সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৬


তেজস্ক্রিয়া বিস্ফোরক

তোমার চোখ থেকে যে আলো বেরিয়ে আসে তাকে আমি সূর্যের তেজস্ক্রিয়া বলেই চিনি। বিনিময়ে আমি তোমায় উপহার দিতে চেয়েছিলাম চাঁদের থেকে তুলে আনা আলো, আমার গভীর দৃষ্টিপাত। তবুও যে কোন কারণেই হোক, আমরা কেউ কাউকে ততটা বুঝতে বা চিনতে পারতাম না। ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো।

সেদিনই আমাদের ডিভোর্স হয়েছে। কোর্ট থেকে বেরোতে বেরোতে তোমার দিকে শেষবারের মতো তাকালাম। তোমার চোখ থেকে যে আলো বেরিয়ে আসছিল, তা খুব তেজী, যাকে সূর্যের তেজস্ক্রিয়া বলতাম। আমি আবার ভয় পেলাম। তারপরেই মনটা ভিজে উঠলো। আমার দৃষ্টি থেকে কিছুটা নরম চাঁদের আলো তোমাকে উপহার দিতে চাইলাম। সেদিনই তো আমাদের আইনি-বিচ্ছেদ হয়েছে! তাই আমার দৃষ্টির নরম চাঁদের আলো তোমাকে উপহার দেয়া সম্ভব হলো না! কোর্টের পরিসর থেকে মাথা উঁচু করে তুমি ফিরে যাচ্ছিলে।

কোর্ট থেকে ফিরতে ফিরতে আরও ভালোভাবে অনুভর করলাম - তোমার তেজস্ক্রিয় আলোতেই আমি এতদিন আলোকিত ছিলাম। আমার নিজের ভেতরে হয়তো ততোটা আলো ছিল না! ঘন্টাখানেক আগে তোমার সাথে বিচ্ছেদ এখন আমাকে সত্যিই সম্পূর্ণই আলোকশূন্য করে দিয়েছে।

আমাদের সংসার তোমার তেজস্ক্রিয়াতেই ভর করে চলতো। সে ভাবেই আমার দিনযাপন। এই তেজস্ক্রিয় আলো নিয়েই তুমি আমাকে দিনের পর দিন ভালোবেসে গেছো। আমার চাঁদের আলোর নরম চাহনি দিয়ে আমি হয়তো তোমাকে ততটা ভালোবাসতে পারিনি।

আমাদের বিবাহ-বিচ্ছেদের কয়েক মাস কেটে গেছে। তুমি কাছেই শহরটাতে তোমার বাপের বাড়িতে থাকো। এতোদিনে আমি মন স্থির করলাম, আর বিচ্ছেদ নয়, আমি তোমার কাছেই ফিরে যাবো। তোমাকে বোঝাবো। সব কিছু মিটিয়ে নেবো।

এইসব ভেবে আজ সকালে আমি নিজেকে তৈরী করলাম। উবের ট্যাক্সি বুক করালাম। তোমার সাথে দেখা করতে যাবো! তক্ষুনিই খবরটা এলো!

সূর্যের তেজস্ক্রিয় বিস্ফোরণ তো তোমার ভেতরেই ছিল। সেই বিস্ফোরণই তোমার কাল হলো! শুনলাম, গত রাতে রাগে অভিমানে তুমি নিজেকেই নিজে শেষ করে দিয়েছো। আত্মহত্যা করে আমার থেকে দূরে, অনেক দূরে, তুমি চিরকালের জন্য হারিয়ে গেছো!

 

 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন