শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

সুদীপ দাস

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৮


শেষ ভ্রমর

(৪) 

অনন্তযাত্রী : কাল রাতে কালো ফিটন এসেছিল এই রাস্তায়। গাড়োয়ানের পোশাকটাও ছিল কালো।

ভ্রমর : কে চলে গেছে ফিটনে চড়ে? আত্মার জগতে অভিযান চালানো কোনও কীর্তিনাশা বন্ধু! অর্থ আর শয্যার কোলাহল ভেদ করে যে বুঝতে চেয়েছিল উৎসবের চূড়ায় বেদনা কীভাবে বিঁধে থাকে!

অনন্তযাত্রী : অথচ দুপুরে পিওন এসেছিল এখানেই! কাউকে না পেয়ে ফিটন ফিরে গেছে মরা নদীর চর পেরিয়ে অন্ধকারে। চিঠিও ফেরত নিয়ে গেছে পিওন মৃত ডাকঘরে।

ভ্রমর : ফিটনের ঘোড়া কী উৎফুল্ল হয় আস্তাবলে ফিরলে?

অনন্তযাত্রী : কারা যেন ঘোড়াকে যুদ্ধের কাজে নিয়ে এসে ছিঁড়ে নিয়েছে তার আশ্চর্য ডানা দুটি।

ভ্রমর : রানা প্রতাপের ঘোড়ার সাথে ছট্টু মিঁয়ার ঘোড়ার কোনওদিন দেখাই হল না।

অনন্তযাত্রী : আক্রমণকারী সফল হয়েছিল বাহিনীতে ঘোড়া ছিল বলে।

ভ্রমর : যখন ঘোড়াদের খুব ঘুম পায় তখন ঠাকুরলালের ফিটন মাঝরাতে নিঃশব্দে এসে দাঁড়ায় কলকাতার রাস্তায়।

 

(৫)

ভ্রমর : খোলকর্তাল নামিয়ে রেখে পায়ে পায়ে সমুদ্রে নেমে গেছে কে?

কীর্তিনাশা বন্ধু : অন্তর্গত চোঙাসত্তার পরাক্রমে যে একটা নিরীহ শব্দকে ফুঁ দিয়ে ফুলিয়ে হুংকার বানিয়েছিল। সে এখন বেদনার প্রশমন চায়, বিষাদের প্রশমন চায়।

ভ্রমর : বেচারা নিজের মাথার পাশে আচমকা ফুটে ওঠা জানলাটাকে দেখতে গিয়েই টের পেল তার ভয়ঙ্কর এলার্জি!

কীর্তিনাশা বন্ধু : হয়তো ভেবেছিল বাক্স থেকে বেরোনোর জন্য গোটা শরীরের কী দরকার, জিরাফের মতো লম্বা গলাই যথেষ্ট।

ভ্রমর : বোঝেনি কোনও কুকুর এসে তাকেও খুঁজবে শুনশান রাতের সৈকতে। ডাকবে, কাঁদবে। তারপর সাড়া না পেয়ে তলিয়ে যাবে ঘুমের ঠান্ডায়।

কীর্তিনাশা বন্ধু : উধাও মানুষের অবশিষ্টটুকু মায়াবী আলোর গুঁড়ো হয়ে তখনও রয়ে গেছে তোবড়ানো চোঙা, বাঁশ, রঙচটা ছৌ-এর মুখোশে।

ভ্রমর : বৃষ্টির ছাঁটের মতো কারা ঢুকে পড়ে মাথার পাশের জানলায়? পায়ের দিকের দরজায় কেন কুকুর বসে থাকে!

 

(৬)

ভ্রমর : এক বালতি জল তোড়ে ঢেলো না, জল নষ্ট হবে।

ছৌ-এর মুখোশ : সরু পাইপ দিয়ে জল পাঠাও। আমি প্রত্যেকটা জলকণা শুষে নেব।

ভ্রমর : তুমি কি একজন হা-ক্লান্ত মানুষের মুখে সেঁটে আছো?

ছৌ-এর মুখোশ : ক্রমশ সরে যাওয়া নদী থেকে ড্রেনের জল আলাদা হয়ে যখন বইতে শুরু করে কোনও বাড়ির পাশ দিয়ে তখন কেই বা গৌরী সেন আর কেই বা নন্দ ঘোষ।

ভ্রমর : অস্তিত্ব আর উদ্দেশ্য হারানো কোনও এক চূড়ান্ত অবসরের কাছে দাঁড়িয়ে বুঝে নিতে হবে সান্ধ্য হুইস্কি থেকে দৈনন্দিনের ক্লান্তির দূরত্ব কতটা।

ছৌ-এর মুখোশ : পরিশ্রমে আর সংগ্রামে অভ্যস্ত কেউ প্রকৃত অবসরের কাছে ছুটে এসে বড়ো বিভ্রান্ত হয়ে যায়! আমি হা-ক্লান্ত মানুষের আড়াল।

 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন