শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

উদয় চট্টোপাধ্যায়

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৫


ব্যর্থতা

 

তুমি বেশ লেখ

অথচ তোমার দ্বিধাবিভক্ত মন

ধরা দেয় না কবিতায়,

তুমি বেশ লেখ

অথচ তোমার স্বপ্নেরা হারিয়ে হারিয়ে যায়…

 

একদিন জলে নেমেছিলে –

জল নয়, প্রত্যাবর্তনের চিহ্ন নিয়ে   

শুকনো বালি পায়ে লেগে আছে,

একদিন খেলেছিলে খুব,

কলরব কান্না হয়ে গেছে…

  

তুমি বেশ লেখ –

অথচ জলের দাগ জমাট কান্নারা

মিলিয়েছে হাওয়ায় হাওয়ায় – কবিতায় নয়…

 

 

বিশ্ববীক্ষা

 

পৃথিবীকেন্দ্রিক বিশ্ববীক্ষা মানুষকে অন্ধকারে রেখেছে বহুদিন –

মধ্যযুগীয় চার্চ ব্রুনোকে পুড়িয়েছে বাইবেলের দোহাই দিয়ে,

গ্যালেলিওকে পাঠিয়েছে কারাগারের নির্বাসনে,

তারপর অনিবার্য এসেছে রেনেসাঁ …

 

এখন সৌরমণ্ডলের অবিসংবাদিত অধিপতি হয়ে বসে আছেন সূর্যদেব, 

আপাতত অল কোয়ায়েট অন দি কসমিক ফ্রন্ট …

 

এখনও তবু আমারই চেতনার রঙে

পান্না উঠছে সবুজ হয়ে ---

আত্মকেন্দ্রিক বিশ্ববীক্ষা থেকে মানুষের মুক্তি কি হবে কোনদিন?

 

 

দিশাহীন

 

পূর্বজেরা সকলেই গত হয়েছেন এই আক্ষেপ নিয়ে--

নতুন প্রজন্ম দিশাহীন।

সমাগত অন্তিম প্রহরে এই প্রশ্ন কুরে কুরে খায়--

আমরা কি এমনই ভাবি নি?  

আঙুলের ফাঁক দিয়ে জীবনের গলে যাওয়ার আগে

কখনও কি ভেবেছি একবার –

পূর্বজদের যেমন ভেবেছি আহাম্মক

আমাদের অনুজেরা তেমনই কি ভাববে না আমাদের?

 

স্বার্থপর জীন তার কাজ করে যায় নিরলস

প্রতিকূল পরিবেশে নিরন্তর বাঁচার সংগ্রামে।

মূল্যবোধ বদলায় তাই,

বদলায় আচরণ অনিবার্যভাবে,

না-হলে তো অবসান অবলুপ্তিতে!

 

দিশা কিছু সুস্থিত লক্ষ্য নয়,

সেটা আপেক্ষিক – বেদনাপূর্ণভাবে আপেক্ষিক।

 

 

 


৩টি মন্তব্য:

  1. অপূর্ব অভিব্যক্তি ও ভাবনা।

    উত্তরমুছুন
  2. Beautiful! Excellently expressed as always, Sir. Your grasp on language is remarkable. best regards🙏🙏

    উত্তরমুছুন
  3. কবি কি কখনও তৃপ্ত নিজের লেখনীতে?
    দিশাহীন…কি বাস্তব জীবনদর্শন! এই বেলাশেষে পরতে পরতে অতীত এবং বর্তমানের বিশ্লেষণ!!!
    প্রণাম!

    উত্তরমুছুন