বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

উদয় চট্টোপাধ্যায়

 

কবিতার কালিমাটি ১৬২

 

আলোছায়া

মেঘেরও একটা সুইচ-অন সুইচ-অফ এফেক্ট আছে

যেটা বিশেষত বোঝা যায় এই বর্ষা আর শরৎকালে;

দুপুরে বিছানায় শুয়ে সিলিঙের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে

দেখা যায় ঘরের সিলিং কখনো মলিন কখনো উজ্জ্বল হয়ে উঠছে,

বোঝা যায় মেঘ কখন সূর্যকে ঢাকা দিচ্ছে আর কখন সরিয়ে নিচ্ছে…

 

মেঘ সুইচ-অন করতে ভুলে যায় গ্রীষ্মকালে দীর্ঘ সময় ধরে,

তখন তো তার দর্শনই মেলে না। আর তার ঠিক উলটো ঘন বর্ষায়,   

সারা আকাশ মেঘে ঢাকা আর সুইচ-অন সারাদিন ধরে…

 

বিষাদের মেঘ আর আশার আলোর এই খেলাই  চলছে  জীবনভর …

 

পাসপোর্ট

কোত্থাও যাব না এখন এই বয়সে –

যখন পা মাথা টলোমলো

চক্ষু কর্ণ হতে আড়াল হতেছে স্বচ্ছ আলো, 

তখন বিদেশ যাবার স্বপ্ন না-দেখাই ভালো।

তবু যখন পাসপোর্ট অফিস থেকে এল স্মারকবার্তা করো পাসপোর্ট নবীকরণ

(সরকারি অফিস তৎপর হয়েছে বিলক্ষণ),

নড়েচড়ে উঠে বসতে হল

যাব কি যাব না মিছে এই ভাবনা নিয়েই…

 

বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি --

কিছু তো হয়েছে দেখা, সেগুলোই স্মরণে ভিড় করে।

বরফে বিছানো শীতের লেনিনগ্রাদ, স্তলোভায়ায় উষ্ণ বোরশ্‌, সঙ্গে কালো রুটি, 

মোজেল ওয়াইন হাতে কবোষ্ণ গ্রীষ্মে ড্রেসডেনে এল্‌বে নদীতে স্টিমার সফর,   

আইফেল টাওয়ারের দোতলার রেস্তোরাঁয় মহার্ঘ কফি নিয়ে প্যারিস সিংহাবলোকন,

লস এঞ্জেলেসের আলোছায়া বারে বিফস্টেক, সঙ্গে মার্গারিটা;

এগুলো তেমনভাবে ফিরে আসবে না সেখানে গেলেও,

নতুন দেশেতে আডভেনচার –- সে তো দুরাশাই…

 

তবু পাসপোর্ট করে রাখা ভালো,

নতুন নিয়মে তা নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র না হলেও।

পরপারে যেতে পাসপোর্ট লাগে না

(যদিও সংশয়বাদী আমি পরপারের অস্তিত্ব বিষয়ে),

তবুও তা অনাবশ্যক মহামূল্য অলঙ্কারের মতো

আলমারিতে বন্ধ থাকলেও  

মনে মনে থাকবে এক অনির্বাচ্য পরিতৃপ্তি –

যেতে পারি যেখানেই ইচ্ছে, কিন্তু কেন যাব?

 

পলাতক সময়

হাতের মুঠোর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে সময় ---

কী করে ধরব তাকে?

জন্মসূত্রে যা পেয়েছি সঞ্চয়

       সে তো নিঃশেষ হবেই একদিন।

সালতামামি করে দেখলে দেখা যাবে

নিঃশেষিত সময়ের কতটা করেছি উপযোগ, কতটা অপচয়;

অস্বস্তি বাড়াবে সেটা, পরিত্যজ্য তাই…

 

এখনও সঞ্চয়ে রয়েছে যতটুকু

তা দিয়ে আকাশ দেখা যায়, ভেজা যায় নতুন বৃষ্টিতে,

লাগানো যায় দু চারটে চারাগাছ –তাদের যত্ন নেওয়া যায়,

খোঁজ নেওয়া যায় পরিচিত জনের,

প্রয়োজন হলে বাড়ানো যায় সাহায্যের হাত …

 

পলাতক সময়কে এভাবেই শিক্ষা দেওয়া যায়…

 

 

 

৫টি মন্তব্য:

  1. খুব সুন্দর কবিতা পড়লাম, আন্তরিক শ্রদ্ধা

    উত্তরমুছুন
  2. bheeshon sundar bhabna aar taar obhibyakti as always. thank you for sharing. khub bhalo thakun, sir. best regards, 🙏🙏

    উত্তরমুছুন
  3. পলাতক সময় ও পাসপোর্ট কবিতা দুটিতে বক্তব্য জনিত এক মেদুর ভালোবাসা রয়েছে। পাঠ মগ্ন পাঠক মন কবির সেই উপলব্ধি কে এক বোধ দীপ্ত স্পর্শ করতে পারেন।

    উত্তরমুছুন
  4. পলাতক সময় ও পাসপোর্ট কবিতা দুটিতে বক্তব্য জনিত এক মেদুর ভালোবাসা রয়েছে। পাঠ মগ্ন পাঠক মন কবির সেই উপলব্ধি কে এক বোধ দীপ্ত স্পর্শ করতে পারেন।

    উত্তরমুছুন