শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অভিজিৎ মিত্র

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৪


মেলা

- তুই কোথায় নেমেছিস?

- করুণাময়ী মেট্রো স্টপেজে।

- একটু সামনের দিকে এগিয়ে আয়। সেন্ট্রাল পার্কের দিকে। ওখানে গেট নম্বর সাত। আমি সামনেই আছি।

- কিন্তু আমি তো ভেতরে ঢুকে পড়েছি। আট নম্বর গেট দিয়ে, সামনেই দেখছি বইমেলার একটা মঞ্চ।

- মেট্রোটা ডানহাতে রেখে সোজা এগিয়ে আয়, পুলিশ ক্যাম্পের পাশ দিয়ে। বড়জোর দু’মিনিট। আমি সামনেই। ওটাই গেট নম্বর সাত। দেব সাহিত্য কুটিরের স্টল। ৩৭৪। এগিয়ে আয়।

ফেব্রারীর প্রথম দিন, রবিবার। কলেজ ছাড়ার দশবছর পর সমর আর পথিকের দেখা হল, বইমেলার ময়দানে। প্রথম দেখায় দুজনে দুজনকে একবার জড়িয়ে ধরল, তারপর সোজা দেব সাহিত্য কুটিরের স্টলে। কলেজে পড়ার সময়েও ওরা পালা করে শুকতারা পড়ত।

- শোন, এবার আমরা উল্টোদিকে হাঁটব, গেট সাত থেকে আস্তে আস্তে এক নম্বর গেটের দিকে। হাঁটব আর বই দেখব। তারপর ফিরব, সোজা ন’নম্বর গেট। বাসস্ট্যান্ড থেকে উল্টোডাঙ্গার একটা বাস ধরব, বেরিয়ে যাব। ওকে?

- তুই যা বলবি। তুই প্রতি বছর আসিস, আমি তো দশবছর পর এলাম, সুতরাং চিনি না।

প্রায় একঘন্টা ঘোরাঘুরি করে ওরা একটা কফি স্টলের সামনে থামল।

- একটা জিনিষ দেখলাম। বেশ কয়েকটা পলিটিকাল পার্টির স্টল। আগে থাকত না। এবং সেখানেই দেখলাম ভিড় বেশি। গানবাজনা আর মাইকের চিৎকার।

- ঠিক।

- আরো একটা ব্যাপার। প্রায় প্রতি মোড়ে দেখলাম কোনো না কোনো প্রফেশনাল কলেজের স্টল। সেখানে কোনো বই নেই, শুধু গান বাজনা, আর কলেজের প্যামফ্লেট বিলি হচ্ছে। কলেজের প্রচার। অদ্ভুত লাগল।

- এটাও কারেক্ট। এখন বইমেলার চরিত্র অনেক বদলে গেছে। এখানে এখন সিনেমার স্টল, জুয়েলারি কসমেটিক্সের স্টল, ফুটবল ক্রিকেটের স্টল, সব পাবি। আর খাবার দোকান তো অগুনতি। বেসিকালি এটা এখন মিলনমেলা হয়ে গেছে।

- হ্যাঁ, কিন্তু এর ফলে আসল জায়গাটা চোট খাচ্ছে না তো? নামী পাবলিশার ছাড়া ছোট স্টলগুলোয় ভিড় তো দেখলাম একদম নেই।

- সেটা দেখা বা বোঝার মত বোদ্ধা এখন খুব কম। সবাই এখানে ঘুরতে আসে, মজা করতে আসে। যাই হোক, ওসব ছাড়। চল, ৫৮০ নম্বর স্টলে। একটা সারপ্রাইজ আছে তোর জন্য।

 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন