রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস

 

ধারাবাহিক উপন্যাস

দ্য ক্লাউড

 


(অষ্টাদশ পর্ব)

বাবলুর পরলোকে আসার উৎস ছিলো একটা দূর্ঘটনা। আর জলে ডোবা এই মেয়েটির? মৃত্যুর পরে, অর্থাৎ শরীর ছাড়ার পরে পারলৌকিক শরীরে কেমনভাবে বিরচিত হবে নদীর, মানে নারীর বহমান কথা, তা এইমাত্র তুলিরেখার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুললো উৎপল চিত্রকর।

শিল্পীর চূড়ান্ত সন্তুষ্টি বলে কিছু হয় না। অন্ততপক্ষে উৎপল সেটাই মনে করে। তবুও তো খুশি হওয়া বলে একটি কথা আছে!

জলে ডোবা মৃতার চোখ আঁকতে গিয়েই উৎপল মেয়েটিকে সুনয়নী করে গড়ে তুলেছে। আত্মায় বসিয়েছে সংসারী জীবের লিঙ্-পরিচয়। অর্থাৎ মেয়েমানুষ। আর তাই, মেয়েমানুষ মানেই ঘরে থাকো। লজ্জাকে ভূষণ মনে করো। বহুগামিতা? নৈব নৈব চ। কিন্তু এই মেয়েমানুষ যে সম্পূর্ণভাবে অচেনা একটি মনের মানুষ!

মনিরত্না ভরদ্বাজের পরলোকের সংসারের মায়ামাখা ঘেরাটোপের ভেতরে এতক্ষণে মেয়েটি চোখ মেলে তাকালে, হাজার তারার আলোর খেলা দেখবার জন্য আশেপাশের অন্যান্য পারলৌকিক সংসারের লোকজন চমকে উঠলো। লোকের মুখে মুখে -- এতো আলো!

লোকজন আরও বলছে - চুল!  চুল তো চুল নয়, সে তো মেঘগলা অলকানন্দা! তার শারীরিক ভাষার মধ্যে কেউ কেউ খুঁজতে শুরু করলো সূর্যের দীপ্তি।

বাবলুর শরীরে চেপে বসলো নবপর্যায়ের একরকমের পৌরুষেয় অব্যক্ত প্রতিক্রিয়া। যে মেয়েটিকে পারিজাত নদীর জলে ছটপুজোর ভোরবেলায় হাত ধরেছিলো সে, এখন সেইমেয়ে যে বাবলুর হাত শক্ত করে ধরবেই, তা কেমন করে সম্ভব হবে!

আজ সকালে খবরের কাগজের নানা ঘটনার ছবি ও লেখা সংবাদকে কুচি কুচি করে উৎপল বেশ একটা কোলাজ বানিয়েছে। কোথাকার কুচবিহারের বেলাভূম গ্রামের হাতির পায়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে মধ্যপ্রদেশের সরকারডাঙার এক বিশিষ্ট বাঙালি মহিলা, যিনি ভারতের মানচিত্রে গত একবছর আগে জেলা সমাহর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। পারিবারিক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে কোচবিহারে গিয়েছিলেন সে-ই মহিলা। আর, তারপরেই হাতির নাচের এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের পর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আজ আকাশে মেঘ না থাকলেও ঘন কুয়াশায় চারিদিক ঢাকা। বেলা প্রায় এগারোটা বেজে গেলেও সূর্যের দেখা নেই। উৎপল ওর চিত্রকর্মের সব আয়োজন সাজিয়ে নিয়ে বসলেও, মনে একটা সাংঘাতিক জিজ্ঞাসা। খবরের কাগজের ছবি ও সংবাদগুলোকে সাজিয়ে তুলবার আবেগের পাশাপাশি একটাই প্রশ্ন -- এতো বড় মাপের সরকারি কর্মী হাতির নাচের অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেলেন, আর ইনটেলিজেন্সের কাছে কোনো খবর নেই?

উৎপলের মাথায় একটা আইডিয়া খেলে গেলো। সে, ও-ই মহিলা সমাহর্তার নিখোঁজ হওয়ার সময়ে গুগলের সার্চারকে কোনো এক আজব বৃষ্টির জলে ভিজিয়ে দিয়ে ইন-অ্যাকটিভ করে দিলো কয়েক সেকেন্ডের জন্য। আর এই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একদল ভূতকে হাতির নাচের উদ্বোধনের সময়ে র‍্যাম্পে হাঁটিয়ে বা দৌড় করিয়ে দিলো। আর তখনই ভূতের রাজা, কোনো এক কুখ্যাত রাজনীতির লোকের ট্রিগার গর্জে উঠলো। কয়েকজন ভূত দ্রুত সেই ডেড বডিটাকে ছুঁড়ে ফেলে দিলো পারিজাত নদীর জলে।

(ক্রমশঃ)

 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন