ হয়ে আছে।

দন্ত্য বর্ণের তৃতীয় আর কণ্ঠ্য বর্ণের দ্বিতীয়

আমি আর তুমি এবং আমাদের দাম্পত্য।

 

আমরা চুপ শুয়ে আছি

কিছু সন্তাপের উপর তা দিয়ে

বাশিশের কোনো তাপ নেই, যতটা অসূয়া

ঠিক ততটাই ক্যামোফ্লাজ অসুখ

ঠিক যতটা অন্তর্ভেদী।

 

এপাশে আমি আর ওপাশে তুমি

মাঝখানে বালিশ কেমন

অযোগবাহ হয়ে খেলছে কৃপণ।

‘দুঃখ' বললে ততটা দুর্বোধ্য লাগে না

বালিশ কেবল বিসর্গ হয়ে দুঃখ বোনে

আমাদের রাত কাঁথায়।

 

ধানখেতে ঢুলছে খামার

কিছু কিছু ঘুম চেয়ারে বসে পা দোলাচ্ছে

ক্লান্তিরা ধান রুইছে নির্মাণের

আকাশ করুণা ঢালছে নিরন্তর

আর মাথার উপর উড়ে যাচ্ছে লক্ষ পৃথিবী।

মেঘেদের সঙ্গম্ দেখে জলপাই রঙের গাছেরা

হস্তমৈথুনে উড়িয়ে দিচ্ছে লক্ষ লক্ষ সন্তান

একটা মৃত মানুষ হাসছে কবরের উপর আজান দিতে দিতে।

 

নৈঃশব্দের ভেতর হারাচ্ছে ক্ষণকাল

আমাদের কোনো গন্তব্য নেই

পথগুলো সব তুলে নিয়ে গেছে অসংযম

কচি কলাপাতার মতো সবুজ ধানগাছ

তখনও ভবিষ্যের ভাগ্য লিখছে।

 

কাদা জলে চুপ শুয়ে আছে আকাঙ্ক্ষা

একদিন খামারে বাজনা বেজে উঠবে

ঘুমেরা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াবে

তারা শূন্যের মতো গোল হয়ে কণ্ঠে তুলে নেবে ঝুমুর।

 

ধানখেতে দাঁড়িয়ে আছে আস্ত খামার

ক্লান্ত মানুষের ছায়ায় নেচে উঠবে শস্য খেতের অহংকার।

 

 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন