শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সন্তর্পণ ভৌমিক

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৪


প্রত্যঙ্গ বিচার

যেহেতু স্তাবক আছে

দেবতা-প্রবর সব আসবেন ধীরেআস্তে এই দীনলোকে

তুষ্টিকল্পে বসে আছে বিব্রত ত্রিকালদর্শী

অন্ধ আগন্তুক আর শ্বাপদ কয়েক

কিসের আশায় আজ বৈতরণ ঘাটে

অচল ঘাতক এক বসে আছে কয়েক বছর

 

আমি সুসভ্য মানুষ দেখি

নিমন্ত্রণ খেতে আসে মধ্যাহ্ন যখন

আমি উপাচার দেখি

আর ভীত ও ব্যস্ত হয়ে উঠি

কেননা আমার দেহ, এবং ব্যবচ্ছেদ

তাহাদের মনে হলো অতি লোভনীয়।

 

আগুন ভয়

তুমি স্তব্ধ হয়ে থাকো

নিহত নগর জাগে শকুনের সাথে

সমুদ্র নগরী আজ বিষণ্ন সহজ

 

কারা আজ বিচলিত বনবরিষণে

নিদ্রা কার অতল গভীর

খুঁজে দেখো অন্ধকারে নক্ষত্রমণ্ডল

অথবা ভোরের আলো

পায়ে পায়ে প্রত্যাখ্যাত হয়ে গেছে কবে

 

নিভৃতে বসে আছে ত্রিকালদর্শী

ভ্রমপূর্ণবায়ু যার দৈব উপাচার

মনুষ্য সন্দেহে বাড়ি দ্রুত নিয়মিত

আর তুমি মগ্ন হয়ে থাকো ধ্যান, অপমানে

আগুন জ্বলছে রোজ মহুয়ার রাতে

আর ভীত আসমানে।

 

মানুষ ও পরিবর্তন

লুপ্ত হয়ে রও তুমি

ঘনতর জঙ্গলের শামুক গহ্বরে

আকস্মিক স্বপ্ন হোক

পড়ে যাওয়া বজ্রের আহত সংকটে

তুমি দাঁড় নিয়ে চলে এসো আষাঢ় সন্ধ্যায়

আর রাষ্ট্রজন জেনে রাখো

নৌকার গলুই হবে বৈরাগীর দুঃস্থ এক পুরনো কাপড়ে

 

কেউ কি বাতাস হয়ে টেনে নেবে নিশ্চিন্তে

শতাধিক কবর যেখানে?

যেখানে অপেক্ষারত

বোবাকালা দেহজীবি বেঢপ বিশেষ

আমি তার দেখাপ্রার্থী

তার অভিশাপে নাকি হয়েছি মানুষ

অতএব মৃত্যু হোক

তোমার ছোবল থেকে

বাষ্প হোক গলিত মগজ।

 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন