![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৪ |
আলোছায়া
আলোছায়ার নিরিখে প্রত্যক্ষ করো জীবনকে—
ফিফটি
ফিফটি কখনোই মিলবে না;
মিলতে
পারে না – তাকিয়ে দেখো ঋতুচক্রের দিকে –
দিবারাত্রি
কদাচিৎ সমান সমান,
একটা দিনেও
কখনো মেঘের ছায়া কখনো উজ্জ্বল সূর্যালোক …
এই অসমানুপাত
মেনে নিতে বাধ্য আমরা
আমাদের
প্রাত্যহিক জীবনে -
আলোর বরাদ্দ
কখনো বেশি, কখনো ছায়ার …
মা শুচঃ।
অবতার হয়ে আসা রাম বা কৃষ্ণের
পরিত্রাণ
মেলেনি এর থেকে,
আমরা তো
কোন ছার …
অকাল বসন্ত
রোবটের যান্ত্রিকতায় দিনাতিপাত
সকাল থেকে
রাত্রি,
তিনবেলার
উদর চিন্তা – তৈল তণ্ডুল –
দেওয়া
নেওয়া হিসাব নিকাশ –
ই-মাধ্যমে
যোগাযোগ, লেখাপড়া, রেডিয়োতে কিছু বিনোদন …
এভাবেই
চলে যাচ্ছে, চলে যাবে বলে অনুমান,
তবু তারি
মাঝে, কী আশ্চর্য,
অকাল বসন্তের
মতো নেমে আসে আবেগের স্রোত,
ভেসে ভেসে
যায়—
সময়ে কলম
ধরলে নেমে আসে দু-একটা কবিতা …
পদক্ষেপ
এক একটা কবিতা লেখা শেষ করে মনে হয়
এটা আগেরটার থেকে ভালো
হয়েছে;
পরম তৃপ্তি নিয়ে বন্ধ
করি খাতা, বারান্দায় যাই,
চোখ মেলি রাতের আকাশে
–
গণনাতীত তারারা সেখানে
তমসাকে বিদীর্ণ করতে চাইছে
নিজের সীমিত আলো নিয়ে;
একশ্চন্দ্র উজল জ্যোতিং
ন চ তারা গণৈরতিম –
কৈশোরে শেখা সংস্কৃত
শ্লোক আছড়ে পড়ে মগজে মননে …
তারাদের মতো সামান্য
প্রদীপ জ্বেলে নেমেছি তিমিরাভিসারে –
প্রতিটি অগ্রসর পদক্ষেপ
আনে কিছুটা সন্তুষ্টি,
মনে হয় আমার এই সদ্যোজাত
কবিতা
সেই যাত্রাপথের পুরোভাগে
আলোর দিশারি …

অপূর্ব এবং পরিপৃক্ত জীবনদর্শন!
উত্তরমুছুনতিনটি কবিতাই চমৎকার। টেনে রাখে শেষ লাইন অবধি, তারপরেও রেশ থেকে জয়...
উত্তরমুছুনকবিতা ও জীবন যখন কবির কাছে সমার্থক হয়ে ওঠে তখন কবি তাঁর জীবন ও সময় কে যে দার্শনিক বীক্ষনে উপলব্ধি করতে থাকেন তখনো তার অভ্যন্তরে সমূহ সন্ধানী পরাগে লেগে থাকে কবিতার আলো।
উত্তরমুছুনকবি উদয় চট্টোপাধ্যায় তাঁর তিনটি কবিতাতেই এই সত্যেকেই খনন করেছেন। বেশ ভাল লাগল।