সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

সন্দীপন দাশ

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৬


অ-এ অবেক্ষণ

অনট প্রত্যয়ের মধ্যে থাকা সচরাচর হয়ে ওঠে জাবর কাটা। খাঁটি আর মেকি চিনে নিতেই ট চিহ্নে ঢলাঢলি। পরিদর্শনে এসে জানা গেল দেখা আর দেখার ব্যাপ্তির মধ্যে দূরত্ব ১০ মি.। মেট্রিক পদ্ধতিতে। ভাববাচ্য পদ্ধতিতে রূপান্তর করলে সেটা হবে ভাঙা ভাঙা সিঁড়ি। পর্যালোচনার যে অবকাশ হয়েছে সেখানেও ধাতু নিয়ে চলছে ধাতে সওয়ানোর জোর কদমে অবভাস ও অভ্যাস। পরিদর্শন আর পর্যালোচনার মাঝে যেটুকু ফাঁক অব উপসর্গ এসে বলে গেল তাদের পুকুরে আজ অনেক পাখিদের আসার কথা ছিল না। পাখিরা এসেছিল অনুসন্ধানে। অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেল ধা ও ইক্ষ উত্তর হচ্ছে অনন্তর। বর্গ করলে কিন্তু উত্তর আসে অন্য। আরেক উত্তর চোখের অপেক্ষায়। উত্তরের পাল্টা শুধু উত্তরই থাক। উত্তরোত্তর পর্ব। উত্তরের সুতোগুলো খুলে ফেললে একেবারে একা ইলেকট্রন জোয়ার-ভাঁটা খুলছে আর পরছে। ধা আর ইক্ষ কবিতা লেখা নিয়ে ছলাকলায় রূপককে ডাকাডাকি ভেঙে একটা দরজা এখনও উত্তর দিকে।



অন প্রত্যয় এসে বসল বিয়ে বাড়ির মহলে। অন যদিও ডালে-ভাতে কাটাতেই ভালোবাসে। সবে এখন স্টার্টার শুরু হয়েছে। সিগারেট, কফি আর আড্ডা চলেছে পুরোদস্তুর। শেষ পর্যন্ত অশেষ প্রদোষ মিটার যখন এসে পৌঁছালো স্টেশনের শেষ ট্রেন বেরিয়ে গেছে। এখন শুধু চুন-সুড়কি আর জোনাকির আলাপে হাঁটছে দুজন শ্রোতা। চিরুনিতে সম্ভব ঝুলে থাকা দেশের সীমান্ত। সেই চিরুনি এখনও আঁচড় কাটছে স্টেশনে। দেখাটা তুলে এনে ঝুলিয়ে রাখা সংস্কারের তারে। রোদে শুকায়। বৃষ্টিতে ভেজে।

 

 একটি ভুলভাল কবিতা / কাব্যগ্রাফ

রবীন্দ্রনাথ এখানে বসে কবিতা লিখতে গিয়ে ভুল করেছিলেন বোঝাই যাচ্ছে। সেই ভুলে বসে বঙ্কিমচন্দ্র আর ব্রহ্মনাদ শেরি পানরত। রাতদুপুরে ট্যাবের উজ্জ্বল আলোয় দেখলাম কো-অর্ডিনেটগুলো ক্যারাম খেলতে খেলতে

বিন্দু ক (আনন্দ, প্লেটোনিয়া থেকে না পৌঁছানো আলো)

বিন্দু খ (বসন্ত জাগ্রত, ভুলে ভাঙা দরজা)

বিন্দু গ (পড়ে থাকা বাতিল ছায়া, বিন্দুর দেশের বাড়ি)

বিন্দু ঘ (ঘোষ অঘোষ বর্ণে প্লুটো স্বর, টিং টং বয়ে যায় তিন ধারে সকাল)

বিন্দু ঙ (রঙ্গমঞ্চের রাতদুপুরে বিনা আমন্ত্রণ, অন্তঃসত্ত্বা টিকিটের ফুলদানি শরীর)

বিন্দু চ (কোয়ার্টার ব্যাকে খেলা সন্ধ্যা, যাযাবর হতে চাওয়া লাম্পট্যের গ্রহান্ত) 

 

ছবি

চিত্রঃ বৃত্তের মধ্যে বসে থাকা শবসাধনা আজ থেকে ছুঁড়ে দিল এক পশলা ম্যাটারহর্ণ

রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও লেখালেখি করেননি। এখানে বসে শুধু পড়াশুনা করতেন। বঙ্কিমচন্দ্র আর ব্রহ্মনাদ সদ্য হকি খেলা আরম্ভ করেছেন।

 

চুপচাপ দরজায়

গামলা ভরতি জল, জল থেকে জলে ঢেউ

উঠে এলো স্বপ্নের মধ্যে

ইঁদুরের কিচকিচ, অক্ষরের ফিসফিসানি

জেগে থাকা যখন ঘুমের নাম ও অন্তর

একটা ঠক করে পড়া সন্ধ্যা

 

ভুলে যেতে হয় ভুল করে পড়া নামগুলো

ভুলে যেতে হয় ভুল করে দেখা কিছু ছবি

 

নামিয়ে রাখল খালি কৌটোগুলো

জেগে উঠেও স্বপ্ন দেখতে হয় –

ফাঁকা হওয়ার স্বপ্ন

অভিজ্ঞতা আর স্মৃতির মাঝে ৎ

 

চার্জার খুঁজতে গিয়ে লেখা বন্ধ

মাথায় রিভলবার ঠেকানো চর্যাপদ

মতামত নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে উঁচু করো পর্দা

 

সাড়ে চোদ্দ আনার পৃথিবী

মিলেছে জানলায় পড়ে থাকা ভুলে যাওয়া

একদিন দুপুরের হেঁটে যাওয়া

মন তখনও হঠাৎ

কারা কথা বলছিলো

স্পষ্ট গলার স্বর

১বি বাস ফাঁকা না ভিড় জানার আগেই

এখনও রাস্তায় বাস্তব ও মধু

সাতটা বাজতে যায়

ফোন করল লোকটা

রাস্তায় দাঁড়িয়ে অথবা একটানা পুকুরে

বাড়ি ফিরবে না

বেরোবে না বাড়ি থেকে

রাস্তায় প্রশ্নচিহ্ন পড়ে আছে

মন তখনও হঠাৎ হয়ে আছে 

 

একবার ফুলেরা হওয়ার ব্যতিক্রমে

পুরাতন জমি ফিরে আসার আগে গায়ের জামা

কেউ নেই দরজার ওই দিকে কান পাতার জন্য

কবরে এক অতীতের হাঁটাচলা ২ ছুঁয়ে

কিছু যদি থাকত স্মৃতিতে বাসা বাঁধবার মতো

আমাদের জাগরণ চলে আসে রাস্তায়

 

সস্তায় আরো একবার মোড়ে এসে দাঁড়ায়

ঘাসগুলো এখনও মনে থাকবার টাইম কলে

উঠোনের দরজা খুলে দাঁড়াক খোলা শরীর

 

অপেক্ষা থেকেও না থাকার জানলায়

বেবাক ডালপালা আকাশের গা খুলে

এখনও দাঁড়কাক তাড়াতে ব্যস্ত অতৃপ্ত আত্মারা

 

কী যেন বলছে বন্ধ ঘরটা সেতুসন্ধানে

সৎ থেকে একবারে উল্টো খুলে ছ্যাৎলানো

সময় কাটানোর মধ্যেই ছানা কাটানোর বৃত্ত অব্যয় বৃত্তি 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন