রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

রাজেশ গঙ্গোপাধ্যায়

 

সমকালীন ছোটগল্প


গল্প না

একটা সম্পন্ন গল্পের খোঁজে বেঁচে থাকা জিম্মা রেখে ক্লান্ত হয়ে পড়তে চায় ও। কিন্তু পরক্ষণেই আবার নতুন উদ্যমে স্পন্দিত হয়ে ওঠে। কারণ একটা মোক্ষম গল্প লিখতে না পারলে ওর মুক্তি নেই। গুরুদেব বলেছিলেন –“চোখ কান খোলা রাখবি সবসময়। অপ্রত্যাশিতভাবে উপাদান পেয়ে যেতে পারিস। তোর কাজ হবে শুধু সংগৃহীত তথ্যদের শব্দের পর শব্দে সাজিয়ে তোলা। লিখতে শুরু করে একটানা লিখে যাবি। বেশ কিছুক্ষণ পর থামবি। যা লেখা হল, তাকে পড়বি বেশ ক’বার। এমনও হতে পারে যা লেখা হল, পছন্দই হল না। মায়া করবি না, খারিজ করে দিবি। আবার শুরু করবি। আবার পড়বি। মনের মত না হলে, সে লেখা কোনভাবেই রাখার চেষ্টা করবি না। মনে রাখিস তোর লেখার প্রথম পাঠক তুই নিজেই এবং নিজের লেখার প্রতি কঠোর ও নির্মোহ না হতে পারলে ব্যর্থ হবে সব।

গুরুদেবের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে চায় ও। কতদিন হয়ে গেল গভীরভাবে একনিষ্ঠ হয়ে থেকেও… নাঃ কোন গল্পের খোঁজ পাওয়া যায়নি। সামনে রাখা সাদা পৃষ্ঠা ছুঁয়ে বয়ে গেছে হাওয়া, ফড়ফড় করে উঠেছে পৃষ্ঠারা, যেন বলতে চেয়েছে – শব্দ ভরে তোল আমার শরীর। কিন্তু কলমের পৌরুষ স্পষ্ট হল কই! পৃষ্ঠার আকুতির সামনে নতমুখ হয়ে থাকা কলমের নৈঃশব্দকে কুরে কুরে খেয়ে ফেলতে থাকে সময়ের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ। পৃথিবী চলতে থাকে নিজের মত। কারো দিকে তার কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। যে যার নিজের মত করে এই চলনে জুড়ে দিতে চায় নিজেকে। যে পারে, সে তো পারেই। যে পারেনা, সে ছিটকে যায় মূলস্রোত থেকে। পৃথিবী শুধু সফলদের জন্য, তা কিন্তু নয়। অসফলদের জন্যও বরাদ্দ থাকে পৃথিবীর কিছুটা। এই ভারসাম্যের স্থিতিই তো এ জগত।

ওর এত গভীরে ঢুকতে ইচ্ছে হয় না। ও শুধু খুঁজে বেড়ায় এবং খুঁজেই বেড়ায়। ট্রেনে বাসে যেতে যেতে, হাঁটতে হাঁটতে, এমনকি ভিড়ের ভেতরেও ও খুঁজে বেড়ায়। সবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। অবাক হয়ে যায় ভেবে যে এত মানুষ, এত রকমের মানুষ, এই বৈচিত্র্যের নিয়ন্তা কে! ঋতু বদলে যায়, তার সাথে সাথে যাপনপ্রণালীও। মানুষ অভিযোজিত হতে হতে টিঁকে থাকে। টিঁকে থাকতে থাকতেই লাভ ক্ষতি, হারজিত, আদানপ্রদানের সমূহ কৌশল ঘিরে যা থাকার মত করে ঘনিয়ে উঠেছে বলে মনে হয়, তার কিছুই থাকেনা। প্রকৃতি দিয়েও ফিরিয়ে নেয় আবার। আমাদের ইচ্ছে অনিচ্ছের কোন তোয়াক্কা করে না। ও ভাবে যদি খুঁজে পাওয়ার আগেই শেষ চলে আসে।

ওই যে লোকটা, দেখে মনে হচ্ছে না ওর খুব একটা ব্যস্ততা আছে বলে। সে মাটি থেকে কুড়িয়ে নিল একটা ঝরে যাওয়া পালক। তারপর পালকের নীচের দিকের রোমগুলো ছিঁড়ে ফেলল যত্ন করে। একসময় একটা তুলির মত পদার্থ হয়ে উঠল পালকটা। একটা সোজা কাঠি যার মাথায় সামান্য কিছু রোঁয়া। এবার সেটিকে নিয়ে কানের ফুটোর ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে আলতো করে ঘোরাতে লাগল সে। আরামে বুজে আসতে চাইছে তার দু চোখের পাতা। স্পষ্ট অনুভব করতে পারা যাচ্ছে তার সুখ। কত অল্পেই সে বিভোর হল। কত অকিঞ্চিতে সে মুহূর্তের লাগাম নিল নিজের হাতে। এই সময় হয়ত কোথাও স্বাক্ষরিত হয়ে উঠছে জরুরী চুক্তি, কোথাও পাড় ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে দামাল নদীটা, স্বজন হারাচ্ছে কেউ, বেলা পড়ে আসছে, ভূমিষ্ঠ হচ্ছে কোন নবজাতক, আনমনা ষোড়শীর দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকালো এক সদ্য যুবক, যেভাবে তাঁর পূর্বপুরুষও তাকিয়েছিল, ধ্বংস হচ্ছে কোন গ্যালাক্সি, এক ধূমকেতু উদ্দেশ্যহীন উড়াল খুঁজে পেল… আবিশ্ব কত কিই না ঘটে যাচ্ছে, তবু সে তার নিজস্ব সুখের বিচ্যূতি ঘটতে দিলনা। মর্জির ব্যক্তিগত যানে সওয়ারী হয়ে ও নিজেও কি একটি যুতসই গল্পের চরিত্র হয়ে উঠতে পারেনা?

গতকাল সন্ধ্যের সময় অঘ্রাণের অকাল বৃষ্টিতে না চাইলেও ও তুমুল ভিজেছে। রাত থেকেই গা হাত পা ম্যাজম্যাজ করছিল। একটা প্যারাসিটামল খেয়ে নিল আগেভাগেই। রাতে আর সেভাবে কিছুই খায়নি। ইচ্ছে করছিল না। শুধু লিকার চা আর ক্রিমক্র্যাকার বিস্কুট খেয়েছে একবার। তারপর ঘুমিয়ে পড়েছে। একটা ঘোরের মত গহন ঘুমে তলিয়ে যেতে যেতে ওর মনে ভেসে উঠছিল অনেক কথা। কিন্তু স্পষ্ট হওয়ার আগেই তারা মিলিয়ে যাচ্ছিল কোন চিহ্ন না রেখেই। সকালবেলা ঘুম তরল হয়ে এলেও এত জ্বালা করছিল যে চোখ খুলতেই পারছিল না। তার মানে জ্বরটা ওকে পেড়েই ফেলল শেষপর্যন্ত! শরীরখারাপের চেয়েও বেশী মনখারাপ হয়ে গিয়েছিল ওর। কয়েকটা দিন আর বেরোনো যাবেনা, টইটই করা যাবেনা এখানে ওখানে। গল্পের খোঁজ পেতে আরও কয়েকটা দিন নষ্ট হয়ে যাবে। যদি এর মধ্যে সত্যিই কোন প্লট ওরই জন্য দানা পাকিয়ে ওঠে, শুধু ওকে খুঁজে পাবেনা বলে সে হয়ত আর রূপ পাবে না। কেউ কি খুঁজে পাবে তাকে? এসব ভাবতে ভাবতে ওর আবার ঘুম পেতে থাকে। কষাটে একটা অনুভূতির উড়ান প্রস্তুত হয়ে উঠতে থাকে অলক্ষ্যে। যেন ওকে আসঙ্গলোভ থেকে ব্রাত্য করে তোলার জন্যই চতুর্দিকে সাজ সাজ রব। আশ্চর্য! এরই মধ্যে ওর মনে হতে লাগল এত বছর পর গুছিয়ে জ্বর এল, উদযাপন হোক। পরক্ষণেই নিজের বিচ্যূতির জন্য নিজেকেই দুষতে থাকে ও। মনঃসংযোগে কি চিড় ধরছে। ব্যর্থতার এই দীর্ঘ পথ পার হতে হতে কি ওর মোহভঙ্গ ঘটছে! ও আর ভাবতে পারেনা। কখন যে আবার ঘুমের শাসনে সমর্পিত হয়ে পড়েছে খেয়াল নেই।

পায়রা ওড়ানো দেখতে দেখতে বিকেল ফুরিয়ে এলে ও একটা ধূসর মাঠ দেখতে পায়। সেই মাঠের দিকে তাকিয়ে মনে হয় যেন আকাশে গিয়ে মিশেছে। কেউই নেই। জনমানবহীন সেই প্রান্তরে সবুজের মেলায় ভেসেছে অলীক নৌকো। এই বন্ধুতাহীন মাঠের কি কোন মনকেমনকরা আছে? জানতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু উপায় নেই। অসীমের হাতছানি মূর্ত হয়ে উঠেও তার আদলে উদ্বায়ী বাষ্পের ক্ষণস্থায়ীত্বের উজান। ওই যে পায়রা ওড়ানো ছেলেটি হাততালি দিতে দিতে জিভ দিয়ে মুখের ভেতর অদ্ভুত শব্দ করে পায়রাদের নিয়ন্ত্রণ করে, ও কি পাখিদের ভাষা জানে কিংবা পাখিরা ওর ভাষা! সংযোগ কিভাবে হয়…এ এক আশ্চর্য শৈলী না? অন্তরে যে অব্যক্ত স্বর সুর হয়ে ওঠে তার জন্য বাধিত রাগিনীকে কে চেনায় আলোর বাতিঘর? কে? জ্বর ছেড়ে যাওয়ার পরও মুখটা বিস্বাদ হয়ে থাকে। কিছুই ভালোলাগেনা। কিচ্ছু না।

লীনাদি রোজই মাঝরাত ছুঁই ছুঁই সময়ে একটা কালো দামী চারচাকা গাড়ি থেকে এসে নামে পাড়া থেকে একটু দূরে। অধিকাংশ বাড়িরই এসময় জানলা-দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তবু সবাই জানে এসময়ে আসার মত একজনই আছে। লীনাদির চরিত্র নিয়ে আলোচনা করতে গেলে এ পাড়ার সবাই গঙ্গাজলে ধোওয়া তুলসীপাতাটি হয়ে যায়। যেন কারো জীবনে একবিন্দু পারভার্শন নেই। সে শ্যামসুন্দর মল্লিকই হোক কি সুবর্ণা কাকী। এসব আলোচনাকে থোড়াই কেয়ার করে লীনাদির মাথা উঁচু করে হেঁটে যাওয়াটা ওর বেশ লাগে। একমাত্র ও-ই বোধহয় লীনাদির সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলে। লীনাদি মাঝেমাঝে হেসে বলে, “তোর ভয় করেনা, আমার সঙ্গে কথা বলিস?” ও কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে থাকে লীনাদির মুখের দিকে, তারপর মাথা নীচু করে চলে যেতে চাইলে, লীনাদি বলে ওঠে –“দাঁড়া। চলে যাচ্ছিস যে?” “তুমিই তো বলছ। হয়ত তুমি নিজেই চাওনা, আর ঘুরিয়ে আমাকে বলছ।” “ঠাস করে একটা চড় কষিয়ে দেব। পাকাপাকা কথা বলতে শিখেছিস না?” ও চোখ ছোট করে নিঃশব্দে হাসে, তখন রাস্তার অ্যানিমিক আলোগুলোও যেন উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। লীনাদিও হেসে ফেলে। তারপর কিছুক্ষণ এটা সেটা গল্প করে লীনাদি তাড়া দেখিয়ে বলে ওঠে –“যাই রে। এরপর সব কাজ সেরে শুতে শুতে দেরী হয়ে যাবে।” ও নীরব মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। কিছুটা এগিয়ে গিয়েও আবার ফিরে এসে লীনাদি বলে –“মেয়েটা বড় হয়ে আমাকে ঘেন্না করবে, না রে? ওকে আমি কিচ্ছু বোঝাতে যাবনা, জানিস? ও যদি নিজে থেকে বুঝে নিতে পারে তো বুঝবে, নাহলে আর কিই বা করার আছে।” লীনাদি হাঁটার গতি বাড়িয়ে চলে যায়।

এই কথাগুলোর ভেতরে যে স্পষ্ট চোখের জলের বিন্দুগুলো অদৃশ্য হয়ে রইল, ওরা কি অদৃশ্য থাকতে পারল! ওদের অস্তিত্ব বুঝে ফেলাই কি জীবনের মূল সুরকে বেঁধে দিল না প্রাণের আত্মিক চলনে! ও ভাবে, ভাবতেই থাকে। সমাজ যাকে নষ্ট বলেছে, তার কষ্টের কাচ গেঁথে যায় একটা পাঁচিলের ওপর, যাকে পেরোনো যায় না। কেউ চায়ও কি আদৌ! পাঁচিলটা ভীষণ দগদগে হয়ে জেগে থাকে সীমানার সূচক হয়ে।

বেড়ালটার নাম মায়া। কেমন বোকা বোকা একটা চাউনিতে যখন তাকিয়ে থাকে কার্ণিশে বসে, মনে হয়…মনে হয় যেন ভেতরটা পড়ে ফেলছে যেন। ও লাফ দিয়ে ব্যালকনির রেলিং বেয়ে এসে ছোট ছাদটায় একেবারে সামনে চলে আসে। একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। আঃ মায়া! যাবি তুই! কি আশ্চর্য আর তিলমাত্র দেরী না করে ও চলেও যায়। কোথায় যায় কে জানে! কোনদিনও শোনা যায়নি মায়া কারো মাছ চুরি করেছে বা দুধের বাটিতে মুখ দিয়েছে। খেতে দিলেও গোগ্রাসে খেতে দেখেনি কেউ। বড় মিষ্টি করে ছোট্ট ‘মিউ’ ডাকে নিজেকে বুঝিয়ে দিয়েই ওর চলে যাওয়া। চলে যায় সাদা কালো পিঠের ওপর অন্ধকারের চাপধরা দমবন্ধ অমোঘকে নিয়ে। চলে যায় অলক্ষ্যে অপ্রীতিকর আসঞ্জনের ছাড়পত্র ছড়িয়ে। মায়ার মুখোমুখি হতে সব্বাই ভয় পায় কেন? আসলে এমন নিঃশব্দ এক্সরে দৃষ্টির সামনে আজও নড়ে যায় আমাদের সকল গাম্ভীর্য। আত্মপ্রতিকৃতির সামনে দাঁড়াতে আমাদের স্বচ্ছন্দ না হওয়ার এই টানাপোড়েনের বিষয়ে মায়া কি জানে! জানলেও কি নিজের স্বভাব ও বদলাতে পারবে? মায়া কারো পোষা নয়। এই মহল্লায় মায়া সব্বার। কারো রাস্তা কাটেনি কোনদিন। ওর অনধিকার চর্চা সকলকে বিরক্ত করে তোলে। আসলে সন্ত্রস্ত করে তোলে বোধহয়। মায়া শ্রুডিংগার সাহেবের নাম শুনেছে কখনও! প্রতিপাদ্যে ধ্রুবক হয়ে জেগে থাকা চাঁদের নীচে মায়ার অপার মার্জার জন্ম নিয়ে কি গড়ে উঠতে পারেনা আস্ত একটা গল্প! মায়া কি আহত হবে ওকে নিয়ে গল্প লিখিত হলে! কেউ জানে না। অথচ কেউ লেখেওনি কোনদিন। কারো লেখার কথা মনেও হয়নি। এই সংকটের সাঁকোয় এসে দাঁড়ালে মায়াও এসে চুপ করে বসে থাকে সময়ের অব্যর্থ প্রতিভূ হয়ে।

দীর্ঘদিন পর ও অনুভব করল দুএকটা শব্দও জমা হয়নি লেখার মত। অথচ দেখায় তো কম ছিল না। গুরুদেবের নির্দেশ মান্যতা দিয়ে পড়েছেও বিস্তর। কি সব অসাধারণ ছোটগল্পের সম্ভার বাংলা সাহিত্যে! রবীন্দ্রনাথ তো ছেড়েই দিলাম। তাঁর সমসাময়িক ও পরবর্তী প্রজন্মের হাতে সযত্নে লালিত হয়েছে ছোটগল্পের সমৃদ্ধ ধারাটি। তাহলে কিসের প্রয়োজন এই অমৃত ভান্ডারে নিজের অহেতুক অবদানের ভার চাপানোর। হ্যাঁ, ওর যে একটা সুপ্ত ইচ্ছে আছে, এ মিথ্যে নয়, কিন্তু গুরুদেব কেন ওভাবে বললেন – “গল্প তোকে লিখতেই হবে। দরকার হলে সারাজীবনে একটাইমাত্র লেখ, কিন্তু এই ঋদ্ধ সমাহার পূর্ণতা পাক তোর লেখায়।” এসব শুনে কে না চেগে যাবে! ওরও সেদিনের পর থেকেই গল্পের খোঁজে নেমে পড়া। ওই যে পাগলাঘন্টি বেজে উঠেছিল, তা আর থামল না এবং ওরও নিস্তার পাওয়া হল না। অবশ্য এভাবে অজুহাত দিয়ে নিজের গূঢ় অভিপ্রায়কে অস্বীকার করাটা সত্যের অপলাপ করা হয়ে যাবে। ও নিজেই তো নিস্তার পেতে চায় না। রিক্সাওয়ালা গোপালদা খুব সুন্দর বাঁশি বাজায়, ধীরেন পটুয়ার ছোটছেলে নবীন প্রতিমা গড়ার পাশাপাশি মাউথঅর্গানে অপূর্ব সুর তোলে, বিনু জেলে মুখ থেকে শব্দসৃষ্টি করে হাজারো পাখির ডাক শোনায়, দূর্গাপুজোর চারদিন পাগল গোবিন্দর মনমাতানো ঢাক বাজানো ছাড়া পুজোই হবেনা। এদের সবাইকে নিয়ে গল্প লিখতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু হয়ে ওঠে না, কারণ সবাই যা দেখেছে, জানে, এর চেয়ে অতিরিক্ত কিছু তো ওর নেই!

সাদা পৃষ্ঠারা ক্রমশঃ হলদেটে হয়ে আসে। অক্ষরের প্রতীক্ষায় থাকতে থাকতে পৃষ্ঠারা বুঝে যায় ওদের অনূঢ়া দশা সহজে ঘোচার সম্ভাবনা নেই। ওরা মেনে নিয়েছে। কিন্তু ও কেন যে পারে না...

_

 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন