যে কথা বলা হয়নি
(এক)
এক
বাঘের
(মৃত) গুহায় আর এক বাঘের (মৃত) সংবাদ পরিবেশন। কি চমকে গেলেন
তো! নাকি ভূরু কুঁচকে গেল! অবশ্য এমনটা হওয়ারই তো কথা ছিল!
দু’জনেই রয়েল বেঙ্গল টাইগার! দু’জনেই ছিলেন গুম্ফধারী। একজন দীর্ঘদেহী আর একজন কিঞ্চিৎ
খর্বকায়! আর দু’জনেই ছিলেন
ভীষণভাবেই খাদ্যরসিক। অথচ দু’জনের মিলের মধ্যে অনেক ব্যাপারেও বেশ অমিল ছিল। যেমন একজন ছিলেন চিকিৎসক পিতার সন্তান। ভীষণ মেধাবী। অঙ্ক এবং পদার্থ বিদ্যায় পারদর্শী। তারপর আবার আইনজীবী। দীর্ঘদিন আদালতে গিয়ে সুনামের সাথে বহু আইনি লড়াই লড়েছেন। সরাসরি বৃটিশদের বিরোধীতা না করলেও মনেপ্রাণে তিনি ছিলেন
খাঁটি ভারতীয় এবং তাঁর জাত্যভিমানও ছিল বেশ প্রখর। আর দ্বিতীয়জন ছিলেন এল এ
অনুত্তীর্ণ একজন গরীব ঘরের সন্তান। কাজেই ভাল স্কুলে পড়া এবং কোন বই কেনারও তেমন সামর্থ
ছিল না। এর সাথে
জড়িত ছিল দু’বেলা ভাল খাদ্যের অভাব। তবু তিনিও ছিলেন যথেষ্ট মেধাসম্পন্ন ব্যক্তি। যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা পেলে দ্বিতীয় শার্দূল যে প্রথম শার্দূলের মতো সার্বিকভাবে
শক্তিশালী হতে পারতেন কিনা, তা আজ আর
তুলনা করা সম্ভব নয়।
এবার
গৌরচন্দ্রিকা থেকে বরং সোজাসাপটায় চলে আসি। প্রথম বাঘের বিশাল আস্তানায় হয়ে গেল দ্বিতীয় বাঘের তর্পণাঞ্জলি। হিসেব মতো চার বছরের বড় ছিলেন সেই গরীব
বাঘটি। ল্যাকপ্যাকে চেহারা ছিল প্রথমাবস্থায়। বহু পরে চেহারায় মেদ জমেছিল। তিনি ছিলেন সাহিত্য জগতের একজন চলমান বঙ্গনন্দিত সম্পাদক। পত্রিকার নাম ছিল ‘ভারতবর্ষ’।
প্রথমা
স্ত্রী এবং মা গত হওয়ার
পরেই তিনিও একদিন তাঁর শিক্ষকের চাকরি জলাঞ্জলি দিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন হিমালয়ের টানে। তিনি জানতেন না সংসার ত্যাগ করলেও সাথে যাকে
নিয়ে যেতেই হবে তা হল ভাগ্য।
অর্থাৎ ‘নিয়তিঃ কেন বাধ্যতে’। তাই প্রথমে
দেরাদুনে গিয়ে দু’দিন এক ধর্মশালায় থাকার পরে ঠাঁই পেলেন এমন একটি আস্তানায় যা ছিল একজন
বাঙালীর স্কুল। একেবারেই নিখরচায় থাকা-খাওয়া। বিনিময়ে শুধু ছাত্রদের পড়াতে হবে। এবং তা হল অঙ্ক।
অর্থপ্রাপ্তি না হলেও দৈনন্দিনের
খাওয়া এবং মাথার উপরে একটা বেশ ভাল আচ্ছাদন মিলে গেল। যে ছেলেরা প্রত্যেকবার অঙ্কে ফেল করত
তারা সেবার খুব ভাল ভাবেই পাস করে গেল। স্কুলের মালিক ছিলেন একজন বরিশ্যাইল্যা। এমন ফলাফলে তার তো প্রায় মূর্ছা যাবার উপক্রম। তিনি মনে
মনে ভাবলেন যে একে আর
ছাড়া যাবে না। ইনি থাকলে
স্কুলের ব্যবসা আরো ফুলে ফেঁপে উঠবে। কিন্তু যাঁর পায়ের তলায় সরষে রয়েছে তাকে আটকায় কার সাধ্য! কারণ তিনি বাড়ি ছেড়েছেন হিমালয়কে দেখতে-জানতে। তাই তাঁর কি আর এক
জায়গায় আটকে থাকলে চলে নাকি! কাজেই আবার একদিন বহেমিয়ান মনটা বেরিয়ে পড়ল এক অজানিত প্রকৃতিকে দেখতে এবং সম্যকভাবে
উপলদ্ধি করতে। কারণ তাঁর আর সেই লুপ্তপ্রায়
সংসারে জড়িয়ে পড়ার ইচ্ছে নেই। কিন্তু হঠাৎ একদিন হিমালয়ে এক সন্ন্যাসীর সাথে তাঁর দেখা
হয়ে গেল। তিনিই উপযাচক হয়ে বলেছিলেন যে সংসার থেকে পালিয়ে গেলে চলবে না, তাকে আবার সংসারে ফিরে যেতে হবে। এখনও তার অনেক কাজ বাকি রয়েছে। আর একেই বলে
নিয়তি। ফলে তিনি ফিরে
এলেন ছেড়ে যাওয়া জন্মভূমি কুমারখালীতে। আবার শুরু হল চাকরীর সন্ধান। সেই সময় বয়ঃকনিষ্ঠ
বন্ধু দীনেন্দ্রর সূত্রে পেয়েও গেলেন মহিষাদলের রাজ স্কুলে শিক্ষকের চাকরি। থাকা খাওয়া ছাড়া প্রতি মাসে
হাতে আসল চল্লিশটি টাকা।
জলধর
সেনের ভাগ্যে এক জায়গায় বেশিদিন কাজ করা
সম্ভব হয়ে ওঠে না। কিছুদিন যেতে না
যেতেই তাঁর আর ভাল লাগে
না। এর পরে আমরা
জানি যে তাঁকে প্রায় জোর করেই
আবার বিয়ে দেওয়া হয় দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার উস্তিতে। সম্ভ্রান্ত দত্ত পরিবার।
দিব্বি চলে যাচ্ছিল প্রেমের নতুন জলে অবগাহন করতে। কিন্তু একটানা আটবছর শিক্ষকতার কাজ করার পরে আবার একদিন তা ছেড়ে
দিলেন। এবার তাঁর জীবিকা একেবারেই পালটে গেল। এতে তিনি যেন বেশ স্বস্তি পেলেন। তাঁর মনে হল এমনটাই তো তিনি
এতদিন খুঁজছিলেন। এভাবে বেশ কয়েকটি পত্রিকার সম্পাদক হয়েও ছেড়েছেন। তারপর একটি অঘটন ঘটে যায়। বাংলা সাহিত্যের ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদকের মধ্যে একজন হঠাৎ হৃদরোগে মারা যান। তখন জলধর কাজ করতেন সন্তোষের জমিদার প্রমথনাথ রায় চৌধুরীর ‘প্যারাগন’ প্রেসে। বলতে গেলে তিনিই তখন সর্বেসর্বা। সেখানে বার কয়েক ভারতবর্ষ পত্রিকার ছাপার কাজটাও হয়েছে। তাঁর কাজ ছিল শুধু ম্যাটারটা তৈরি করে প্রুফ দেখে ওদের দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া। যুগ্ম সম্পাদকের অন্যতম বিখ্যাত কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় তা দেখে হ্যাঁ
বললেই তা প্রকাশিত হবে। কিন্তু
দুঃখজনক ঘটনাটি হল, একদিন দ্বিজেন্দ্রলাল প্রুফ দেখতে দেখতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। এতে শুধু ভারতবর্ষ পত্রিকারই ক্ষতি হল না, এতে বাংলা
সাহিত্যে অসময়ে একজন নক্ষত্রের স্খলন হল। এভাবেই
খুব অল্প বয়সেই আমরা হারালাম একজন জ্যোতিষ্ককে। কলকাতা সহ সারা রাজ্যের
তখন মূহ্যমান অবস্থা। সকলের মনেই তখন একটিই আশংকা আর তা হল
রোজকার মতো সকালে ‘ভারতবর্ষ’ পাব তো!
নাকি, তারও সাথে সাথেই মৃত্যু হয়ে গেল!
হ্যাঁ,
পাওয়া গেল। এবং তা সম্ভব হল যে
ব্যক্তির কর্মকুশলতায়, তার নাম হল জলধর সেন।
কারণ সেদিন সাথে সাথে ভারতবর্ষের সত্বাধিকারী শ্রী হরিদাস চট্টোপাধ্যায় ছুটেছিলেন প্যারাগন প্রেসে জলধর সেনের কাছে। তাঁকে রাজি করিয়ে তবে ফিরেছেন। কিন্তু জলধর সেন তাঁর কাজের ব্যাপারে এতটাই নিয়মনিষ্ঠ-সৎ ব্যক্তি ছিলেন যে প্রমথনাথ
রায়চৌধুরীর যেন কোন অসুবিধা না হয় সেজন্য
তাঁকে জানিয়ে তাঁর অনুমতি নিয়ে তিনি যোগ দিলেন ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকার সম্পাদকের পদে। এ সময় থেকেই
ভারতবর্ষ পত্রিকা বেশ গৌরব লাভ করেছিল। আর এই পত্রিকাকে
স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও সুনজরে দেখতেন। একটানা ছাব্বিশ
বছর জলধর সম্পাদক ছিলেন।
(দুই)
যে
কথা সেদিন বলা হয়নির
মধ্যে এবার উল্লেখ করব তাঁর রসবোধ এবং বাকচাতুর্য প্রসঙ্গে। আমরা জানি বা অনেকেই জানি না যে সেই
সময় লেখকদের মধ্যেও কয়েকটি গোষ্ঠি ছিল। তবে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, ভারী গোষ্ঠি ছিল ভবানীপুরের সুবোধ দত্তের বাড়িতে গঠিত হওয়া ‘রবিবাসর’ গোষ্ঠী। এর মাথায় ছিলেন কবিগুরু স্বয়ং আর সর্বাধ্যক্ষ
ছিলেন সর্বজনপ্রিয় দাদা জলধর সেন। এই সর্বাধ্যক্ষ পদটির পূর্ণ মর্যাদা তিনি আমৃত্যু
অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন।
তাঁর
রসবোধের কথা বলতে গেলে মনে পড়ে যায় শান্তিনিকেতনের একটি ঘটনা। সেবার ‘রবিবাসর’ গোষ্ঠীর প্রায় চল্লিশজন সাহিত্যিককে কবি তাঁর শান্তিনিকেতনে আহ্বান করেছিলেন। রবিবাসরের সাথে জড়িত সমস্ত সাহিত্যিকের কাছে এর খবর পৌছে
গিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় সর্বাধ্যক্ষ জলধর সেন মহাশয় তখন তাঁর এক
সন্তানের বাড়ি মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে অবস্থান করছেন। শরীরটা কিঞ্চিৎ বিঘ্ন ঘটায়
তিনি বিশ্রামে ছিলেন। এমন সময় তাঁর কাছে খবর পৌছালে তিনিও বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। এবং বাড়ির নিষেধ অমান্য করেই তাড়াতাড়ি ফিরে এলেন কলকাতার বাসায়। এবার একটি বড় দল নিয়ে
রওনা দিলেন শান্তিনিকেতনের উদ্দেশে। এতজনের জন্য বুক করা হয়েছিল একটি বগি। যেহেতু সর্বাধ্যক্ষের শরীরটা বিশেষ ভাল ছিল না তাই সম্পূর্ণ
রাস্তাটাই তিনি শুয়েই গিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ একেবারে স্টেশন থেকে শান্তিনিকেতনী রীতিতে
আপ্যায়ন করে গাড়িতে করে নিয়ে গিয়েছিলেন অতজন সাহিত্যিককে। তা দেখভাল করেছিলেন
রবীন্দ্রনাথের সেক্রেটারী অনিলবাবু।
পরের
দিন সকালে যথারীতি কবির সাথে সকলের সৌজন্য সাক্ষাতকারের একটা ব্যাপার ছিল আর সেই সাথে
ছিল প্রাতঃরাশ। তারপর তারা সকলেই যাবেন শ্রীনিকেতন দেখতে। রবীন্দ্রনাথ সেখানে হাতে কলমে ছাত্রদের কী কী শেখান
হয় তার একটা প্রাথমিক নিদর্শন দেখানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।
প্রাতঃরাশের
সময় রবীন্দ্রনাথ সামনে বসে সকলকে খাওয়াচ্ছেন। যার যার পাত খালি রয়েছে তাদের আরো দিতে বলছেন। এমন সময় দেখলেন তাঁর সামনে যিনি বসে এক মনে খাচ্ছেন
তাঁর পাতে সামান্য কয়েকটি মিষ্টি ছাড়া আর লুচি-তরকারি নেই। এই
অবস্থায় তিনি তাড়াতাড়ি নির্দেশ দিলেন- “এই তোমরা জলধর দাদাকে
আরো দাও। আচ্ছা দাদা এই প্রাতঃরাশ খেয়ে কি
আপনার উদর তৃপ্ত হয়েছে?”
এর
উত্তরে জলধর দাদা বললেন, “উদর তো বুঝতে পারেনি যে এটা
প্রাতঃরাশ, নাকি দ্বিপ্রহরের আহার!”
রবীন্দ্রনাথের গোঁফ
তখন দুষ্টুমিতে থরথর করে কাঁপছে। তিনি আবার দুষ্টুমি করে বললেন, “জলধর দাদা এবার আপনার আর কী চাই?”
উত্তরটা
বোধ হয় তাঁর তৈ্রিই
ছিল। কারণ তিনিও সাথে সাথে রবীন্দ্রনাথের উদ্দেশে বললেন, “এই মুহূর্তে পালাবার পথ চাই”।
তাঁর
এমন রসবোধের উদাহরণ হয়তো আরো রয়েছে। কিন্তু এমন কথায় সেদিন রবীন্দ্রনাথও যে বেশ খুশি
হয়েছিলেন তা বলাই বাহুল্য।
শান্তিনিকেতন থেকে ফিরে আসার প্রাককালে সেখানকার প্রচুর ছাত্রী এবং
ছাত্ররা ঘিরে ধরেছিলেন বিশেষ করে জলধর সেনকে। কারণ তারা এত কাছ থেকে কখনও কোন বিখ্যাত
পত্রিকার সম্পাদককে দেখেননি। ফলে দৃশ্যটা এমন ছিল যে জলধর সেন একটি চেয়ারে বসে রয়েছেন
আর তাঁকে ভ্রমরের মতো ঘিরে রয়েছেন প্রচুর ছাত্রী-ছাত্রেরা। সকলের হাতেই একটি করে খাতা।
সকলেরই ইচ্ছে যে তাদের খাতায় যেন ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকার সম্পাদক মশাই তাঁর মূল্যবান দস্তখৎ
করে দেন। জলধর সেন সুবোধ বালকের মতো মাথা নিচু করে প্রত্যেকটি খাতায় শুধু তাঁর নামই
লিখছেন না, সামান্য মন্তব্যও করছেন। যেমন তিনি লিখে চলেছেন- আয়ুস্মতি ভব- সুগৃহিনী
ভব- উপযুক্ত স্ত্রী হও- লক্ষীমন্ত স্ত্রী হও- সুগৃহিনী হও- ভাল মা হও ইত্যাদি ইত্যাদি।
সবটাই তিনি মাথা নিচু করে একমনে লিখে চলেছেন। কারণ এবার তাদের কলকাতায় ফিরে যাবার পালা।
দেরি হলে ট্রেন ছেড়ে দেবে। হঠাৎ একজন ছেলে প্রায় কাঁদো-কাঁদো গলায় বলল- ‘স্যার, আপনি
আমার খাতায় কেন লিখলেন যে ভাল মা হও। কিন্তু আমি তো—‘
যার খাতায় এমন কথা লেখা ছিল সে তো ছিল ছেলে, তাহলে সে অমন মন্তব্য
মানবেই বা কেন! জলধর সেন একমুহূর্ত ছেলেটির মুখের দিকে তাকিয়েই নিজের ভুল বুঝতে পেরে
সাথে সাথে লিখে দিলেন- ‘ভাল মা হও’ এর জায়গায় ভাল ‘মামা’ হও। এবার ছেলেটির মুখে হাসি
ফুটে ওঠে। কিন্তু এই ‘মা হও এবং মামা হও’ নিয়ে বেশ কিছুদিন আলোচনা মহলে রগর চলেছিল।
এতে জলধর সেনের বক্তব্য ছিল- ‘এমন কাজের পেছনে নির্ঘাৎ রবিবাবুর মাথা রয়েছে’। এমন ছোট
ছোট খুনসুটিগুলো থেকে আমরা বুঝতে পারি রবীন্দ্রনাথ এবং জলধর সেনের মধ্যে কত গভীর শ্রদ্ধা-ভালোবাসা
জড়িয়েছিল।
দেশ পত্রিকার দপ্তর তখন ছিল বর্ধন স্ট্রীটে। সেখানে প্রতি শনিবার বিকালের
দিকে সম্পাদক সাগরময় ঘোষের ঘরে লেখকদের বেশ জমাটি আড্ডা হত। টেবিলের উপরে খবরের কাগজের
উপর টিলা সদৃশ মুড়ি থাকত আর তার সাথে থাকত আরো আনুসঙ্গিক কিছু খাবার। যেমন বাতাসা-নারকেল,
ছোলা-বাদাম এবং বেগুনি। সব শেষ থাকত চা। মূল গাল্পিক ছিলেন বিমল মিত্র মশাই এবং স্ব্য়ং
সম্পাদক সাগরময় ঘোষ। আর আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিলেন জলধর সেনের সাথে কোন লেখকের কেমন
সম্পর্ক নিয়ে গল্প। মুহূর্তেই অনেকের ঝুলি থেকেই বেরিয়ে আসত ছোটখাট অনেক মুহূর্তের
গল্প। বেশ মজার ছিল সেই গল্পগুলো। অথচ কেউ কোনদিন জলধর সেনের বিরুদ্ধে একটিও কটু বাক্য
ব্যয় করেননি। বরং সকলেই বলতেন জলধর সেন হচ্ছেন একজন অজাতশত্রু সম্পাদক।
এমনই সব মজার মজার ঘটনা গত ১৬.৩.২৬ তারিখে কারোর মুখেই আলোচিত হয়নি।
অবশ্য এর মূল কারণ ছিল সময়াভাব। তবে উপস্থিত সকলেই ভীষণ ভাবেই উপভোগ করেছিলেন এক শার্দুলের
গৃহে (আশুতোষ মুখোপাধ্যায়) আর এক শার্দুলের (জলধর সেন) উপর সেই মনোজ্ঞ আলোচনা।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন